নওগাঁ প্রতিনিধি : সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে পরিবার পরিজন ছেড়ে দীপু হোসেন (২৭) শ্রমিক হিসেবে পাড়ি জমান লিবিয়াতে। সেখানে দীর্ঘ আট বছর থাকার পর উন্নত জীবন যাপনের জন্য ইতালী যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের খপ্পরে পরে চোখে সর্ষে ফুল দেখেন। ইতালীতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে লিবিয়াতে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। এরপর শারীরিক নির্যাতনসহ তার পরিবারের নিকট মোটা অংকের টাকা মুক্তিপন দাবী করে মানবপাচার চক্রের সদস্যরা।
নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীর বড় ভাই মতিউর রহমান বুলু বাদী হয়ে গত ১৭ আগষ্ট নওগাঁ সদর থানায় বাংলাদেশে মানবপাচার চক্রের সদস্যের দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পরে সেটি মানবপাচার আইনে মামলায় রুজু হয়। মামলার পর পুলিশি তৎপরতা দুই সহযোগীকে আটক করা হয়। ভুক্তভোগী দীপু হোসেন নওগাঁ সদর উপজেলার সাহাপুর (মাস্টারপাড়া) গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে।
আটকরা হলেন, কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার আটচাইল গ্রামের মৃত হিরন মিয়ার ছেলে নাভিদ হাসান (২১) ও লেবাশ প্রধানিয়া বাড়ি গ্রামের মৃত আবু তাহেরের ছেলে কামাল হোসেন (৩৮)। এ বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার দুপুরে নওগাঁ পুলিশ লাইন ড্রিল সেডে পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলন পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, আট বছর পূর্ব হতে দীপু হোসেন লিবিয়াতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। তিনি আরো উন্নত জীবন যাপনের আশায় লিবিয়া হতে ইতালী যাওয়ার জন্য চেষ্টা করাকালীন সময় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের খপ্পরে পড়েন। গত ১৪ আগষ্ট সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা লিবিয়া প্রবাসী ইয়াসিন মিয়া এবং কামাল হোসেনসহ আরো কয়েক জন মানবপাচারকারী দীপুকে সাগর পথে ইতালী প্রেরনের কথা বলে নিয়া যায়। লিবিয়ার অজ্ঞাত স্থানে তাকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনসহ তার পরিবারের সদস্যদের নিকট থেকে ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবী করে। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে সাগরের পানিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে তারা।
মুক্তিপনের টাকা বাংলাদেশে তাদের সহযোগী নাভিদ হাসান ও কামাল হোসেনের নিকট বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে বলে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী দীপুর বড় ভাই মতিউর রহমান বুলু মানবপাচার চক্রের সহযোগী নাভিদ হাসান ও কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেন। পরে সেটি একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে ১৯ আগষ্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) একেএম মামুন চিশতী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) গাজিউর রহমান, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম,
উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল জান্নাত শাহ এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রবিউল ইসলাম সংগীয় ফোর্সসহ কুমিল্লাসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় কুমিল্লার চান্দিনা থানার দোল্লাই নবাবপুর তাদের গ্রেফতারের পর জিম্মি থাকা ভুক্তভোগী দীপুকে লিবিয়ায় মানবপাচার চক্রের অন্যান্য সদস্যরা ছেড়ে দেয়। আবদুল মান্নান মিয়া আরো বলেন, ভিকটিম দীপুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এখন বিপদমুক্ত এবং সুস্থভাবে আছে বলে জানা যায়। আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে বিকেলে আসামীদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।