চাঁদা না দেওয়ায় রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ অবস্থায় যারা চাঁদা দাবি করেছেন তাদের গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম আবদুর রাফেল। তিনি জানান, রাজশাহী মহানগরীর পাউবোর নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা আদালতে উপস্থাপন করার পর চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার ও কি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করার জন্য বলেছেন উচ্চ আদালত। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া ৪ জুন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করার পর মঙ্গলবার (২৮ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি শাহেদ নুর উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে আদালতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘চাঁদা না দেওয়ায় বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার ম্যুরাল নির্মাণকাজ বন্ধ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. অজি উল্ল্যাহ্। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বি এম আবদুর রাফেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বিনয় কুমার ঘোষ, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ.টি.এম. আমিনুর রহমান (মিলন) ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল লাইলা রানী শাহ্। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চাঁদা না পেয়ে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল নির্মাণের কাজ সন্ত্রাসীরা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে ঠিকাদার কাজ করতে পারছেন না। এ নিয়ে পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। রোববার রাতে পাউবো রাজশাহী পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুকেশ কুমার নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় এই জিডি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রোববার দুপুরে সন্ত্রাসী জনি, রফিক ও মোস্তাকের নেতৃত্বে ২০ জনের একটি দল পাউবোর অফিস চত্বরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঠিকাদার ও তদারকি প্রকৌশলীকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে এবং কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। সন্ত্রাসীরা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রেখে চলে যেতে বলে। তখন শ্রমিকরা পালিয়ে যান। সোমবারও (২৭মে) শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। ম্যুরাল নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। রাজশাহী পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ম্যুরাল নির্মাণের কাজটি করছে রাজশাহীর মেসার্স খন্দকার কনস্ট্রাকশন। কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি মো. পলাশ জানান, নগরীর বিহারি কলোনি, শালবাগান, উপশহর ও সপুরা এলাকার একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্যাং কয়েক দিন আগে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনদিনের মধ্যে চাঁদার টাকা পৌঁছে দিতে বলেছিল সন্ত্রাসীরা। রাজশাহী পাউবোর একজন প্রকৌশল কর্মকর্তা জানান, রোববার সন্ত্রাসীরা কর্মকর্তাদের কক্ষে ঢুকে পাউবো ভবন জ¦ালিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়ে গেছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে কাজ শুরু করতে পারছেন না ঠিকাদার। পাউবোর একাধিক ঠিকাদার অভিযোগে জানান, পাউবোর বিভাগীয় কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করা এই সন্ত্রাসী দলের অত্যাচারে সারাবছর অতিষ্ঠ থাকেন কর্মকর্তারা। রেহাই পান না ঠিকাদাররাও। পাউবো কার্যালয়ের চত্বরে ঢুকে প্রকাশ্যে মাদকের আসর বসায় তারা। পাউবোর রাজশাহী ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহাফুজুল আলম লোটন বলেন, সন্ত্রাসীরা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গিয়ে চাঁদা দাবি করেছে। এদিকে ম্যুরাল নির্মাণকাজ যারা বন্ধ করে দিয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ-সদস্য অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা। তিনি বলেন, বিষয়টা আমি শুনেছি। জঘন্যতম কাজ করেছে তারা। আমি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছি পুলিশকে। বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, কারা কাজ বন্ধ করেছে সেটা দেখা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।-এফএনএস