এফএনএস : দলের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা রয়েছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মামলা প্রত্যাহারের আগে কোনো নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন হবে না। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটাকে বাদ দিয়েছেন। শুধুমাত্র আজীবন আওয়ামী লীগ সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য। যেই নির্বাচনে আগের রাতে ভোটকেন্দ্র দখল করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই বাংলাদেশে আর সেরকম নির্বাচন হবে না। নির্বাচন কমিশন গঠন হবে ঠিক যখন সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যবস্থা করা হবে। সেই কমিশনের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। আর তার আগে অবশ্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি রাখা নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। আর ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা আছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। তার আগে কোনো নির্বাচন হবে না।
ফখরুল বলেন, আজকে আমরা একটা কঠিন সময় অতিক্রম করছি। ১৯৭১ সালে স্বাধনীতা যুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা যে অধিকারগুলো অর্জন করেছিলাম, আজকে সেগুলোকে সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছ। ১৯৯০ সালে একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে যে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলাম, সেই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রকে একটা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। যেখানে মানুষের কোনো অধিকার নেই, মানুষ তার কোনো অধিকার পূরণ করতে পারছে না। এমনকি জনগণ তাদের ভোটও দিতে পারছে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়ে গেছে। দুর্ভাগ্য আমাদের, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে ব্যবস্থা, সেই ব্যবস্থাকে আমরা এখন পর্যন্ত সুনিশ্চিত করতে পারিনি। কার জন্য পারিনি? আওয়ামী লীগের জন্য পারিনি। কারণ এই সরকার চায় দেশে একটিমাত্র দল থাকবে, একটিমাত্র পরিবার থাকবে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে এদেশের মানুষ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিল।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদে সেটা পাশ করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। মহিলা দলের সভাপতি আবদুল আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।