৭ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

ঈদকেন্দ্রিক রাজশাহীর পোষাক বাজারে জনস্রোত ঠেকানো দায়?

প্রকাশিত: ৬ মে ২০২১, ২:৩১ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: lead
ঈদকেন্দ্রিক রাজশাহীর পোষাক বাজারে জনস্রোত ঠেকানো দায়?
বিজ্ঞাপন

স্টাপ রিপোর্টার : আজ ২৩শে রমজান। পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি আছে ছয় থেকে সাত দিনের মতো। ঈদকে কেন্দ্র করে নগরীর মার্কেট, বিপনী বিতান আর ফুটপাতের দোকানগুলোতে যেনো ঢল নেমেছে জনসমুদ্রের। না মার্কেট, না রাস্তাঘাট, না ফুটওভার ব্রিজ কোথাও যেনো বিন্দু পরিমাণ ফাঁকা নেই। দেশের স্বাভাবিকবস্থা আর চলমান করোনাকালীন প্রাদুর্ভাব কোনটার মধ্যেই যেনো কোন পার্থক্য খুজে পাওয়া দায় বাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখে। শারিরীক দূরত্ব মেনে চলাতো দূরের কথা চুল পরিমাণ জায়গা নেই মার্কেটের ভেতরে ও বাইরে।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুপুর বারটা থেকে তিনটা নাগাদ এমনই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে নগরীর সাহেব বাজার, আরডিএ মার্কেট, খাঁচা মার্কেট, কোর্ট বাজার মার্কেট, নওদাপাড়া বাজার নতুন মার্কেটসহ নগরীর ফুটপাতের পোষাকপল্লীতে। স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করলে মার্কেট বন্ধ করে দেবার কথা থাকলেও মার্কেটের ভেতর প্রশাসনের নজরদারির বিষয়টি খুব একটা চোঁখে পড়েনি। তবে, সাহেব বাজার ফুটওভার ব্রিজ ও মনিচত্বরের মধ্যবর্তী স্থানে পুলিশের একটি ভ্যানকে দাড়িয়ে থাকতে দেখাগেছে। গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে একদিনে কোভিড-১৯ ব্যাধিতে সর্বোচ্চ মৃত্যুবরণ করেছে নয়জন।

নগরীর অন্যান্য স্থানের মার্কেট কিংবা পোষাকের দোকানগুলোর চাইতে আরডিএ মার্কেটের চিত্র অনেকটাই ভিন্নরকম। সেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক থাকার প্রবণতা কিছুটা লক্ষ্য করা গেলেও শারীরিক দূরত্বের মতো অত্যাবশকীয় বিষয়টি যেনো জিরো টলারেন্সকেও হার মানাই। করোনাকালিন সময়ে স্বাস্থ্যবিধিনুযায়ী সর্বনিম্ন তিন থেকে চার ফিট দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও ইঞ্চি পরিমাণও দূরত্ব লক্ষ্য করা যায়নি পোষাকপল্লীতে। নগরীর পোষাক আর পাদুকার দোকানগুলোতে এই ধরনের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

আরডিএ মার্কেটের প্রতিটি লেনে কত মানুষ আছে তা গুণে বের করা অসম্ভব একটি বিষয়ে দাড়িয়েছে। সাগরপাড়া নিবাসী সাঈদ চৌধুরী বলেন, অন্যান্য ঈদের চাইতে এবার আরডিএ মার্কেটে ক্রেতাদের উঁপচে পরা ভিড় বেশি মনে হচ্ছে। শুধু মার্কেটের ভেতরেই না, পাশ্ববর্তী রাস্তা, ফুটপাত ও ফুটওভার ব্রিজেও মানুষের আনাগোনা বেড়েছে অসম্ভব রকমের। এদিকে, ক্রেতাদের অতিরিক্ত ঢল দেখে পোষাক ও পাদুকা ব্যবসায়িরাও পণ্েযর দাম বৃদ্ধি করেছেন কয়েকগুণ বলে মন্তব্য সাধারণ ক্রেতাদের।

সরকারি চাকুরিজীবিদের বেতন ভাতা পাবার জন্যই হয়তো এতোটা ভিড় হচ্ছে বলেই মন্তব্য অনেকের। আবার কেউ কেউ বলছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে নগরীর মার্কেটগুলোতে বৃদ্ধি পাবে ক্রেতাদের আনাগোনা। এদিকে নগরীর সচেতন নাগরিকদের মন্তব্য অন্যরকম। তাঁরা বলছেন, ঈদকেন্দ্রিক নগরীর মার্কেটগুলোতে দিনদিন যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রেতার আনাগোনা, ঈদ পরবর্তী সময়ে এই অবহেলা আর অমান্যতার পাশ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ভয়াবহ। তাই সময় থাকতে সচেতন না হলে এর খেসারত আমাদেরকেই দিতে হবে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন