১২ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

রামেক হাসপাতালে থামছে না মৃত্যুর মিছিল, বেড়েছে করোনা শনাক্তর হার

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২১, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: lead
রামেক হাসপাতালে থামছে না মৃত্যুর মিছিল, বেড়েছে করোনা শনাক্তর হার
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে কঠোর ‘লকডাউনের’ পরও কিছুতেই করোনা সংক্রমণের লাগাম টানা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মৃত্যুর মিছিলও থামছে না। গত ২৪ ঘন্টায় রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ১৮ জনের প্রাণহানীর মধ্যদিয়ে পূর্বের রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুনভাবে এখানে মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী।

যাদের মধ্যে আটজনের করোনা পজেটিভ ছিল এবং অন্যরা রোগটির উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এর আগে হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জনের মৃত্যুতে সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছিলো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃতদের লাশ দাফনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে টানা চারদিন কমার পর রাজশাহীতে ফের বেড়েছে করোনায় শনাক্তের হার। বুধবার দুইটি ল্যাবে রাজশাহীর ৩৮০ নমুনা পরীক্ষা করে ১২৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। যা আগের দিনের চেয়ে দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। যা আগের দিন গত মঙ্গলবার ছিল ৩৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর আগে গত সোমবার ছিল ৩৩ দশমিক ৫১ শতাংশ।

এ তথ্য নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দুপুরে বলেন, বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টার মধ্যে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রাজশাহীর ১৩ জন, চাঁপাইনবাগঞ্জের একজন, নওগাঁর চারজন।

মৃতদের মধ্যে ৬১ বছরের উপরে রয়েছেন ৬ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিনজন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের চারজন। এ নিয়ে চলতি মাসের গত ২৪ দিনে (১ জুন থেকে ২৪ জুন) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেলেন ২৬০ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ১২১ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯৩ জন। হাসপাতাল পরিচালক বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৪ জন।

এর মধ্যে রাজশাহীর ৩৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০, নাটোরের চার, নওগাঁর ছয় ও পাবনার একজন। সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৩ জন। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩৫৭ বেডের বিপরীতে মোট চিকিৎসাধীন রোগী আছেন ৪০৪ জন। বাকিদের মেঝে ও বারান্দায় অতিরিক্ত বেড তৈরী করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর ২৭২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ জন, নাটোরের ২৬ জন, নওগাঁর ৩২ জন, পাবনার ১০ জন, কুষ্টিয়ার তিনজন, চুয়াডাঙ্গার একজন ও ঢাকার একজন রয়েছেন।

আর আইউসিইউতে ভর্তি আছেন ১৮ জন। শামীম ইয়াজদানী জানান, গত বুধবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পৃথক ল্যাবে ৬৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজেটিভ এসেছে ১৮৮ জনের। রাজশাহী ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯১ নমুনা পরীক্ষা করে ৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। আর নওগাঁর ১৮৩ নমুনার মধ্যে পজেটিভ এসেছে ৫০ জনের। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, পরিস্থিতি এখন আমাদের আর নিয়ন্ত্রণে নেই।

এখন ঘরে ঘরে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। লকডাউন দিয়েও ফল মিলছে না। এ অবস্থায় খুব জরুরি হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। বাড়িতে থাকলেও একজন আরেকজনের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে। কারণ বাড়ির বাইরে বের না হয়েও বাইরে যাওয়া অন্যের মাধ্যমে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন বিকল্প নেই।

প্রায় একই ধরনের তথ্য জানিয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, আমাদের এখানে ভারতীয় বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে। সঠিক সময়ে আমরা সঠিক কাজটি করতে না পারায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। তবে এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি। আমরা যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করি তবে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এদিকে করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা রাজশাহীতে তৃতীয় দফায় ‘বিশেষ লকডাউনের’ মেয়াদ এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (১৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসক মো. আবদুল জলিল এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। এর আগে গত ১১ জুন থেকে রাজশাহীতে চলমান কঠোর লকডাউন শুরু হয়।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন