সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার বিচারে ‘সংগ্রাম পরিষদ’ গঠনের ঘোষণা
এফএনএস : দীর্ঘ ৯ বছরেরও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার হয়নি। নানাভাবে সংবাদকর্মীরা প্রতিবাদ জানালেও তদন্তকারী কর্মকর্তারা সময়ক্ষেপণ করে যাচ্ছেন। এজন্য সাংবাদিকদের সব সংগঠন এক হয়ে ‘সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এমন ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিবাদ সভার সভাপতি ও ডিআরইউর সভাপতি মোরছালিন নোমানী বলেন, সব হত্যার বিচার হলেও দেশে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি।
এ কারণে গত ৯ বছর ধরে এখনো সাংবাদিক দাম্পতি হত্যার বিচার হয়নি। এ হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আদালত থেকে ৭৮ বার সময় পরিবর্তন করায় এখনো হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, এমন কোনো প্রতিবাদী কর্মসূচি নেই আমরা সাংবাদিক সমাজ পালন করিনি, তারপরও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হওয়ায় সাংবাদিকসহ দেশবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের আটক করে উপযুক্ত বিচার করে সরকারের দায়বদ্ধতা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি সব সাংবাদিক সংগঠনগুলো মিলে আগামী এক মাসের মধ্যে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে বিচার না হওয়া পর্যন্ত টানা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
নিহত রুনির ভাই রোমান বলেন, আমার বোন-দুলাভাইয়ের বিচারের দাবিতে প্রতিবছর একবার রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে চাই না, খুনিদের আটক করে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেবে সেটাই আমাদের দাবি। কিন্তু নানাভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা খুনিদের বাঁচাতে সময়ক্ষেপণ করে যাচ্ছে। কেন খুনিদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না তা অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন প্রকাশে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন- নিহত দম্পতির ছেলে মেঘ, মাছরাঙ্গা টিভির হেড অব নিউজ ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সহসভাপতি রেজানূল হক রাজা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের
সহসভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, সাংবাদিক নেতা সাজ্জাদ আলম খান তপু, ডিআরইউ’র সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান, সাবেক নেতৃবৃন্দ শুক্কুর আলী শুভ, রাজু আহমেদ, সাখওয়াত হোসেন বাদসাসহ ডিআরইউ’র বর্তমান ও সাবেক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। উল্লেখ্য, সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। সেই থেকে পেরিয়ে গেছে নয় বছর। কিন্তু তদন্তে অগ্রগতি নেই। মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় তদন্ত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। তবে নয় বছর পেরিয়ে একাধিক সংস্থার হাত বদলেও দাখিল হয়নি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে এরইমধ্যে আদালত থেকে ৭৮ বার সময় নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। সেদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী আগামী ১১ মার্চ প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন। সবশেষ গত বছরের ৩ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা হাইকোর্টে দাখিল করা অগ্রগতির প্রতিবেদনে বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’জন অপরিচিত ব্যক্তি জড়িত ছিল। সাগরের হাতে বাঁধা চাদর ও রুনির টি-শার্টে ওই দুই ব্যক্তির ডিএনএ’র প্রমাণ মিলেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে ডিএনএ প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি ল্যাব যথাক্রমে ইন্ডিপেনডেন্ট ফরেনসিক সার্ভিস ও প্যারাবন স্ন্যাপশট ল্যাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বর্তমানে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
প্রতিষ্ঠান দু’টি ডিএনএ’র মাধ্যমে অপরাধীর ছবি বা অবয়ব প্রস্তুতের প্রচেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছে। তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দীর্ঘ এ সময়েও তদন্ত শেষ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন সাগর সারোয়ারের মা সালেহা মনির। তিনি আদালত পাড়ার সাংবাদিকদের বলেন, নয় বছর হয়ে গেলো এখনো সন্তান হত্যার বিচার পেলাম না। মামলার তারিখ আসে আর যায়। কোনো কাজ হয় না। উচ্চ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে র্যাবকে একটা সময় বেঁধে দিক। র্যাব যদি রহস্য উদঘাটন করতে না পারে তাহলে ব্যর্থতা স্বীকার করে মামলা ছেড়ে দিক। অন্য কোনো সংস্থা ঘটনার রহস্য উদঘাটন করবে।
