বাগমারায় এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার ১০নং মাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত ছাড়াও সরকারি বরাদ্দের গম, চাল, টিন, ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের ভাতার টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নবাসির পক্ষ থেকে শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গত ১৫-০২-২০২১ ইং তারিখে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। উক্ত লিখিত অভিযোগ পত্রটির অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দুর্নীতি কমিশন ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের প্রেরণ করেন অভিযোগকারী। সরকারি অর্থ লোপাট, বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গহ্রণের অনুরোধ জানানো হয় অভিযোগ পত্রের মাধ্যমে। ১০ নং মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকানের বিরুদ্ধে উপরোক্ত অভিযোগগুলো উঠে এসেছে অভিযোগকারীর অভিযোগ পত্রের মাধ্যমে।
অভিযোগপত্রের মাধ্যমে জানা গেছে যে, ১০নং মাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকবর আলী বহিষ্কৃত হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পরিষদের কোষাগারে থাকা সরকারি অর্থের ‘নয়ছয়’ করেন আসলাম আলী। আকবর আলী চেয়ারম্যানের রেখে যাওয়া সরকারি অর্থ থেকে তিন লাখ টাকা আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে আসলামের বিরুদ্ধে। আকবর আলী বহিষ্কৃত হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আসলাম আলী আসকান দায়িত্বে ছিলেন প্রায় দুই বছর। এরপর পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন ইসমাইল হোসেন। তিনি পাঁচ বছর দায়িত্বে থাকার পর পূর্বের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসলাম আলী নির্বাচিত হন। পরিষদের কোষাগারে ইসমাইল হোসেনের রেখে যাওয়া সরকারি অর্থ থেকে পরবর্তীতে আবারো দায়িত্ব নেবার পর আসলাম আলী সেখান থেকেও প্রায় পাঁচ লাখ অর্থ লোপাট করেন বলেও লিখিত অভিযোগে উঠে এসেছে।
চেয়ারম্যানের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি পরবর্তী পাঁচ বছরের মেয়াদান্তে আরো অনেক দুর্নীতি ও অর্থ লোপাটের মতো বেআইনী কাজ করেছেন বলেও অভিযোগে প্রমাণ। এছাড়াও, হতদরিদ্রদের জন্য দেওয়া সরকারি চাল ও গমের বরাদ্দ থেকেও প্রতিবছরে ১৫০ টন পণ্যদ্রব্য আত্মসাত করার অভিযোগ ছাড়াও শিকদারি হাট ও বাজার, ইউনিয়ন পরিষদের জমি ও সরকারি ড্রেন সংস্কারের নামে আট লাখ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আসকাল আলীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও, অত্র ইউনিয়ন সংলগ্ন সরকারি খাস জমি পত্তন দেওয়ার নামে ৩০০টি টিন সেটের ঘর নির্মাণ করে সেগুলোর লীজ বাবদ দেড় থেকে দুই লাখ নগদ টাকা নিয়েও অর্থগুলো সরকারি খাতে জমা না দিয়ে চেয়ারম্যান নিজের পকেট ভারি করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অত্র দোকানঘর গুলোর মাসিক ভাড়ার টাকাও তিনি সরকারি তহবিলে জমা করেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও অভিযোগপত্রের মাধ্যমে আরো জানাগেছে যে, সরকারিভাবে দেওয়া সরকারি কৃষি উপকরণ নিয়মানুযায়ী লটারির মাধ্যমে বিলিবন্টন বা বিতরণ না করে লোক দেখানো কাজের মতো ব্যক্তিগতভাবে পকেট কমিটির মাধ্যমে নিজের পকেট ভারি করার নিমিত্তে মোটা অংকে সেগুলো বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সরকারি বরাদ্দকৃত ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ড লটারীর মাধ্যমে না করে সেখানেও তিনি স্বজনপ্রীতি আর অর্থের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন নিজের পকেট ভারি করার জন্য বলেও অভিযোগ আছে।
এমন আরো অনেক অনিয়ম আর দূর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অভিযোগের পাল্লা ভারি করেছেন বিগত সাত বছরে। অভিযোগের তথ্যানুযায়ী তিনি এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়গুলোর সত্যতা যাচাইপূর্বক অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেন অত্র ইউনিয়নের পক্ষে অভিযোগকারী।
