স্টাফ রিপোর্টার : রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ সালে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদারের সময় ঠিকাদারের মাধ্যমে পিপিপি পদ্ধতিতে নগরীতে নির্মাণ হয় বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ভবন। নিয়মানুযায়ী দ্বিতীয় পক্ষ অর্থাৎ ঠিকাদার নিজ অর্থায়নে আরডিএ কর্তৃক সরকারিভাবে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেন। বিনিময়ে ঠিকাদার এককালীন পান সরকারিভাবে নির্ধারিত ওই ভবনের বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা দোকানগুলোর সালামির অর্থ। অন্যদিকে, আরডিএ কর্তৃপক্ষ পাচ্ছেন প্রতি স্কয়ার ফিট হিসেবে ভাড়া।
সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে একযুগ আগে রাজশাহী নগরীর ৯টি স্থানে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। সরকারি রাজস্ব আনয়নের ক্ষেত্রে যার অধিকাংশই পূর্ণতা পায়নি এখন অবদি। কোন মার্কেটের অর্ধাংশই পড়ে আছে অব্যবহৃত হিসেবে। আবার কোনটা বাণিজ্যিকভাবে যাত্রাই শুরু করতে পারেনি। বেশ কয়েকটির কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বছরের পর বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে নির্মাণ কাজ। অন্যগুলোর মতো এই চরম দূর্দশার আবর্তে পতিত হয়ে পড়ে আছে সাহেব বাজার খাঁচা মার্কেট। নির্মাণকাল যুগ পেরিয়ে গেলেও ৬২ হাজার ৮৫৮ বর্গফুট আয়তনের বিশাল মার্কেটটির অর্ধাশ এখনো উপযোগী হয়ে উঠতে পারেনি ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য বলে মন্তব্য ব্যবসায়ী ও দোকান বরাদ্দ নেয়া ব্যক্তিদের। কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর খামখেয়াপনার জন্যই এমন দূরবস্থার কারণ বলে মন্তব্য স্থানীয় ব্যবসায়িদের।

আরডিএ সূত্র জানায়, সিদ্ধান্তনুযায়ী নির্মিত ৯টি বাণিজ্যিক ভবনের মধ্যে অন্যতম হলো সাহেব বাজার খাঁচা মার্কেট (দক্ষিণ ছাউনি মার্কেট)। এই বাণিজ্যিক ভবনটি ২০০৯ সালে আরডিএ কর্তৃপক্ষ ৭তলা বিশিষ্ট দক্ষিণ ছাউনি মার্কেট নির্মাণের অনুমতি দেয়। অবশেষে মার্কেটটি নির্মাণ হয় ৪তলা (অসম্পূর্ণ) পর্যন্ত। মার্কেটটি নির্মাণ করেন ঠিকাদার ইফতেখার হাফিজ খান। কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর খামখেয়ালীপনার কারণে মার্কেটটির উপরের ফ্লোরগুলো এখন পরিত্যক্তের পথেই বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। মার্কেটটির নিচতলা ও দ্বিতীয়তলায় কোনরকম ব্যবসা চলমান থাকলেও তৃতীয়তলাটি প্রায় অন্ধকারাচ্ছন্ন। তৃতীয়তলার সর্বদক্ষিণের অবস্থা অবিশ^াস্য। ময়লা আবর্জনা আর অবব্যহৃত জিনিস ফেঁলে ফ্লোরটির অধিকাংশ স্থান পরিণত করা হয়েছে ভাড়ারে। সিড়ির উপরে নোংড়া আবর্জনা ফেলে সেটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সুযোগ পেলে সেখানে মলত্যাগ করতেও দ্বিধাবোধ করেন না অনেকেই বলে জানান নিচতলার ব্যবসায়ীরা। ব্যবহার অনুপোযোগী হবার কারণে তৃতীয়তলাটি এখন মাদকের অভয়ারন্যের পরিণত হয়েছে। আরডিএ কর্তৃক প্রথম ও দ্বিতীয় তলার মতো তৃতীয়তলাই নেই কোন গার্ডের ব্যবস্থা। দক্ষিণ আর পশি^ম দিকের বেশ কিছু অংশদিকে অনায়াসেই প্রবেশ করতে পারে যে কেউ। তাই সার্বিক নিরাপত্তাহীনতা, অপরিচ্ছন্নতা আর অসম্পূর্ণ নির্মাণ অবকাঠামোর জন্য সেখানে ব্যবসা করা বা গোডাউন ভাড়া নেয়াটাকে চরম ঝুঁকি বলেই আখ্যায়িত করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
জানতে চাইলে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরডিএ কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা অকোপটে স্বীকার করে বলেন, এটা তো আমাদের বিষয়না। বিষয়টা প্রকেশৗলশীদের। কাজ কেনো অসম্পূর্ণ রেখে কাজ বন্ধ করে দেয়া হলো সেটির বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তারাই বলতে পারবেন। তবে, এটাও ঠিক যে, এই অসম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভবনটি নির্মানের পর ঠিকাদার প্রতিটি দোকানের সালামী বাবদ যে অর্থ পেয়েছে তাতে করে উনাদের আর্থিক ক্ষতি হবার সম্ভাবন নেই। কিন্তু ভোগান্তিতে পড়েছে বরাদ্দগ্রহীতারা। অন্যদিকে, অসম্পূর্ণ কাজের জন্য আরডিএ কর্তৃপক্ষ কাঙ্খিত ভাড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নকশানুযায়ী (৭তম তলা, ১ লক্ষ ১০ হাজার বর্গফুট ) এই অসম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ভবনটির কাজ পূণরায় শুরু হবার কোন সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ২০১৪ সাল থেকে আরডিএ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হয়তো অতিশীঘ্রই এটি আলোরমুখ দেখবে বলে আমরাও আশাবাদী।
বরাদ্দ নেয়া দোকানগুলো নিয়ে অধিকাংশরাই পড়েছেন বিপাকে। নির্মাণ কাজ শেষে ২০১১ সালে মার্কেটের দোকানগুলো বরাদ্দ দেয়া হলেও দীর্ঘ সময় ধরে বরাদ্দ নেয়া দোকানগুলোতে (তৃতীয় তলা) ব্যবসার ছোয়া লাগছেনা নানা প্রতিকূলতার কারণে। মার্কেটটির সিঁড়িগুলোর মতোই অসম্পূর্ণ রয়েছে ভবনের বাইরের অংশটি। ভবনের বাইরের অংশের দেয়ালে প্লাস্টার না করাতে সেখানে জন্ম নিয়েছে বনজ উদ্ভিদ (শিকড়ের শক্তি বিবেচনায় বট ও পাইকর গাছ ভবনের দেয়ালের জন্য ক্ষতিকর)। ইতোমধ্যেই শেকড়ের শক্তির কাছে হার মেনেছে ভবনের দেয়াল। ধরেছে ছোট ছোট ফাঁটল। তৃতীয় তলার কয়েকশ দোকান বছরের পর বছর রয়েছে তালাবদ্ধবস্থায়। বাণিজ্যিক এই বিষয়টি কর্তৃপক্ষের সুনজরে পড়লে সপ্তম তলা বিশিষ্ট সরকারি এই মার্কেটটি পূর্ণতা পাবার পাশাপাশি প্রতিবছর রাজস্ব ঙোগ হতো কোটি কোটি টাকা। কিন্তু যুগ ধরে অবহেলার গোলক ধাঁধাঁয় পড়ে থাকা অসম্পূর্ণ এই বাণিজ্যিক ভবনটির কারণে একদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বরাদ্দগ্রহীতা ও ব্যবসায়িরা, তো অন্যদিকে, খাঁচা মার্কেটের পিঞ্জিরায় আটকে আছে সরকারের মোটা অংকের রাজস্ব।
বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ জিয়াউল হক বলেন, বিষয়টি বেশ কমপ্লিকেটেট (জটিল)। তবে, অসম্পূর্ণ ঐ বাণিজ্যিক ভবনটিতে নতুন করে কাজ শুরু করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পূর্ববর্তী সময়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে পিপিপি পদ্ধতিতে কাজটি করা হয়েছে। কাজটি বেশ ব্যয়বহুল। তাই বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে একটু সময় নিয়ে এগুতে চায়। আমরা বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণাণয়ের সাথে যোগাযোগ করেছি।