রাজশাহীর বিশ্ব গোডাউনে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেলেন এক শ্রমিক
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী মহানগরীর ১৯নং ওয়ার্ডের অন্তগর্ত শিরোইল কলোনী এলাকার সারের গোডাউনটি সকলের কাছে বিশ^ গোডাউন হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত। যেটি কিনা শিল্প মন্ত্রণালয় অধীনস্থ বিসিআইসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন ইউরিয়া সারের একটি গুদাম (গোডাউন)। আর এই গোডাউনেই অল্পের জন্য মৃত্যুর হাত রক্ষা পেলো রাজবাড়ি থেকে সারের ট্রাকে করে আসা শ্রমিক শহিদুল ইসলাম। মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেও গুরুত্বর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ট্রাকের হেলপার ও শ্রমিক শহিদুল। গত ২০-৮-২০২৩ ইং তারিখে ফরিদপুর রাজবাড়ি থেকে সার নিয়ে আসা একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-৫১৫৬) ধাক্কায় গুরুত্বর আহত হন শহিদুল। আহত শহিদুল ইসলাম (২৫) ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ী থানাধীন দত্তপাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে।
ট্রাক চালক ব্যতীত ভারি এই বাহনটির পরিচালনার দায়িত্ব হেল্পারের হাতে দেয়ার কারণেই দূর্ঘটনার মূল কারণ বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকরা। সংরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ¯’ানে সার বোঝাই ভারি ট্রাকের পরিচালনার দায়িত্ব হেলপারের হাতে দেয়ার প্রবণতা এখানে নতুন নয় বলে অভিযোগ ¯’ানীয়দের। যার কারণে, এখানে প্রায়শই ঘটে ছোট-বড় দূর্ঘটনা। জানতে চাইলে গোডাউন ইনচার্জ সাজেদুর রহমান বলেন, প্রধান ফটকে দায়িত্বরত আনসাররা অল্প শিক্ষিত হবার কারণে তারা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করতে পারেনা। তাছাড়া, অধিকাংশ সময়ে ট্রাকের ড্রাইভারগণ হেলপারের হাতে চাবি দিয়ে চলে যান অন্যত্র (আশেপাশেই)। সারেরবস্তা আপলোড কিংবা আনলোড করার সময় সিরিয়াল অনুযায়ী ট্রাকগুলো গোডাউন ফটকের সামনে আসে। আর এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি প্রায়শই করে থাকেন হেল্পাররা। তাদেরকে বারবার শতর্ক ও নিষেধ করার পরেও তারা সেটি মানতে চায় না। আমরা এবিষয়ে আরো বেশি শতর্ক ও কঠোর হবো বলে আশ^স্ত করেন তিনি। ড্রাইভার মজনু মিয়া বলেন, আমি কুষ্টিয়া-ট ১১-১৬৩৯ নম্বর ট্রাকে সার নিয়ে আসি গুদামে। আনলোডের সিরিয়াল পেয়ে ট্রাকের পেছনে দাড়িয়ে ট্রিপল খোলার কাজ করছিল শহিদুল। এসময় ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-৫১৫৬ নম্বর গাড়ির হেলপার সাগর (২৩) গাড়ি গিয়ারে থাকাবস্থায় ট্রাকটি স্টার্ট দেয়। স্টার্ট করা মাত্রই গাড়িটি কিছুটা কেঁপে ওঠে এবং পেছনের দিকে একটু সরে যায় এবং মুহুর্তের মধ্যেই দুই ট্রাকের মধ্যবর্তী স্থানে দাড়িয়ে থেকে কাজ করা শ্রমিক শহিদুল ইসলাম চাঁপা পড়েন। তার আত্মচিৎকারে শ্রমিকরা এসে আহতবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। শহিদুলের বাম বুক ও পেটে গুরুতর আঘাত পান। এছাড়া তার মাথা ও মুখে রক্তক্ষরণ হয়। দূর্ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন চন্দ্রিমা থানা পুলিশের একটি টহল দল। নানাঝক্কি ঝামেলা শেষে আহত শ্রমিককে হাসপাতালে প্রয়োনীয়ও চিকিৎসা নিতে ভর্তি করানো হয়।
স্থানীয়রাসহ সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সার বোঝাই ভারি ট্রাকগুলো গোডাউনে প্রবেশের আগে ও পরে হেলপারের হাতে ট্রাক পরিচালনার দায়িত্ব (স্টিয়ারিং) ছেড়ে দিয়ে অধিকাংশ ড্রাইভার অন্যকোন কাজে বা আহারে ব্যস্ত হয়ে পরেন। যার কারণে মাঝেমধ্যেই এমন ধরনের অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা ঘটে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য দূর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের হাতে ড্রাইভার ও হেল্পার হেনস্তার ঘটনাও ঘটেছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু তাতেও বন্ধ হয়নি ট্রাক পরিচালনার মতো এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিয়ে ছেলেখেলা বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। ট্রাক ইউনিয়নের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন একপশ্নের জবাবে বলেন, ট্রাকের চাবি যেনো হেলপারদের হাতে না দেয়া হয় সেজন্য ড্রাইভারদেরকে আমরা অনেকবার নিষেধ করেছি। এছাড়াও এ বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন আগেই বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনেও বেশ কয়েকটি সভাও আমরা করেছি। কিন্তু তারপরেও ড্রাইভারদের এমন অবহেলা নিয়ে আমরাও চিন্তিত। এ ব্যাপারে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, ট্রাকটি সভাপতি ফরিদ উদ্দিনের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
