৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

রাস্তা দখল-প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নগরীতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৩, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
রাস্তা দখল-প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নগরীতে ভবন নির্মাণের অভিযোগ
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার

নগরীর সাহেব বাজার খাঁচাপট্টির পশ্চিম দিকের এলাকায় সরকারি পায়েহাটা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পাঁচতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার একাংশ দখল করে ভবন নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখার মতো অবিযোগও উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্থ ও ভুক্তভোগী মায়া ছাত্রাবাসের স্বত্বাধিকার নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে গত ১৮/০৯/২০২৩ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে মোঃ মারুফ মিল্টনকে বিবাদী করে স্থগিতাদেশ চেয়ে ফৌঃকাঃ বিধির ১৪৫ ধারায় একটি পিটিশন করেন। যার মামলা নং ১১৯৪/২০২৩। এই পিটিশনের প্রেক্ষিতে উক্ত নালিশী রাস্তাটিসহ নির্মাণকাজে আদালত কর্তৃক স্থিতিবস্থা আগামী ৩০/১০/২০২৩  তারিখ পর্যন্ত বজায় থাকার নির্দেশ থাকলেও ভবন মালিক মিল্টন আদালতের সেই নির্দেশনা অমান্য করে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ বাদীসহ ভুক্তভোগীদের। আদালত থেকে নির্দেশনা পাবার পর বোয়ালিয়া থানা কর্তৃক বিবদমান ও তর্কিত রাস্তাটি উন্মুক্ত রেখে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বলা হলেও কাজ চলমান থাকায় দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে জনভোগান্তি বলে জানান অভিযোগকারি নূর মোহাম্মদ। সরেজমিনে সেই সত্যতাও পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারি ও স্থানীয়দের দেয়া সূত্র মতে, নালিশী এই গলি রাস্তাটি স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সরকারি রাস্তা হিসেবেই ব্যবহার হয়ে আসছে। রাস্তাটি সাহেব বাজার মাছপট্টি বরফ মিল ও কসাইপট্টির সাথে খাঁচামার্কেট রাস্তার সংযোগ গলিরাস্তা হিসেবে যুগের পর যুগ ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাস্তার পশ্চিমকোণের সাততলা ছাত্রাবাসের কয়েকশ ছাত্র সহ আশেপাশের প্রায় ১৪/১৫টি দোকানের মালিক ও ক্রেতারা এই রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও গরু জবায়ের পর এই রাস্তা দিয়েই মাংসপট্টিতে আসে গরু-ছাগলের মাংস ও মাছের জন্য বরফ। অভিযোগকারি দাবি করে বলেন, দলিলদস্তাবেজনুযায়ী এই রাস্তাটি কাগজে কলমে সরকারি পায়েহাটা রাস্তা হিসেবে নক্সাতে লিপিবদ্ধ আছে। জবরদখল ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা নালিশী রাস্তাটি বোয়ালিয়া থানা ও মৌজার অন্তর্গত। যার জে.এল নং-০৯ মধ্যে আর.এস দাগ নং ৬০৯৮। বাদী নূর মোহাম্মদ জানান, দলিলপত্রানুযায়ী নালিশী রাস্তাটির প্রবেশমূখ ছিল সাড়ে পাঁচ ফিট। আর অপরপ্রান্তের (পশ্চিম) মুখটি ছিল সাড়ে সাত ফিট প্রশস্ত। বিবাদী মিল্টন বিভিন্ন সময় নানাবিধ কৌশলে আগে থেকেই গলি রাস্তাটির পূর্বদিকের একাংশ দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করে। আর এবার, পায়ে চলার রাস্তাটির পশ্চিম দিকের মায়া ছাত্রাবাসের সামনের একাংশ গর্ত করে জবর দখলপূর্বক পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করছে। সরকারি স্ল্যাবও ভেঙ্গে ফেলেছে নিজের নির্মাণ কাজের সুবিধার্থে বলেও অভিযোগ ছাত্রাবাস মালিকের।

বিষয়টি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অভিযোগ আকারে অবহিত করা হলে তিনি পরিদর্শন সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ^স্ত করেছেন  বলে জানান অভিযোগকারী ও মামলার বাদী নূর মোহাম্মদ। রাস্তা দখল ও গর্ত করে ফেলে রাখার কারণে ছাত্রাবাসে থাকা শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে বলে দাবি বাদী নূর মোহাম্মদের। গর্তের কারণে রাতের চলাচলে উঁকি দিচ্ছে সার্বক্ষণিক ঝুঁকি বলে অভিযোগ ছাত্রাবাস মালিকের।  বাদী নূর মোহাম্মদ ও তার ছেলে মাকারিম আহসান জানান, বিবাদী ও অভিযুক্ত ব্যক্তি মিল্টন উক্ত ভবনটি নিয়মবর্হিভূত পন্থায় নির্মাণ করছেন। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে ‘এনওসি’ (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) না নিয়েই তিনি নির্মাণকাজ চলমান রেখেছেন।  বোয়ালিয়া মডেল থানার এএসআই (নিঃ) আহসান হাবীব (বিপি-৭৮৯৭০৩৮৭২৮) জানান, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তর্কিত/নালিশী সম্পত্তির উপর উভয়পক্ষই যেনো শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিবস্থা বজায় রাখেন সেলক্ষ্যে নোটিশ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আদালত থেকে যে দিন পর্যন্ত স্থিতিবস্থার কথা বলা হয়েছে সেদিন পর্যন্ত নালীশি রাস্তার উপর কোন প্রকার কাজ করা যাবেনা।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন