নাটোরে সংখ্যালঘু পরিবারকে প্রাণনাশ ও ধর্ষণের হুমকি
প্রেস বিজ্ঞপ্তি : নাটোরের বড়াইগ্রামের জোয়াড়ী ইউনিয়নে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হিরেন্দ্রনাথ সরকার এবং তার পরিবারকে প্রাণনাশ, এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ ও পুড়িয়ে মারার হুমকি দিচ্ছে একই এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বনলতা ইটভাটার ম্যানেজার মো: শাহীন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বড়াইগ্রাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এছাড়া নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন- হিরেন্দ্রনাথ সরকার। তিনি ওই গ্রামের মৃত জ্ঞানেন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে।
হিরেন্দ্রনাথ সরকারের অভিযোগ, এই এলাকায় বহু বছর থেকে তিনিসহ কয়েকটি হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবার বসবাস করে আসছেন। তার যতটুকু কেনা জায়গা এর অর্ধেক জুড়ে নিজেদের জন্য বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। আর পেছনের দিকে কিছু সংখ্যক জায়গা ফাঁকা অবস্থায় পড়ে আছে। বেশকিছু দিন আগে সেই ফাঁকা জমিটি রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করার জন্য একই এলাকার বনলতা ইটভাটার ম্যানেজার মো: শাহীন তাকে প্রস্তাব দেন। ইটভাটার মাটি পরিবহনের তার জায়গাটি নামমাত্র দামে ওদের কাছে বিক্রি করতে একাধিকবার চাপ দিতে থাকে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে হিরেন্দ্রনাথ আরও বলেন, ‘জমি বিক্রি করতে না চওয়ায় তখনই সে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এসবের মধ্যেই আজ সকালে হঠাৎ ম্যানেজার শাহীন ও তার ১০-১৫ জন সহযোগীসহ আমার বাড়িতে আসে এবং জমি জোর করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় আমি ও আমার পরিবার তাদের বাধা দিতে গেলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ মারপিট করে। আমার বাড়ির মেয়েদের ধর্ষণ করে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকিও দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘এমন ঘটনার পর প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাৎক্ষনিকভাবে সেখানে থেকে পালিয়ে যায়। আমি নিরুপায় হয়ে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দকে জানালে তারা রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজিকে বিষয়টি অবগত করেন। রেঞ্জ ডিআইজি সাথে সাথে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় থানা পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান ও তদন্তের নির্দেশ দেন। পুলিশ সন্ত্রাসীদের খোঁজ করলে ততক্ষণে তারা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
আপাতত আমি থানায় একটি জিডি করেছি। কিন্তু এমন ঘটনার পরে যে কোন সময় আমাদের সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কার কথাও জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি দখলদারিত্ব মনোভাব ও আচরণ খুবই দুঃখজনক। তারা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই প্রভাবশালীরা তাদের ওপর এমন হিংসাত্মক আচরণ করার সাহস পেয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। আমরা আশা করি তারা অবশ্যই এই বিষয়য়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
