১৯ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi
শিরোনাম
সমাজের সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব : প্রধানমন্ত্রীমান্দায় এইচবিবি রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, ৬ মাসেই ধ্বসরাজশাহী থেকে জাপানে কর্মী নিয়োগ ও সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনাবাংলাদেশ-চীনের যৌথ সহযোগিতায় রাজশাহী সিল্কের ঐতিহ্য ফিরে আসবে : বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীকাগজে ১০ হাজার দিনমজুর, পাড়ে শুধুই ‘ভেকু’গোদাগাড়ীতে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই কলেজ ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুদুর্গাপুরে পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থার নির্দেশ ইউএনও’রপ্রশাসকের উদ্যোগে রাসিকে প্রথমবারের মতো ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলেন রুয়েট শিক্ষার্থীরা

রাজশাহীতে পূর্বের দামেই নিত্যপণ্য

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৪, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: lead
রাজশাহীতে পূর্বের দামেই নিত্যপণ্য
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : শুক্রবার (১৫ মার্চ) কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাসুদ করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২৯টি পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়া হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কৃষি বিপণন আইন ২০১৮-এর ৪(ঝ) ধারার ক্ষমতাবলে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত দামে কৃষিপণ্য কেনাবেচার জন্য অনুরোধ করা হলো। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তির তোয়াক্কা না করে রাজশাহী নগরীতে চলছে বেশি মূল্যে বিকিকিনির রমরমা ব্যবসা। বেঁধে দেওয়া দামে মিলছে না মাছ-মাংস। প্রভাব পড়েনি আলু-ডালের বাজারেও। ব্যবসায়ীরা বলছেন পাইকারি বাজারে দাম না কমায় নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না এসব পণ্য। আজ ১৮ মার্চ নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে লক্ষ্য করা গেছে সেই পূর্বের দামে নিত্যপণ্য বিকিকিনির তোড়জোড়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে বেঁধে দেওয়া ৯৮ টাকার ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়। ১৩০ টাকার মসুর ডাল ১৪০ টাকা, ৯৩ টাকার খেসারি ১৩০ টাকা, ১৬৫ টাকার মুগডাল ১৮০ টাকা, ৬৬৪ টাকা নির্ধারিত গরুর মাংস ৭৫০ টাকা ও এক হাজার ৩ টাকা দামের ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১০০ টাকায়। সরকার নির্ধারিত মাছের মধ্যে চাষের পাঙাশের খুচরা দাম ১৮১ টাকা ও কাতলার সর্বোচ্চ দাম ৩৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এসব মাছে কোনোটি নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা ও কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫৫০ টাকায়। বাজারে বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায় ও সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা, রসুন ১২০ টাকা ও আদা ১৮০ টাকা। কাঁচামরিচ ৬০ টাকায় খুচরা বাজারে কিনতে পারবেন ক্রেতারা। আদা আগের দামে ২০০ টাকা ও রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
সবজির মধ্যে বাঁধাকপি ও ফুলকপি ৩০ টাকা, প্রতি কেজি বেগুন ও শিম ৫০ টাকা ও আলু সাড়ে ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি কেজি টমেটো ৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ২৪ টাকা খুচরা মূল্য বেঁধে দিয়েছে সরকার। তবে বাজারে এ দামে মেলেনি কিছুই। বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়, বেগুন ও শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। মিষ্টিকুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি জাহেদি খেজুর ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে রাজশাহী বাজারে সর্বনিম্ন খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪৫০ টাকা কেজি। সাগর কলার হালি খুচরায় ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সেটিও বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৪০ টাকা হালিতে। এছাড়া চিড়ার খুচরা দাম ৬০ টাকা, বেসন ১২১ টাকা বেঁধে দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। তবে চিড়া বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা আর বেসন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা দরে। রাজশাহী সাহেব বাজারের মাংস বিক্রেতা জামাল উদ্দিন বলেন, সিটি হাট থেকে গরু কিনি। কিনতে যে টাকা লাগে সেভাবে আমরা বিক্রি করি। ১০ টাকা লাভ হলে ছেড়ে দেই। এখন ৭৫০ টাকা কেজিদরে মাংস বিক্রি করছি। সরকারের বেঁধে যাওয়া দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।
একই বাজারে মুরগি বিক্রেতা জনি হোসেন বলেন, কেনার পরে আমাদের বেচতে হয়। বেশি দামে কিনে কমে বিক্রি করতে পারবো না। কেজিতে ৫-১০ টাকা লাভ হয়। ২০০ টাকা দরে বিক্রি করে আমাদের ১০-১৫ টাকা লাভ হবে। শহরের মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজারে আসা মাসুদ রানা বলেন, সরকার সব দাম কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এগুলোর কোনো প্রভাব বাজারে পড়েনি। আমার সাধারণ মানুষ, সাধারণ ইনকাম করি। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে হিমসিম খেতে হবে আমাদের। এই বাজরে মুরগি কিনতে আসা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজারের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। সরকার যদি বাজার মনিটরিং করে তবে দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে বলে মনে করি।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন