পুঠিয়া পৌরসভায় কুপ খননেই সীমাবদ্ধ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ
পুঠিয়া সংবাদদাতা : রাজশাহীর পুঠিয়া পৌরসভার জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিশ্রুতি ছিল সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ। এরপর ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। ১০ বছর আগে কূপ খনন করা হলেও পানি পায়নি পৌরবাসী। পৌরবাসীদের প্রশ্ন, ‘একটি কূপ খননেই যদি ১০ বছর পার হয়ে যায় তবে পানি পাব কবে? সে পানি দিয়েই বা কী করব?’ তাদের অভিযোগ নিয়মিত সব পৌরকর পরিশোধ করেও তাদের ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নেই।
পৌরসভার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে পুঠিয়া সদর ও জিউপাড়া ইউপির অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয় পুঠিয়া পৌরসভা। বর্তমানে পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৩৩ জন। আর এই পৌরবাসীদের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য প্রায় ১০ বছর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের দক্ষিণ পাশে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এরপর ওই কূপ থেকে কখনোই পানি উত্তোলন করা হয়নি। বর্তমানে কূপটি অযত্ন-অবহেলায় পতিত অবস্থায় পড়ে আছে।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২০ বছরে ‘গ’ থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হলেও এখনো তার নিজস্ব ভবন নেই। জন্মলগ্ন থেকেই পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে ভাড়া বাড়িতে। তবে পৌরভবন নির্মাণে দু-তিনটি স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। তার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের দক্ষিণ পাশ ছিল প্রথম স্থানে। সে মোতাবেক ওখানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। বর্তমানে ওই স্থানে উপজেলা ভূমি অফিস নির্মাণকাজ চলছে। আর ওই কূপ ঘেঁষে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য কয়েক বছর আগে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে। কূপ খননের পর এই কাজের আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে নতুন করে পানি সরবরাহ কাজের বরাদ্দ এলে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভা এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ করতে বিগত দিনে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। আর এটি বাস্তবায়ন করে জনস্বাস্থ্য বিভাগের গ্রাউন্ড ওয়াটার ডিভিশন। সে সময় ওই কূপটি খনন করতে প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয় হয়। বর্তমানে সেখানে ভূমি অফিস নির্মাণ হলেও ওই কূপ থেকে আন্ডার গ্রাউন পাইপের মাধ্যমে এখনো পানি সরবরাহ করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র আল মামুন খান বলেন, ‘আমি নির্বাচিত নতুন মেয়র। আমার জানামতে পৌরসভা এখনো নাগরিকদের চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। তবে আশা করি নাগরিকরা পর্যায়ক্রমে সব সুবিধা পাবেন। আর যদ্দুর জানি, পানি সরবরাহের একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি অনুমোদন হয়েছে। তবে এখনো তার কোনো কাগজপত্র আমরা হাতে পাইনি। আশা করি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে পৌরবাসী বিশুদ্ধ পানির সুবিধার আওতায় আসবে।
