৬ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

সুইমিংপুল অপসারণ করতে গিয়ে হুমকীর মূখে আরডিএ’র অভিযান দল

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: আইন-আদালত, স্পেশাল নিউজ
সুইমিংপুল অপসারণ করতে গিয়ে হুমকীর মূখে আরডিএ’র অভিযান দল
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অনুমোদনের বাইরে আল রাইশা টাওয়ার নামে ১০ তলা ভবনের ছাদে সুইমিংপুল নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। অনুমোদনহীন ওই স্থাপনা অপসারণে জন্য এর পূর্বে নির্শেনা দিলেও তিনি তা অমান্য করেন। এরপর মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে অভিযান চালাতে গেলে আরডিএর ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন ভবনের মালিক আব্দুর রশিদকে গেট খোলার জন্য বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বে ও তিনি গেট না খুলে ভেঙ্গে প্রবেশ করার কথা বলেন। সেইসাথে তিনি বলেন, ভিতরে প্রবেশ করলে ‘দুই চারটে খুন হলে সে দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে’ বলে ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকী দেন।
এদিকে আব্দুর রশিদ কোনভাবেই গেট না খুললে ম্যাজিস্ট্রেট হুকুম দিয়ে গেট ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য, লেবার ও গণমাধ্যম কর্মীরা প্রবেশ করেন। এরপর তারা উপরে উঠে যেয়ে অবৈধ সুইমিংপুলে ভেঙ্গে ফেলে। এতে আব্দুর রশিদ আরো রাগান্বিত হয়ে আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটকে দেখে নেয়ার হুমকিসহ খেয়ে ফেলার হুমকী দেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, আব্দুর রশিদ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে এক চিকিৎসককে অপহরণ মাদক ও আদম ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তারা আরো বলেন, আব্দুর রশিদ অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। তার সাথে এলাকার কারো সখ্যতা নাই। এমনটি ফ্লাট মালিকদের সাথেও তিনি খারাপ ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে আব্দুর রশিদ এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তার ভবনের দুটি ফ্ল্যাটে দুই নেতার ভাই বসবাস করছেন বলেও দাবি করেন তারা।
এদিকে, অনুমোদনহীন সুইমিংপুল নির্মাণের বিষয়ে আরডিএর পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানা গেছে জানিয়েছে। ভবনের অনুমোদিত নকশা ও নির্মিত স্থাপনার মধ্যে কোনো ধরনের ব্যত্যয় রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন এর নিকট সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি এই ভবনের অবৈধ স্থাপনা তিনি উচ্ছেদ করতে আসেন। এ সময়ে বাড়ির মালিক পক্ষ থেকে তাঁকে সহযোগিতা করছিলেন না। আইনী ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁকে প্রধান ফটক ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। এরপর ছাদে যেয়ে ঘটনা সত্যতা পান। সুইমিংপুল এর কোন প্রকার অনুমোদন নাই। অতিরিক্ত পানির ওজনের কারনে আগামীতে অনেক ক্ষতি হবে বলে জানান তিনি। শুধু তাই নয় পানির স্যাঁতসেতে ভাব হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এসময়ে তিনি নানাদিক থেকে তৎবীর করার চেষ্টা করছিলেন।

 

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন