মঙ্গলবার

১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
প্রচণ্ড গরমে নগরীতে সামাজিক সংগঠন ‘হেল্প ডোর’র বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন বিতরণ জনতা ব্যাংক কাদিরগঞ্জ শাখার এটিএম বুথের উদ্বোধন রাজশাহী বহুমুখী বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন রাজশাহীর ডিসি জীবিকার তাগিদে একসময়ের যাত্রার নায়ক সামাদের কাঁধে এখন দোতারা রাজশাহীকে বাসযোগ্য শহর গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় আরডিএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের গোদাগাড়ীতে মাদক ও কিশোর অপরাধকে লাল কার্ড প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শপথ আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর, দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরডিএ’র নতুন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটের দায়িত্ব গ্রহণ

প্রাথমিকের উপবৃত্তি ৫শত টাকা করার সুপারিশ

Paris
Update : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১

এফএনএস : করোনা পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাখরচ বেড়েছে ১২ গুণ। ফলে শিক্ষার সুযোগপ্রাপ্তিতে সংকট তৈরি হয়েছে। স্কুলগামী ছেলেশিশুদের ৮ শতাংশ এবং মেয়েশিশুদের ৩ শতাংশ কোনো না কোনো উপার্জন প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলে যেখানে শহরের তুলনায় মানুষের আয় পুনরুদ্ধারের ও কাজের ভালো সুযোগ রয়েছে সেখানেও এই হার বেশি। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক যৌথ গবেষণায় এটি উঠে এসেছে।

গতকাল সোমবার অনলাইনে এক অনুষ্ঠানে গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন। শিক্ষাখাতে অভিভাবকদের ওপর খরচের চাপ কমাতে দেশে প্রচলিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বৃত্তিপ্রদান কর্মসূচিকে শিক্ষা খরচ হিসেবে ব্যবহার করার সুপারিশ করেছেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তথ্য-বিবরণী থেকে প্রাপ্ত তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে ২৯৬০ কোটি টাকা সরবরাহ করে সরকার বেশ দ্রুতই এই খাতে অর্থসংস্থান করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে একজন প্রাথমিকে একজন শিক্ষার্থীকে ১০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা উপবৃত্তি দেয়ার সুপারিশ করেন তিনি। কোভিড-১৯ এর কারণে দেশে দরিদ্রতার রূপ কিভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা জানতে পিপিআরসি এবং বিআইজিডি যৌথভাবে পুরো দেশজুড়ে তিনধাপে একটি টেলিফোন জরিপ করে। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত এটি করা হয়। এই গবেষণার তৃতীয় ধাপের দ্বিতীয় অংশ হলো ‘কোভিড ইমপ্যাক্ট অন এডুকেশন লাইফ অব চিলড্রেন’। ফলাফলে দেখা গেছে, দূরবর্তী শিক্ষণের জন্য যে সুবিধা থাকা দরকার তা আছে বা ব্যবহার করছে ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী।

ফলে সরকারি ও বেসরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে এই বন্ধে লেখাপড়া শেখার হার খুব কম। অবশ্য যারা দরিদ্র নয় এবং শহরের বস্তিতে থাকে মাধ্যমিক পর্যায়ের সেসব শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার একটু বেশি। একই সঙ্গে কোচিংয়ে বা প্রাইভেট টিউশনে যাওয়ার প্রবণতা মাধ্যমিক স্তরে ৬১ শতাংশ। যারা দরিদ্র নয়, তাদের মাঝে এই হার বেশি (৭৪ শতাংশ)। আবার শহরের বস্তি এলাকায় খরচ বেশি হওয়ার কারণে কোচিংয়ে যুক্ত হওয়ার হার কম।

পড়াশোনায় যুক্ত থাকার আরেকটি পদ্ধতি হলো বাবা-মা বা ভাই-বোনের সহায়তায় পড়া। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ের চেয়ে মাধ্যমিক পর্যায়ে এই সহায়তাপ্রাপ্তির হার কম। মাদ্রাসায় বদলি হওয়ার প্রবণতা বেড়ে আগের চেয়ে চার গুণ হয়েছে এবং মাধ্যমিকের চেয়ে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। যদিও ৯৫ শতাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানকে স্কুলে পুনরায় পাঠাতে আগ্রহী তবুও অর্থনৈতিক অবস্থাটি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

জরিপে দেখা যায়, শিক্ষণ ঘাটতির মুখে রয়েছে প্রাথমিক স্তরের ১৯ শতাংশ এবং মাধ্যমিক স্তরের ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। শহরের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষণ ঘাটতির ঝুঁকি বেশি বলে পরিলক্ষিত হয়েছে। নারীদের ২৬ শতাংশ এবং পুরুষদের ৩০ শতাংশ রয়েছে এই ঝুঁকিতে। দরিদ্র শ্রেণির মানুষদের মাঝে যারা অতি দরিদ্র, সেইসব পরিবারের মাধ্যমিক স্কুলগামী ৩৩ শতাংশ পুরুষ শিক্ষার্থীর কোভিড-সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কায় স্কুল ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris