৩০ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

মান্দায় জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসক ও ঔষুধ সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আঞ্চলিক, স্বাস্থ্য-পরিচর্যা-পরামর্শ
মান্দায় জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসক ও ঔষুধ সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত
বিজ্ঞাপন

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ : জরাজীর্ণ ভবন, নিজস্ব অবকাঠামোর অভাব এবং তীব্র জনবল ও ঔষুধ সংকটে নওগাঁর মান্দা উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে গ্রামীণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। ফলে বাধ্য হয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বেসরকারি হাসপাতালের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, মান্দা উপজেলায় মোট নয়টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে খাসমান্দা, মান্দা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর, জোতবাজার ও কালিগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ভবনগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের ছাউনি চুইয়ে ঘরে পানি পড়ে। এমন প্রতিকূল পরিবেশে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো ও সেবা নেওয়া উভয়ই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, বাকি পাঁচটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোনো নিজস্ব ভবনই নেই। স্থানীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের ভবনে কোনোমতে পরিচালিত হচ্ছে এসবের কার্যক্রম। নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে প্রতিদিন।
অবকাঠামোর পাশাপাশি সংকট প্রকট জনবলেও। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক, একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মিডওয়াইফ ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ মোট ৫টি করে নয়টি কেন্দ্রে ৪৫টি পদ থাকার কথা। তবে বাস্তবে বর্তমানে কোনো কেন্দ্রেই এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। ৪৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন—অর্থাৎ মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জনবল দিয়ে কোনো রকমে খুঁড়িয়ে চলছে কার্যক্রম।
সরেজমিনে জোতবাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ময়নুল হাসান জরাজীর্ণ ভবনে একা হাতেই সামলাচ্ছেন সব কাজ। তিনি জানান, ভবনের টিনের চাল ফুটো হয়ে বৃষ্টিতে আসবাবপত্র ও ওষুধপত্র ভিজে যায়। প্রতিদিন শতাধিক রোগী আসলেও কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় নিজেকেই তালা খোলা থেকে শুরু করে ঝাড়ু দেওয়া, রোগী রেজিস্ট্রি করা ও ওষুধ বিতরণের কাজ করতে হয়। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে কেবল একজন মিডওয়াইফ দায়িত্বে আছেন।
একই চিত্র খাসমান্দা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রেও। সেখানকার ফার্মাসিস্ট মোজাম্মেল হক জানান, প্রতিদিন ৮০ জনের বেশি রোগী আসলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় মাসের ১৮ থেকে ২০ দিনেই ঔষুধ ফুরিয়ে যায়। এতে এসে খালি হাতে ফিরে যাওয়া রোগীদের ক্ষোভ সামলাতে হয় তাঁকে। জরাজীর্ণ ভবনে তিনি একাই এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
সেখানকার সেবাগ্রহীতা ষাটোর্ধ্ব ময়না বেগম অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, কোমরব্যথা, জ্বর ও কাশি নিয়ে এসে তিনি শুধু প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন ও ওমিপ্রাজল পেয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুফল কুমার অবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণ ও শূন্য পদে দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি জানান। এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব-উল আলম বলেন, জনবল ও ঔষুধের ঘাটতি সত্ত্বেও সেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে; অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি শূন্য পদে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন করা হলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার এই সংকটের দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন