রাজশাহী পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালকের কর্মব্যস্ততা
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের নামের সাথে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ভোগান্তি আর দালাল ও মধ্যস্ততাকারিদের জটিলতায় পরিপূর্ণ ছিল বলে অনেক অভিযোগ আছে পূবর্বর্তী সময়গুলোতে। যার কারনে, ঐসময়গুলোতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় পত্রপত্রিকা ছাড়াও জাতীয় পত্রিকার পাতায় একাধিকবার শিরোনাম হয়েছিল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের বিভিন্ন কার্যকলাপ সংশ্লিষ্ট বিষয়। কিন্তু, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ রবিবার বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে উপ-পরিচালক হিসেবে খন্দকার কামাল হোসেন যোগদান করার পর থেকে খুব অল্প সময়ের ভেতরেই পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে পূর্ববর্তী সকল প্রকার জঞ্জাল দূরীভূত করার পাশাপাশি দালালমুক্ত নিরঙ্কুশ পরিবেশ আর ভোগান্তি কমিয়ে সেবারমানে অগ্রগতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বর্তমান উপ-পরিচালক। প্রত্যেক কর্মকর্তা আর কর্মচারিদের দেওয়া সরকারি দায়িত্ব আর সঠিক সময়ে নিয়মিত কাজ করার জন্য প্রত্যেককে তাগাদা দেওয়া ছাড়াও নিজের রুটিং মাফিক কাজ নিয়মিত করার প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে সরেজমিনে গিয়ে।
কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে গতকাল সোমবার সকাল এগারোটায় বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে গিয়ে দেখাগেছে, অফিসের প্রতিটি ফ্লোর আর কামরা ছাড়াও অফিসের ভেতরে ও বাইরে একজন ভদ্রলোক হেটে হেটে পায়চারি করছেন। পাসপোর্ট অফিসে আসা সেবাগ্রহীতাদের সাথে নিজে গিয়ে কথা বলছেন। কারো কোন সমস্যা থাকলে তিনি উক্ত সেবাগ্রহীতার কাগজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নিয়ে সংশ্লিষ্ট শাখাতে গিয়ে জানতে চাইছেন কেনো এই সেবাগ্রহীতার কাজটি হচ্ছেনা। কি করলে একজন সেবাগ্রহীতা দ্রুত উনার কাঙ্খিত সেবা পাবেন সেটির প্রতিও সকলকে বিশেষভাবে দিকনির্দেশনা দেন তিনি। সকলের ভোগান্তি হ্রাস করতে সেখানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও স্টাফদেরকে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার জন্য বারবার তাগাদা দিতে দেখাগেছে।
উপ-পরিচালকের পেছনে পেছনে বেশকয়েকবার ঘুড়াঘুড়ি করতে দেখে তিনি পত্রিকার প্রতিনিধিকে জিজ্ঞাসা করেন আপনি কে; কেনো আপনি আমাকে অনুসরণ করছেন; কেনইবা আপনি আমার ছবি তুললেন? উনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরে তিনি পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন, আমি এখানে আসার আগে বরিশালে দায়িত্ব পালন করেছি। বরিশালে দায়িত্বরতবস্থায় সেখানকার পরিবেশ ও সেবারমানের উন্নয়নকল্পে আমি বেশকিছু পজিটিভ কাজ করেছি। যার কারণে বরিশালে পাসপোর্ট অফিসে সেবাগ্রহীতারা তেমন কোন ভোগান্তির মধ্যে পরতো না। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এখানে যোগদান করার পরের দুইদিনেই অনুধাবন করতে পেরেছি এখানে বেশকিছু সমস্যা আছে।
একাধিক সমস্যার মধ্যে দালাল চক্রের দৌড়াৎ এখানে অনেক বেশি। যার কারণে, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা প্রায়শই পড়তেন ভোগান্তির মধ্যে। এছাড়াও কোন কাজের জন্য কোন কাগজগুলো প্রয়োজন সেটির বিষয়েও সেবাগ্রহীতাদের স্বচ্ছ ও সহজভাবে কেউ অবগত করতো না নিজেদের পকেট ভারি করার অসদ অভিপ্রায়ে। তাই, পরের দিনগুলো থেকে আমি সরকারি রুটিং অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ও দুপুরে একাধিকবার সমস্ত পাসপোর্ট অফিসের প্রতিটি ফ্লোর, কামড়াসহ এর আশেপাশে হেঁটে হেঁটে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
পূর্ববর্তী সময়গুলোতে অফিস যেমনই চলুক না কেনো। সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি দ্রুতসেবা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান উপ-পরিচালক খন্দকার কামাল হোসেন বলে জানান পত্রিকার প্রতিনিধিকে। সেবাগ্রহীতাদের সেবা প্রদানের বিষয়টি যেনো জটিলতাযুক্ত আর দালাল নির্ভর না হয় সেটি থেকে পাসপোর্ট অফিসকে মুক্ত করার পাশাপাশি অফিসের ভেতর ও বাইরের পরিবেশ যেনো রাজশাহী শহরের মতোই নিট ও ক্লিন হয় সেটির প্রতিও তিনি সুদৃষ্টি দিয়েছেন বলে জানান তিনি। রাজশাহী শহরের পরিচ্ছন্নতা আর সাজানো গোছানো পরিবেশ দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন বলেও জানান উপ-পরিচালক কামাল হোসেন।
