নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মহাদেবপুরে দম্পতিকে বেঁধে রেখে বর্বর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় গতকাল সোমবার সকালে নির্যাতনের শিকার শ্যামলী বাদী হয়ে প্রধান অভিযুক্ত রুহুল আমিন ও তার ২ স্ত্রীসহ ৪ জনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ রুহুলের দুই স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে।
নির্যাতিত শ্যামলী রানী জনান, তারা স্বামী-স্ত্রী পত্নীতলা উপজেলার একটি নার্সারির চাকুরী করেন। সেই সুবাদে মহাদেবপুর উপজেলার বোয়ালমারীর রুহুল আমিন তাদের নার্সারী থেকে চারা কিনতেন। গত ১৫ আগস্ট সকালে লেনদেন বিষয়ে বাকবিতন্ডা হলে রুহুল একটি মাইক্রোতে করে মিঠুনকে তুলে নিয়ে আসে। এরপর তিনদিন ধরে চলে নির্যাতন। হাতুড়ি ও লহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন যায়গায় থেঁতলে দেয়া হয়। তৃতীয় দিনে মিঠুনের স্ত্রী শ্যামলীকে ফোনে ১০ হাজার টাকা আনতে বলে রুহুল।
শ্যামলী তার মায়ে স্বর্নের চেন বন্দক রেখে টাকা নিয়ে রুহুলের বাড়িতে গেলে তাকেও আটকে রাখা হয়। শুরু হয় বর্বর নির্যাতন। কেটে ফেলা হয় মাথার চুল। পরে প্রতিবেশীর তথ্যে তৃতীয় দিনে ওই বাড়ি থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আজম উদ্দিন জানান, ঘটনার কয়েকদিন পর গতকাল রাতে তারা প্রধান অভিযুক্ত রুহলসহ ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। এরইমধ্যে রুহুলের দুই স্ত্রী কে আটক করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।