৬ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিএনপির ৪২২ নেতাকর্মী নিহত : ফখরুল

প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: জাতীয়
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিএনপির ৪২২ নেতাকর্মী নিহত : ফখরুল
বিজ্ঞাপন

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কমপক্ষে বিএনপির ৪২২ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে গণঅভ্যুত্থানে সর্বশক্তি দিয়ে রাজপথে নেমে আসে বিএনপি ও এর সব অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল নয়, বিএনপির উদ্দেশ্য ছিল গণঅভ্যুত্থানে সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখে ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির যে ৬০ লাখ সদস্যের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, তার সুবিশাল অংশ সাধারণ মানুষের পাশে থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রের ষড়যন্ত্র ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে রুখে দাঁড়ায়। এতে যার-যার অবস্থান থেকে জনগণের কাতারে নেমে আসে বিএনপি ও সমমনা সব রাজনৈতিক দল। ‘গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথযাত্রায় বিএনপির ভূমিকা, অবদান ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ (গতকাল রোববার) আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের জনগণকে বারবার ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে। এ দেশের স্বাধীনতাকে স্বৈরতন্ত্র যখনই গ্রাস করেছে, প্রতিবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে বিএনপি। তিনি উল্লেখ করেন, ১৬ বছরের স্বৈরাচারী দুঃশাসনকে চূর্ণ করে গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জনগণ আবারও মুক্তির স্বাদ পায়, গণতন্ত্রের পথ সুগম করে। অসংখ্য ব্যক্তি ও পরিবার রয়েছে, বছরের পর বছর ধরে যাদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই গণহত্যায় ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে শহীদ হন ৮৭৫ জন। এর মাঝে কমপক্ষে ৪২২ জন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দেশজুড়ে শহীদ হওয়া সব শ্রেণি-পেশা মানুষগুলোর এ বিশাল অংশ যে বিএনপিরই নেতাকর্মী- এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রামের অনিবার্য ফল। পোশাকশ্রমিক কিংবা রিকশাচালক; পাবলিক কিংবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র; বাম কিংবা ডান আদর্শের অনুসারী; সব মত ও পথের রাজনৈতিক কিংবা অরাজনৈতিক ব্যক্তি হতাহতের পরিচয় যাই হোক না কেন, প্রতিটি প্রাণের মূল্য ও রক্তের মর্যাদা সমান। সমান গুরুত্বের সঙ্গেই প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের তালিকা তৈরি ও সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনার পদত্যাগের জন্য যে জাতীয় ঐকমত্য আমরা দেখতে পাই, তা কিন্তু হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। এটি অবৈধ সরকারের অত্যাচার-অবিচার, দুর্নীতি-দুঃশাসন, বঞ্চনা-অবজ্ঞা এবং শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, যোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।
আবু সাঈদের মৃত্যুর দিন ছাত্রদলের ওয়াসিমও প্রাণ হারান: মির্জা ফখরুল জানান, ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যা করে পুলিশ। একই দিন চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম আকরামকেও হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডগুলোতে সমগ্র বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, বেগবান হয় আন্দোলন। তিনি বলেন, ১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরায় আন্দোলনে পানি বিতরণ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ছাত্র মীর মুগ্ধ। একই দিন যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রদল নেতা ইরফান ভূঁইয়া ও সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রদল নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ জাবির। তিনি আরও বলেন, ১৭ জুলাই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডিবি পুলিশের অভিযানের নামে মঞ্চায়িত হয় সাজানো নাটক, বলপূর্বক বন্ধ করা হয় কার্যালয়ের কার্যক্রম। বাসায়-বাসায় অভিযান চালিয়ে, বিএনপির অর্ধশত প্রথম সারির নেতাসহ ৩ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এবং কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী, জহিরউদ্দিন স্বপন, শহীদ উদ্দিন এ্যানী, শিমুল বিশ্বাস, আমান উল্লাহ আমান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ডা. রফিকুল ইসলাম, নাসিরউদ্দিন অসীম, সাইফুল ইসলাম নীরব, আমিনুল হক, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মীর নেওয়াজ, নিপুণ রায় চৌধুরী, ডা. শাখাওয়াত শায়ন্তসহ আরও অনেক সক্রিয় নেতা। ফখরুলের মন্তব্য, ওই গণগ্রেপ্তার প্রমাণ করে, স্বৈরাচারের পতন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ বরাবরের মতোই বিএনপিকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে। আন্দোলনকে দমন করতে নিপীড়নের মাত্রা বাড়ায়। নিপীড়ন মোকাবিলা করেই বিএনপি নিরবচ্ছিন্নভাবে রাজপথে ছিল। বিশেষত, আগস্টের ৪ ও ৫ তারিখে জীবন দেন ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান রাসেল, জালাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ হোসেন, সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা রাসেল মাহমুদ, যশোর জেলা ছাত্রদল নেতা সাকিবুল হাসান মাহি প্রমুখ। এভাবে শুধু ছাত্রদল থেকেই কমপক্ষে ১১৩ জন প্রাণ হারান এই অভ্যুত্থানে।
দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বিএনপি শতাধিক নেতাকর্মী: বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাভারের আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যার পর, লাশগুলো ভ্যানে স্তূপ করে গানপাউডার দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে পুলিশ, যার মধ্যে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন সজলও ছিলেন। ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে এ ধরনের বর্বরতা কেবল কিছু জীবনকে নিঃশেষ করা নয় বরং মানবতার ওপর একটি গভীর আঘাত। শুধু তাই নয়, গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী দৃষ্টিশক্তি হারান। এর মধ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলাতেই তুষার, হারেস, শাহজালালসহ ছয় জন ছিলেন। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে সারা দেশের এক দফা দাবি আর বিএনপির ত্যাগের পটভূমি সৃষ্টি হয়েছে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। রাজপথে এ পুরোটা সময় গুম-খুন, হামলা-মামলা, দমন-দুর্বৃত্তায়নের শিকার হয়েও জনগণের প্রতিবাদের প্রতিনিধি হিসেবে সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে বিএনপি। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক হয়রানির অংশ হিসেবে গায়েবি মামলায় সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, হত্যা, নাশকতা, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতিসহ নানা মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়। প্রহসনের মামলা ও সাজানো রায়ের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আটক করে শেখ হাসিনা। অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়ার বাড়ি কেড়ে নিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে রেখে প্রাপ্য চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয় তাকে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে জুলুম-অবিচারের মাঝেও বিএনপির নেতাকর্মীরা মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকেন। গণতন্ত্রের পক্ষের সব শক্তির বলিষ্ঠ ভূমিকায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। বাংলাদেশের জনগণের এ বিজয় শুধু দেশের মালিকানা ফিরে পাওয়ার বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ৫০টিরও বেশি বানোয়াট মামলা করা হয়। তার নির্বাসিত জীবনে বাকস্বাধীনতা হরণের পাশাপাশি অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত করা হয় তার চিকিৎসক স্ত্রী ড. জুবাইদা রহমানকেও। একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ার পরও ড. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় পাতানো সাজা ঘোষণা করা হয়। মহাসচিবের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ৯৩টি মামলা; মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সব সদস্যের বিরুদ্ধে গণহারে গায়েবি মামলা; সালাহউদ্দিন আহমেদকে গুম করে ভারতের মেঘালয়ে নিয়ে যাওয়া; বিগত ১৭ বছরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ অসংখ্য নেতাকর্মী বিভিন্ন মেয়াদে কারাবরণ করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
এক নেতার বিরুদ্ধে ৪৫১টি মামলা: বিএনপি মহাসচিব জানান, হাজার-হাজার বিএনপি নেতা আছেন, যাদের একেকজনের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দেওয়া হয়। মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এসএম জাহাঙ্গীর, রাজীব আহসানের মতো অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে দুই শাতাধিক মামলা। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, রফিকুল ইসলাম মজনু, সাইফুল আলম নীরব, ইসহাক সরকারসহ অনেকের বিরুদ্ধে ৩০০ এরও বেশি মামলা রয়েছে। হাবিব-উন-নবি সোহেলের বিরুদ্ধে রয়েছে রেকর্ড ৪৫১টি মামলা। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে এমন অবিচার বিশ্বের অন্য কোথাও হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। গত এক দশক ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবস বিভিন্ন আদালতে হাজিরা দিয়ে এক অস্বাভাবিক জীবন কাটিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির নবীন কর্মী, যারা এখনও কোনো পদে আসেনি, তারাও রাজনৈতিক জিঘাংসার শিকার হয়েছেন। এসব উদীয়মান নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বানোয়াট মামলা দায়ের করে তাদের শিক্ষা ও কর্মজীবনকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়েছে, নির্যাতন করেছে।
গুম হয়েছেন প্রায় ৭০০: মির্জা ফখরুল জানান, অস্বাভাবিক নিপীড়নের শিকার হয়ে ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হিরু, চৌধুরী আলম, হুমায়ুন পারভেজ, সাজেদুল ইসলাম সুমন, জাকিরসহ কেবল বিএনপির ৪২৩ নেতাকর্মী এবং সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ মিলিয়ে প্রায় ৭০০ জন গুম হয়েছেন। তিনি বলেন, রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনিকে পুলিশ ১৫টি গুলি করে হত্যা করে। চট্টগ্রামে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলমের চোখ, হাত-পা বাঁধা লাশ পাওয়া যায় কর্ণফুলী নদীর তীরে। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের সফল সংগঠকদের রাতের আঁধারে যেভাবে হত্যা করা হয়, তা বর্বরতার কালো অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাবে। তিনি আরও বলেন, কুমিল্লায় ছাত্রদল নেতা পারভেজ হোসেনকে হত্যা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আর ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুলিতে শেরপুরে পাকুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মাহবুব আলম নিহত হন। কারাবন্দি নাসিরুদ্দিন পিন্টু ও বিএম বাকির হোসেনকেও হত্যা করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রংপুরের লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম এবং অন্তত আরও ২০ জন বিএনপি নেতাকে নির্যাতনের মাধ্যমে কারাগারে খুন করা হন। ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হন বিএনপির ১ হাজার ৫৫১ নেতাকর্মী। তাদের জন্য যেকোনও মূল্যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়জুড়েই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মধ্যযুগীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। গাজীপুরের বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আলী আজম, যিনি মায়ের জানাজায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন, তাকে হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি বেঁধে ইমামতি করতে বাধ্য করা হয়। পটুয়াখালীর ছাত্রদল নেতা নাজমুল মৃধাকে বাবার জানাজায় ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে অংশগ্রহণ করানো হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে যশোর যুবদলের সহসভাপতি আমিনুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরে মেঝেতে কাতরাচ্ছেন- এ দৃশ্য আজও জাতির বিবেককে তাড়িয়ে বেড়ায়। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে তুলে নিয়ে তার বাম পায়ে শটগান ঠেকিয়ে গুলি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণে পুরো পা কেটে ফেলতে হয়। ফ্যাসিবাদের দোসরদের অজস্র নৃশংসতা বিএনপির তৃণমূলের কর্মীদের এভাবেই পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছে, উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি দাবি করেন, শুধু বিএনপির রাজনীতি করার অপরাধে কিশোরগঞ্জে পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাককে না পেয়ে পুলিশ তার যমজ দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। সিরাজগঞ্জে ছাত্রদল নেতা হারুনর রশিদকে না পেয়ে পুলিশ তার অসুস্থ বাবাকে তুলে নিয়ে যায়। পঞ্চগড়ে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবুকে না পেয়ে পুলিশ তার পরিবারের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে। নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বিএনপির পক্ষে ভোট দেওয়ায় আওয়ামী লীগকর্মীদের হাতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যুবদল সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীরের বাড়িতে মুখোশধারীদের বোমা বিস্ফোরণ ও সশস্ত্র মহড়া, খুলনায় ফুলতলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল বাশারের বাড়িতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বোমা হামলা, কুমিল্লায় ১৯৬০ সাল থেকে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মজিবুর রহমান ফরহাদের মালিকানাধীন পারিবারিক দীঘির দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের মৎস্যসম্পদ লোপাট, চাঁদপুরে ঢাকা উত্তর ওলামা দলের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিনের পৈতৃক সম্পত্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের অবৈধ দখল- দেশজুড়ে এমন লাখ-লাখ হামলা, দখল ও লুটতরাজের ঘটনা ঘটেছে। এভাবেই ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দায় চুকেছে বিএনপির তৃণমূল। বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের বিচারবহির্ভূত হত্যা, গায়েবি মামলা, ও নিপীড়ন দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর ফলস্বরূপ জাতিসংঘসহ স্বীকৃত মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা নীতির মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ায়, বলেন ফখরুল। সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, সালাউদ্দিন আহমেদ।-এফএনএস

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন