৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

রাজশাহীর মিঠা পানির মাছ বিদেশে রপ্তানির চিন্তাভাবনা

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:০৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
রাজশাহীর মিঠা পানির মাছ বিদেশে রপ্তানির চিন্তাভাবনা
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার
গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর সকালে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে নিজস্ব হল রুমে মিঠা পানির মাছ রাজশাহী থেকে বিদেশে রপ্তানী করা প্রসঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন, চেম্বার পরিচালনা পর্যদ, বিভাগীয় মৎস দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক, রাজশাহীস্থ আমদানী রপ্তানী যুগ্ম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের উপ-নিয়ন্ত্রক সহ স্থানীয় মৎস খামারীরা।
উক্ত সভাতে যে যার অবস্থান থেকে রপ্তানী বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এছাড়াও রপ্তানীর ক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা আসতে পারে সেবিষয়েও বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করা হয়। এ অঞ্চল থেকে সরকারি ভাবে মিঠা পানির মাছ বিভিন্ন দেশে রপ্তানী বিষয়ক প্রক্রিয়া সহজতর করা সহ খামারীদেরকে মাছ রপ্তানীতে উৎসাহ প্রদান করা হয়। উক্ত সভাতে আলোচকরা জানান, রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন প্রায় ২০০ ট্রাক তাজা মাছ চালান দেয়া হয়। দেশের সার্বিক অবস্থা ভাল থাকলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরেও প্রায় ৫০ হাজার টন মাছ উদ্বৃত্ত থাকে। তাই মাছ রপ্তানির মাধ্যমে অতিসহসায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। আর এটি করতে পারলে একদিকে যেমন হ্রাস পাবে দারিদ্রতা, তো অন্যদিকে উন্মুক্ত হবে কর্মসংস্থানের দ্বার। এছাড়াও আঞ্চলিকভাবে শক্তিশালী হবে স্থানীয় অর্থনীতি। অর্থনীতির নতুন এই ক্ষেত্রে শিক্ষিত বেকার ছেলেদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান চেম্বার সভাপতি রিংকু। তিনি আরো বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে যেসকল মাছ চাষীরা মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। বিভিন্ন দেশে মাছ রপ্তানী শুরু করতে পারলে তারাও মূল্যায়ন পাবেন। অর্থনৈতিকি ভাবে ছোট ও মাঝারি প্রকৃতির খামারি ও মাছ চাষীরাও উপকৃত হবেন।
সভাপতি রিংকু আরো বলেন, ইতোমধ্যেই আমরা নেপালের সাথে প্রাথমিক পর্যায়ে মাছ রপ্তানি নিয়ে একটি আলোচনা করেছি। তারা আমাদের অঞ্চলের মাছ আমদানি করার আগ্রহ পট্রকাশ করেছে। এছাড়াও পাশর্^বর্তী দেশ ভারতের মালদা ও শিলিগুড়ি চেম্বার অব কমার্সে আমরা যাবো রপ্তানী বিষয়ক আলোচনা করতে। বর্তমানে আখাউড়া দিয়ে দেশের বাইরে মাছ যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে লজিস্টিক সহোযোগিতা পেলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর ব্যবহার করে রাজশাহী থেকেও পর্যাপ্ত পরিমাণ মিঠা পানির মাছ দেশের বাইওে রপ্তানী করা সম্ভব।
উক্ত সভায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত স্থানীয় মাছ চাষিরা বলেন, রাজশাহী জেলা থেকে দেশের মোট ১৮টি জেলাতে তাঁজা মাছ চালান করা হয়। এছাড়া তারা আরো জানান, ২০১৭ সালে রাজশাহী মৎস ভবনের একটি আলোচনা সভায় রাজশাহীর মাছ বিদেশে রপ্তানী করার উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট আলোচনা হলেও সেটি আজও রয়েছে হিমঘরে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ (সুমন)। উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন রাবি’র ফিসারিজ বিভাগের প্রফেসর ড. আক্তার হোসেন, রাজশাহী বিভাগীয় মৎস দপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল ওয়াহেদ মন্ডল, রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান, আমদানী ও রপ্তানী যুগ্ম-নিয়ন্ত্রক দপ্তরের নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম। আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল আওয়াল খান চৌধুরী সহ পরিচালকবৃন্দ।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন