৮ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

স্কুলে যোগদানে বাধা দেওয়ায় তিন পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৩, ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
স্কুলে যোগদানে বাধা দেওয়ায় তিন পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন
বিজ্ঞাপন

তানোর প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী গোগ্রাম ইউনিয়নের হুজরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলীর দৌরাত্ম্যে চাকরিতে যোগদান করতে না পেরে অসহায় তিন পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ ঘটনায় ২২ আগস্ট মঙ্গলবার ভুক্তভোগী তিন কর্মচারী রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগীরা দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে। প্রধান শিক্ষক মাসদার আলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণ হওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে মোজাহার আলীকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা হয়েছে।কিন্ত্ত বিদ্যালয়ের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তবে তারা স্বামী-স্ত্রী স্কুলের অর্থ নয়ছয় করে মোটাতাজা হচ্ছে বলে গুঞ্জন বইছে।

জানা গেছে, বিগত ১৯৯৩ সালে গোগ্রাম ইউনিয়নের (ইউপি) হুজরাপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যায় স্থাপন করা হয়। বিগত ২০০১ সালে নিম্নমাধ্যমিক ও ২০০২ সালে মাধ্যমিক স্তরের এমপিওভুক্ত হয়। বিদ্যালয়ে ১২ শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারি ছিল। তবে চলতি বছর নতুন করে আরো ৩ জন কর্মচারি নিয়োগ করা হয়েছে। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পচ্ছন্দের প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছে।এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তাদের কাছে ৪  লাখ টাকা আর্থিক সুবিধা দাবি করে না পেয়ে তাদের যোগদান করতে দিচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়া এই তিনটি পদে জনবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ২০২৩ সালের ২২ জুন প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে ২৫ জুন বিদ্যালয়ে কমিটির বৈঠক  ও রেজুলেশন করে এসব নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। এবং গত ৯ জুলাই তাদের যোগদান করতে বলা হয়। নিরাপত্তা কর্মী পদে জাহিদ আলী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে সেলিম রেজা ও আয়া পদে আন্না মারান্ডি নিয়োগ পান। এদিকে নিয়োগ পরীক্ষা, ফলাফল, উত্তর পত্র, রেজুলেশনসহ প্রতিটি কাগজে সভাপতি, ডিজির প্রতিনিধি ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর রয়েছে। এদিকে গত ৯ জুলাই তারা বিদ্যালয়ে যোগদান করতে গেলে তাদের যোগদান করাতে দেয়নি প্রধান শিক্ষক। ভুক্তভোগীর স্বজনেরা জানান, মোজাহার মাস্টার তাদের কাছে চার লাখ টাকা দাবি করেছেন। তাকে টাকা না দেয়ায় তিনি যোগদান করতে দিচ্ছেন না। কর্মস্থলে যোগদান করতে না পেরে ওই তিন পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এবিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, বৈধভাবে নিয়োগ হয়েছে। কিন্ত্ত প্রধান শিক্ষক তাদের কাছে  মাথা পিছু চার লাখ টাকা করে উৎকোচ না পেয়ে তাদের যোগদান করতে দিচ্ছে না। এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দুলাল আলম বলেন, নিয়োগ হবার পর যোগদানে বাধা দেবার কোনো সুযোগ নাই। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলী গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে চাননি।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন