ভাড়ালিপাড়ায় ওয়াসা পানির লাইনে ফাটল ভোগান্তিতে এলাকাবাসি
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর ১৭নং ওয়ার্ড অন্তর্গত ভাড়ালিপাড়া চৌরাস্তার মোড়ে ভূগর্ভস্থ পানির পাইপ ফেটে রাস্তায় পানি জমতে শুরু করেছে। চারদিন পূর্বে ঘটনাটি ঘটলেও ওয়াসা কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে বিষয়টি আমলে না নিলেও পরবর্তীতে এলাকাবাসি ও ব্যবসায়িদের চাপে গত ৮ জানুয়ারি লিকেজ হওয়া স্থানটি ওয়াসা কর্তৃপক্ষ মিস্ত্রি দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করে। কিন্তু, রাস্তা খুঁড়ে সে কাজটি করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসি। স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, মিস্ত্রিরা লিকেজ পাইপটি মেরামত করতে এসে আরো বেশি পরিমাণে নষ্ট করে দিয়েছে। যার কারণে পূর্বের চেয়ে এখন পানির নির্গমন গতি আরো বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চারদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসি।
এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়াতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড অন্তর্গত ভাড়ালীপাড়া ও জিয়া শিশু পার্কের মধ্যবর্তী চৌরাস্তা মোড়ে গত বুধবার মাটির নিচে থাকা ওয়াসার পানির লাইন ফেটে গিয়ে রাস্তাসহ এর আশেপাশের স্থানগুলোতে পানি প্রবাহিত হতে থাকে। দিনরাত্রি সার্বক্ষণিক উক্ত লিকেজ স্থান থেকে পানি নির্গমন হওয়াতে পথচারিসহ ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচলরত সকল প্রকার হালকা যানবাহনের চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও রাস্তার পানি পার্শ্ববর্তী নিচু দোকান ও বাসাবাড়িতেও ঢুকে পড়ছে। যার কারনে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকাবাসি। উক্ত চৌরাস্তা মোড়ের দক্ষিণ পার্শ্বের ফার্মেসী ব্যবসায়ি মর্তুজা ও মুদি ব্যবসায়ি রুমেলসহ অন্যরা জানান, বিমানবন্দর থেকে খানকাশরীফ ও জিয়া শিশু পার্কের সংযোগ সড়ক হিসেবে এই রাস্তাটির গুরুত্ব রয়েছে যথেষ্ট।
এছাড়াও ১৭ নং ওয়ার্ডের জনসংখ্যার অধিকাংশের বসবাস এই এলাকায়। চৌরাস্তাটির উত্তরে ভাড়ালিপাড়া, রায়পাড়া ও কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল অবস্থিত। দক্ষিণে নগরীর একমাত্র শিশু পার্ক। পূর্বে খানকা শরীফ, বাগান পাড়াসহ রয়েছে ভদ্রা যাবার বাইপাস সড়ক। পশ্চিমে-উত্তর কোণে রয়েছে আরডিএ কর্তৃপক্ষের ছায়ানীড় আবাসিক এলাকা। আর সর্ব পশ্চিমে রয়েছে নওদাপাড় হাট ও বাজার এবং বিমানবন্দর সড়ক। যার কারণে সেই সকাল থেকে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত উক্ত রাস্তা দিয়ে চলাচল করে বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহন। পথচারিদের চলাচল সার্বক্ষণিক।
লিকেজ হওয়া পানির লাইনটি চার দিনেও মেরামত করতে না পারায় এলাকাবাসি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মেরামত তো দূরের কথা, মেরামতের জন্য উক্ত লিকেজ হওয়া স্থানটির চারিদিকে প্রায় তিনফিট গর্ত করে সেখানে মাটি জমিয়ে রাখাতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্নতা ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা। সিটি কর্পোরেশনের বসবাস করতে হলে ভ্যাট ও করের মতো ব্যয়বহুল দেনা পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে বসবাস করতে হয়। কিন্তু টাকা বিনিময়েও যদি নাগরিক সেবা যথার্থ সময়ে না পাওয়া যায় তবে শহরে বসবাস করে কি লাভ বলে মন্তব্য অনেকের। এই ভোগান্তির হাত থেকে বাঁচার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।
