শনিবার

১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
যতক্ষণ প্রাণ থাকবে, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব: প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী ইন-হাউস প্রশিক্ষণ কর্মশালা লন্ডনে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষায় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন রাজশাহীর ত্বাকি সবুজ ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে : এমপি মিলন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পেলেন বিএনপি নেতা সুইট বৃদ্ধ খুন : নওগাঁয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আসামিপক্ষের বাড়িতে ভয়াবহ হামলা-আগুন হামলা থেকে সরে এসে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প লালপুরে প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার ও নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল ভারী বর্ষণে রুয়েটের আবাসিক হলে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারলে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব : এমপি মিলন

নগরীতে গোডাউনে আগুন

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর গনকপাড়ায় তুলার গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকল বুধবার আনুমানিক ১২টা ত্রিশ মিনিটের নগরীর সাহেব বাজার গনকপাড়া (বিহারীপাড়া) রাজমহল আবাসিক হোটেলের সামনের এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ছয়টি ইউনিট একসাথে কাজ করে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে। নিজেদের রিজার্ভের প্রায় পঁচিশ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করা হয় আগুণ নেভানোর জন্য বলে জানান একজন ফায়ার সার্ভিসকর্মী। গতকাল দুপুরে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিস।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারি পরিচালক (ডিএডি) জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজশাহী সদর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে প্রায় ঘন্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। এছাড়া কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে প্রাথমিকভাবে তা জানা যায়নি। তদন্ত করে সেটি জানা যাবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলেও তিনি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, শামীমের তুলার গোডাউনে লাইলী নামের একজন কর্মী ভেতরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে তার আত্ম চিৎকারে আশেপাশের লোকজন দৌড়ে আসে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই খুব দ্রুত গতিতে গোডাউনের ভেতরের আগুণ ছড়িয়ে পড়ে পুরো গোডাউন জুড়ে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করা হলে তারা এসে অনেক চেষ্টার পর আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে। গোডাউনটি ঐ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আব্দুল্লাহর কাছ থেকে শামীম নামের একজন তুলা ব্যবসায়ি ভাড়া নিয়েছিলেন।

ঐ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার বেগম(৬০), হোসনে আরা (৪০) ও শাহীন (৩২) সহ আরো অনেকেই বলেন, এই ধরনের জরাজির্ন ও ঘণবসতি আবাসিক এলাকা থেকে সকল প্রকার গোডাউন ও মজুদখানা সরিয়ে নেবার জন্য একাধিকবার বলা হয়েছিল গোডাউন মালিকদেরকে। কিন্তু, তারা আমাদের কথাই কোন প্রকার কর্ণপাত না করে বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে নিজেদের গোডাউনগুলো পরিচালনা করছেন। স্থানীয়রা আরো জানান, গোডাউন এলকার আশেপাশে ও চলাচলের জন্য অত্যন্ত সংকীর্ণ রাস্তাটির উভয় পাশে অব্যবহৃত ও নষ্ট হয়ে যাওয়া তুলা স্তুপাকারে ফেলে রাখতো তারা।

অতিশীঘ্রই এই ঘণবসতি এলাকা থেকে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ গোডাউনের অপসারণ করে নেয়ার দাবি তোলেন স্থানীয়রা। আগুন লাগার পর পরই আশেপাশের বাড়িঘর থেকে মহিলা ও শিশু কিশোররা পালাতে শুরু করে। ঐ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার বেগম(৬০) ও হোসনে আরা (৪০) জানান, আমরা আগুণের লেলিহান দেখামাত্রই রান্নাঘরের গ্যাসসিলিন্ডার ও বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে বাড়ি ছেড়ে প্রধান সড়কে চলে আসি। আগুনের লেলিহান বিদ্যুতের কেবলে ভাল করে লাগলে মুহুর্তের মধ্যেই সেটি আশেপাশের শোরুম, মার্কেট ও দোকানে ছড়িয়ে পরতো। স্থানীয় বিভিন্ন বাসাবাড়ির ছাদ থেকে আগুণ নেভানোর চেষ্টা করার প্রেক্ষিতে আগুণ আশেপাশে ছড়াতে পারেনি। তবে, ফায়ার সার্ভিসের দল আর কয়েক মিনিট পরে পৌছালে আগুনের ভয়াবহতার মধ্যে পড়তে হতো অনেককেই বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা।

গোডাউনটি ছিল তুলা ব্যবসায়ী শামীমের। পাশের্^ আরো রয়েছে একটি তুলার গোডাউন ও প্লাস্টিকের পাইপের ও অন্যান্য প্লাস্টিক সামগ্রীর মজুদ ঘর ছাড়াও ছিল সাকিল এবোনাইট স্টোর। ফায়ার সার্ভিস টিম ঘটনাস্থলে পৌছতে আর একটি দেরি করলেই আগুনের লেলিহান পাশর্^বর্তী আরো একটি তুলা ও প্লাস্টিকের গোডাউন সহ অন্যান্য বাসাবাড়িতে ছড়িয়ে পরতো। যেটা অনেক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতো বলে মন্তব্য স্থানীয় ও প্রত্যক্ষ দর্শীদের। গোডাউনে কর্মরত থাকা লাইলী ও গোডাউন মালিক শামীমসহ অন্যান্য মজুদখানার মালিককে তাৎক্ষণিকভাবে খুজে পাওয়া যায়নি বিষয়টি সম্পর্কে তাদের বক্তব্য নেবার জন্য।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris