৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

গোদাগাড়ীতে মামলা ছাড়াই চার কৃষি শ্রমিককে আটকের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৯:০৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
গোদাগাড়ীতে মামলা ছাড়াই চার কৃষি শ্রমিককে আটকের অভিযোগ
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের তালাইকুন্দুলিয়া গ্রামে মামলা ছাড়াই কৃষি জমি থেকে কামলাসহ (কৃষিশ্রমিক) চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী জমির মালিক মো. বুলবুলের অভিযোগ, স্থানীয় দুই দালালের উস্কানিতে প্রভাবিত হয়ে কাকনহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল করিম তাদেরকে তুলে নিয়ে যান। ছেড়ে দেওয়ার শর্তে অর্থ দাবি করেন। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ দিকে তালাইকুন্দুলিয়া গ্রামে বসতভিটার পাশের জমিতে কাজ করার সময় তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। আটকৃতরা হলেন-তালাইকুন্দলিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী মো. বুলবুলের ছেলে মো. রনি (১৮), একই গ্রামের কামরুল হোসেনের ছেলে মো. ইউসুফ (২৫), পার্শ্ববর্তী জয়রামপুর গ্রামের মো. ফরিদুল ইসলাম (৪৫) ও কাশিমপুর গ্রামের মো. হাবিব (২০)। এ বিষয়ে মামলা বা অভিযোগও নেই বলেও স্বীকার করেছেন গোদাগাড়ী থানার ওসি ও কাকনহাট তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ। কিন্তু অভিযোগ বা মামলা ছাড়াই তাদেরকে আটক করা হয়েছে কেন? এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তোর দেননি তারা।
ভুক্তভোগী জমির মালিক মো. বুলবুলের অভিযোগ, ‘রিশিকুল ইউনিয়নের তালাইকুন্দুলিয়া গ্রামে ২৩১ দাগে তিন বিঘা জমি ২১ ডিসেম্বর ২০২০ সালে রাজশাহীর হড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী গোলাম মোস্তফার কাছে থেকে কেনেন। ওই জমির পাশেই ১১২ দাগের সাড়ে ৪২ শতাংশ জমি রাজশাহীর বাসিন্দা আশিকুজ্জামানের কাছে থেকে ক্রয় করেন। ওই একই স্থানে ২৩১ দাগে সাড়ে চার বিঘা জমি কেনেন ঢাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক। কিন্তু জমির বন্টননামা এখনো না হওয়ায় বিবাদের মাধ্যমে আমার জমিও দখলের চেষ্টা করছেন। তার এই কাজে সহযোগিতা করছেন শরিফুল ও মানিক নামের দুই প্রতারক। এতে বারংবার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে সহযোগিতা চেয়েও পায়নি; উল্টো দুই দালালের পাল্লায় পরে আমাকেই হয়রানি করা হয়েছে।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ‘আমার নামে কোন মামলা নেই। এর আগেও আমাকে সপ্তাহ খানেক আগে আমাকে তুলে নিয়ে বেড়া ভেঙ্গে দখলের চেষ্টায় সহযোগিতা করেছিল পুলিশ। ওই জেরেই আমার বাসায় বিনা কারণেই গত বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত দেড় টার দিকে কাকনহাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এসে দরজা ধাক্কা দেয় এবং গালিগালাজ সহকারে দরজা খুলতে বলে। আতংকিত হওয়ার কারণে আমি রাতে দরজা খুলতে আপত্তি জানালে তারা চলে যায়। কিন্তু পরদিন (বৃহস্পতিবার) সকালে তারা মাঠে কাজ করার সময় আমার ছেলে রনিসহ চারজন কামলাকে আটক করে।’ ‘কোন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের আটক করা হয়েছে জানতে চাইলেও তারা তা বলতে আপত্তি জানায়; উল্টো স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে আমার কাছে অর্থের বিনিময়ে তাদের ছাড়ার প্রস্তাব দেন। এতে আপত্তি জানালে বিভিন্ন মাধ্যম দ্বারা আমাকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদান করেন। দুই দালালের কথায় পুলিশ যদি একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার জমিই যদি দখলে নিয়ে তাকে হয়রানি করে সেখানে আমি তো তুচ্ছ মানুষ। এসব ঘটনার পর আমি ও আমার পরিবার বেশ নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি’ বলে সংশয়ের কথা জানান তিনি।
জানতে চাইলে কাকনহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল করিম বলেন, ‘জমি দখলের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাদের আটক করেছে।’ কার অভিযোগে আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে, তিনি তা জানাতে ব্যর্থ হন। এর আগেও ভুক্তভোগী বুলবুলকে থানায় তুলে নিয়ে যাবার সত্যতা স্বীকার করেন তিনি। ওই ঘটনারও তিনি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে কথা হয় গোদাগাড়ী থানার ইনচার্জ মো. কামরুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ওই স্থানে দুই বছর যাবত জমি নিয়ে ঝামেলা চলছে। গতকাল তারা জোর করে বিবাদমান জমিতে বেড়া দিচ্ছিল। তাই এলাকার শান্তি-শৃংখলা রক্ষার্থে তাদের আটক করা হয়েছে। তবে একটি মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। পুলিশ কারো কাছে অর্থ দাবি করেনি, এমনকি কাউকে মারধরও করেনি।’ এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের মুখপাত্র মো. রফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন