২৮ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

পাট ও চিনিকলে লোকসানের জন্য শ্রমিক নয়, আমলারাই দায়ী : এমপি বাদশা

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:৩১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
পাট ও চিনিকলে লোকসানের জন্য শ্রমিক নয়, আমলারাই দায়ী : এমপি বাদশা
বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল ও চিনিকল বন্ধের পেছনে লোকসানের যে কারণ দেখানো হচ্ছে তার জন্য শ্রমিকরা নয় বরং আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেই দায়ী করেছেন- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। তিনি বলেছেন, পাট ও চিনিকলে লোকসানের নেপথ্যে শ্রমিকদের দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু কারখানা তো শ্রমিকেরা পরিচালনা করেন না। এগুলো পরিচালনা করেন, বিজেএমসি এবং চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা। তবে কারখানাগুলো যদি লোকসান গুনে থাকে, তার দায় কেবল শ্রমিকরা কেন নেবেন? কেন মন্ত্রী-সচিব-চেয়ারম্যানরা নেবেন না?

গতকাল শনিবার সকালে বাংলাদেশের ১৫টি চিনিকলের আখচাষী ও শ্রমিক কর্মচারীদের এক প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। নাটোরের এনএস কলেজের অডিটোরিয়ামে আখচাষী সমিতি, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন ও চিনিকল শ্রমিকরা যৌথভাবে এই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করেন।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘পাটলিল্প আমাদের জীবন-জীবিকা ও ঐতিহ্যের অংশ। এটিকে কখনও লাভ-লোকসানের পরিমাপে বিবেচনা করা যাবে না। পাটলিল্পকে রাষ্ট্রীয়করণ করার অর্থই হচ্ছে- রাষ্ট্র স্বয়ং এই শিল্পকে প্রতিপালিত করবে। এই শিল্পকে জাতীয় শিল্প হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চিনিকলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’ আমাদের মনে আছে, পাকিস্তান আমলে এই অঞ্চলে একটি ‘কালো’ আইন জারি করা হয়েছিল। সে সময় আমাদের দেশের আখচাষী ও পাটচাষীরা সেই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, জীবন পর্যন্ত দিয়ে পাট ও চিনিকলগুলোকে সচল রেখেছিল।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরবঙ্গ চিনিকল আখচাষী সমিতির গোপালপুরের সভাপতি শ্রমিক নেতা অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- জাতীয় কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম গোলাপ ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কামরুল আহসান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- নাটোর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. লোকমান হোসেন বাদল, নাটোর জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান।

এদিকে, প্রতিনিধি সভা শেষে ১৫টি চিনিকলের আখচাষী ও শ্রমিক কর্মচারীদের সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ আখচাষী ও চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামের ৩০জন বিশিষ্ট একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহ্বায়ক করা হয় উত্তরবঙ্গ চিনিকল আখচাষী সমিতির গোপালপুরের সভাপতি অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিলকে। জানা গেছে, এই কমিটির নেতৃত্বেই পাট ও চিনিকল রাষ্ট্রীয়ভাবে আধুনিকায়ন করে আবারও চালু করার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন