বাগমারায় জমিজমা জবর দখলের চেষ্টার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, সাবাইহাট : রাজশাহীর বাগমারায় জোরপূর্বক জমিজমা জবর দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে। স্থানীয় এবং কোর্টের মামলা সৃত্রে জানাগেছে, বোয়ালিয়া গ্রামের বীরেন্দ্রনাথ মন্ডলের পুত্র বিনয় কুমার পৈত্রিক এবং খরিদসূত্রে প্রাপ্ত জমিজমা দীর্ঘদিন ভোগদখলে রয়েছেন। খরিদসূত্রে প্রাপ্ত জমিজমা বিগত ১৯৮৭ সালে ক্রয় করেন। যার দলিল নং ২৭২৩/৮৭। নিয়মিত খাজনা পরিশোধ ও খারিজ করেছেন। তাঁর অংশে তিনি আম জাম, লিচু, কলা জমির রকম ভেদে নানা ফসল ফলিয়ে আসছেন। বেড়া-টাটি দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। হঠাৎ পতিপক্ষ একই গ্রামের মৃত রবীন্দ্রনাথের পুত্র সঞ্চিত কুমার (৩৫) গংরা দাবী করেন বিবাদমান জমিজমা তাদের। এছাড়াও জমি থেকে উচ্ছেদ করতে তারা নানা ধরনেন হুমকি-ধামকি দেয়। এই নিয়ে বিবাদ হলে চলতি বছর ১৮ জানুয়ারি স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সঠিক সুরাহা করা হয়। উভয় পক্ষের সম্মতিতে নিষ্পত্তি করা হয়। সেখানে গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শহিদুল ইসলামের সিল-স্বাক্ষর এবং গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম শেখ, শামসুদ্দিন, সাইদুর রহমান সহ আরও অনেকে স্বাক্ষর করেন এবং উপস্থিত ছিলেন। আপোষের কপিতে স্বাক্ষর করেও, গত ৩ ফোব্রুয়ারি বিবাদী সঞ্চিত কুমার গংরা পুনরায় জমিদখল, গাছপালা কর্তন ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখেন।
ভুক্তভোগী বিনয় কুমার জানান, আমার ভোগদলীয় ২৪৮ নং খতিয়ানে ৯১১ দাগে ১৫ শতক, ৯১২ নং দাগে ৯.৫ শতক এবং ১৬০ নং খতিয়ানের ৯০৬ দাগে ২৮.৫ শতক, ৯০৭ দাগে ৪.৫ শতক, ৯০৯ দাগে ৮.২৫ শতক এছাড়াও ক্রয়কৃত জমিজমা সহ প্রায় ৬৫.৭৫ শতাংশ জমিতে প্রতিপক্ষের কুনজর পড়ে। তারা জমিগুলো জবর দখল নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বিনয় কুমার জানান, নিরুপায় হয়ে তিনি রাজশাহী কোর্টে একই গ্রামের রবীন্দ্রনাথের পুত্র সঞ্জিত কুমার, পার্শ্ববর্তী মান্দা উপজেলার বাথইল গ্রামের মৃত সুরেনের পুত্র তপন কুমার, তপনের পুত্র মিঠন কুমারকে বিবাদী করে ৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। কাগজপত্র দেখে মহামান্য বিচারক ৪৪ ধারা জারি করত: বাগমারা থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সূত্র জানায়, একই বিবাদমান জমিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ সঞ্চিত কুমার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। তখন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বিনয়কে তলফ করলে, বিনয় কুমার জানায়, কোর্টে মামলা থাকায় পরিষদে হাজিরা দিতে (মৌখিক) অপারগতা প্রকাশ করুন। এতে গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবির ক্ষিপ্ত হন এবং নানা রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সে কারণে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের নামে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক আরেকটি মামল করেন বিনয় কুমার মন্ডল। বিনয় কুমার জানান, মামলা করায় আমাকে নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
