২৩ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

সিলেটে সৎ মা ও ভাই-বোনকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়
সিলেটে সৎ মা ও ভাই-বোনকে কুপিয়ে হত্যা
বিজ্ঞাপন

এফএনএস : সিলেটে সৎ মা, ভাই-বোনকে হত্যা করেছে আবাদ হোসেন (৩০) নামে এক যুবক। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মহানগরের শাহপরান (রহ.) থানার বিআইডিসি এলাকার মীর মহল্লায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। শাহপরাণ (রহ.) থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় সৎ ছেলে আবাদ হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি রামদা ও ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বসতঘরে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে রুবিয়া বেগম (৩০), মাহা বেগম (৯) ও তাহসান আহমদে (৭) মারাত্মক জখম করে সৎ ছেলে আবাদ হোসেন। এতে ঘটনাস্থলে মা ও বোন মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাহসান আহমদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করালে গতকাল শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

সৈয়দ আনিসুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবাদ জানিয়েছে, তার নিজের মা বিয়ানীবাজারে থাকেন। তার বাবা সৎ মাকে নিয়ে শাহপরাণ এলাকায় থাকেন। কয়েক মাস আগে দোকান দেখাশোনার জন্য বাবা তাকে এখানে আনেন। কিন্তু বিষয়টি তার সৎ মা পছন্দ করেন নি। কয়েক দিন ধরে সৎ মায়ের আচরণে ক্ষিপ্ত হয়েই সে তাদের ওপর হামলা চালান। মা-মেয়ে ও ছেলের মরদেহের সুরতহাল করতে গিয়ে ঘাবড়ে যান দুই পুলিশ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সারোয়ার হোসেন ও রিপটন পুরকায়স্থ। নিহতদের শরীদের ছোট-বড় অসংখ্য ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান।

নিহত রুবিয়া বেগমের বাম হাতের কব্জি খন্তি দিয়ে আলাদা করার চেষ্টা করা হয়। একইভাবে শিশু দু’টিকে ছুরিকাঘাত ও খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও ধারণা পুলিশ ও হাসপাতালের চিকিৎসকদের। এসআই সারোয়ার হোসেন বলেন, সুরতহালে তিনজনের শরীরে অন্তত শতাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ওসি আনিসুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আহবাব জানান, তার মাকে নিয়ে তিনি বিয়ানীবাজার গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। সৎ মাকে নিয়ে বিআইডিসি মীর মহল্লায় থাকতেন তার বাবা। তাদের খোঁজ তেমন নিতেন না।

যে কারণে ৪/৫ মাস আগে শহরে এসে বাবার সঙ্গে ব্যবসায় দেখাশোনার পাশাপাশি বাসায় অবস্থান করেন। সেই ক্ষোভ থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান এবং সৎ মায়ের পরিবার নিশ্চিহ্ন করে দেন। সর্বশেষ চারদিন আগে তার সঙ্গে বোন রুবিয়া বেগমের কথা হয়। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ভাগিনা-ভাগ্নিকে দেখতে আসবি না? বলেছিলেন শুক্র অথবা শনিবার আসবো। কিন্তু বোন, ভাগিনা-ভাগ্নির সঙ্গে দেখা হলো ঠিকই, তবে বাসায় নয়, হাসপাতাল মর্গে। তিনি বলেন, আমার স্কুল পড়ুয়া ভাগ্নি (৭), চার বছরের ভাগিনা ও বোনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাকারী কঠিন শাস্তি স্বরূপ

ফাঁসি দাবি জানাচ্ছি। নিহতের ছোট বোনের স্বামী ফয়েজ উদ্দিন বলেন, চারদিন আগেও রুবিয়া আপা আমাকে ফোন করে রাতে সাবধানে চলাফেরা করতে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন। কত শত্রু আছে, সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নৃশংসতার শিকার হলেন। এদিকে গতকাল শুক্রবার ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে হত্যার আলামত সংগ্রহ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) টিম। এ ছাড়া এদিন বিকেল পর্যন্ত নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন