২১ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

বাগমারায় রাজপ্রাসাদ, জমিদার বাড়ি দৃষ্টিনন্দন করার দাবি দেশি-বিদেশী দর্শনার্থীদের

প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: স্পেশাল নিউজ
বাগমারায় রাজপ্রাসাদ, জমিদার বাড়ি দৃষ্টিনন্দন করার দাবি দেশি-বিদেশী দর্শনার্থীদের
বিজ্ঞাপন

ফারুক আহমেদ : রাজশাহীর বাগমারায় একশত বছর আগে রাজা ছিল, রাজ্য ছিল কিন্তু এখন রাজা নেই, রাজ্য নেই, তবুও প্রকৃতির অপরূপ রূপে ঘেরা এখনো সেই প্রকৃতির রূপে মনোরম পরিবেশে রাজার রাজপ্রাসাদ আছে দাঁড়িয়ে। নেই কোন মানুষের কোলাহল তেমনি এক নান্দনিক দৃষ্টিনন্দিত অপরূপ ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি বাগমারার হামিরকুৎসা গ্রামে । একশত বছরের পুরনো রাজপ্রাসাদ এখনো দাঁড়িয়ে আছে রাজার রাজত্বে। একসময় এই রাজপ্রাসাদে রাজার অতিথি ও সাধারণ মানুষের কোলা হলে মুখরিত থাকতো। কিন্তু এখন আর সেই রাজপ্রাসাদে মানুষের নেই কোলাহল অতিথি শালায় নেই অতিথি। এই রাজপ্রাসাদ এখন অতিথি শূন্য হয়ে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। কোথাও পলেস্তেরা খুলে পড়ছে আবার কোথাও কাঠের জানালা ভেঙ্গে পড়ছে লাল পিঠের দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল । বিভিন্ন প্রজাতের গাছগাছালি আর আগাছায় ভরে গেছে বন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে চারিদিক। জরাজীর্ণ খোলা জানালা দিয়ে শুধু বাতাসের শব্দ আর পাখির ডাক শুনতে পাওয়া যায়। কেউ আর জানালাগুলোয় দাঁড়িয়ে থাকে না। সে সময় রাজার জমিদার বাড়ির লোকজন অতিথিরা এই জানালায় বাতাস খেতেন এবং কেউ না কেউ জানালায় দাঁড়িয়ে থেকে বাহিরটা দেখতেন।অতিথিরা দেখতেন রাজা কিভাবে রাজ্যসভা পরিচালনা করেন। রাজার রাজ্যসভায় ছিল সেনাপতি,নায়েব উজির, নাজির,সিপাহী, পাইক- পিয়াদা আরো কত কি। হামির কুৎসা গ্রামের এই জমিদার বাড়িটি এখন খোলা দরজা, খোলা জানালা, ভেঙ্গে পড়ছে ইট ও পাথর। জমিদার বাড়িটি আর দেখাশোনার জন্য কেউ নেই। এই জমিদার বাড়িটির কাঠের জানালা ও লাল ইট এখনো ঐতিহ্য বহন করে চলছে। রয়েছে অসংখ্য কারুকার্যে ভরপুর। রাজপ্রাসাদের দেয়াল গুলোয় দেখা দিয়েছে ফাটল। রাজ প্রাসাদটিকারুকার্যে ভরা। রাজপ্রাসাদের কারু কার্য প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। এই জমিদার বাড়িতে এক সময় মানুষের কোলাহল থামতোনা। সেই জমিদার বাড়ি এখন নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাজার এই জমিদার বাড়িটি ১হাজার দরজার হাওয়ায় মানুষ নাম রেখেছিল হাজারদুয়ারি জমিদার বাড়ি। অতিথিদের পদচারণায় মুখরিত থাকতো এই জমিদার বাড়ি। এই রাজপ্রাসাদের ভিতরে ঢুকতেই দেখা মেলে এখন বড় বড় অংশ ধসে পড়েছে। আশপাশে প্রকৃতিতে গজিয়েছে আগাছা। অবহেলা মুছে যায় না একটু একটু করে আজ এই রাজপ্রাসাদ টি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। একটু বাহির থেকে দেখলে মনে হবে এই রাজপ্রাসাদ টি আমাদের মন জুড়িয়ে দেয়। মনে হয় চলে গেছি রাজার রাজত্বে। রাজপ্রাসাদের ভেতরে ঢুকলে এমনিতেই মন খারাপ হয়ে যাবে অবহেলার অযত্নে আজ এই জমিদার বাড়িটির কি অবস্থা হয়েছে। একসময় এই রাজপ্রাসাদের অতিথি খানায় রাজার অতিথিরা আসতেন। অতিথিশালায় অতিথিরা থাকতেন খেতে এবং ঘুরে বেড়াতেন। বিনোদন শালায় করতেন বিনোদন উপভোগ করতেন। রাজা ও তার রাজপ্রাসাদের কার্যক্রম চালাতেন জমিদার বাড়িতেই বসেই রাজা রাজ্যসভার কার্যক্রম চালাতেন। প্রজাদের নিকট থেকে নিতেন খাজনা। পরিচালিত করতেন রাজ্যসভা। হামিরকুৎসা গ্রামের এই রাজ প্রাসাদটি জরাজীর্ণ পুরাতন হয়ে গেলেও এখনো সেই রাজ প্রাসাদের মতোই দাঁড়িয়ে আছে শুধু নেই রাজা তবু রাজার বাড়ি জমিদার বাড়ি। রাজ প্রাসাদটি এখনো ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। সেখানে গেলে মনে হবে এখনো আমরা রাজার রাজ্যে বসবাস করছি। বাগমারার হামির কুৎসা গ্রামের এই রাজার রাজ প্রাসাদ টি দেখতে এখনো দেশ বিদেশের পর্যটক ও দর্শনার্থীরা আসছেন রাজার জমিদার বাড়িটি ঘুরে ঘুরে দেখার জন্য। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এখনো যদি এই রাজ প্রাসাদ যদি ভালো করে সংস্কার মেরামত করা হয় তাহলে পর্যটক দর্শনার্থীর ভিড় আরো বেড়ে যাবে। দেশের দূর-দূরান্ত থেকেও দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আসবেন এই রাজার রাজপ্রাসাদ দর্শন করতে। কিছুটা কম হলেও এই রাজার জমিদার বাড়ি দেখতে এখনো দর্শনার্থীরা আসছেন। হামির কুৎসা গ্রামের রাজ প্রাসাদটি দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলছেন, রাজ প্রাসাদটি শত বছরের নান্দনিক ও দর্শনীয় ঐতিহ্যবাহী যদি এই রাজপ্রাসাদ টি নান্দনিক ভাবে মেরামত ও সংস্কার করে এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সংরক্ষণ করে দেয় তাহলে আরো দেশ-বিদেশের পর্যটক ও দর্শনার্থীরা এই রাজ প্রাসাদ টি দর্শনে আরো ভিড় করবেন। বাগমারা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাশেদুল হক ফিরোজ জানান, হামির কুৎসার এই রাজ প্রাসাদ টি দর্শনীয় এবং নান্দনিক ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি। এই জমিদার বাড়ি মেরামত ও সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় তাহলে প্রতিমাসে সরকার রাজস্ব আয় করতে পারবেন। পর্যটক দর্শনার্থীরা জানতে পারবেন রাজার আমলে কিভাবে রাজা রাজ্য পরিচালনা করতেন। রাজার রাজ্যে প্রজারা কিভাবে জীবনযাপন করতেন। রাজা তার প্রজাদের কিরকম সুযোগ-সুবিধা দিতেন। রাজার আমল কেমন ছিল। কিভাবে রাজা রাজ্য পরিচালনা করতেন। দর্শনের আরো কিছু জানতে পারবেন বুঝতে পারবেন শিখতে পারবেন এই থেকে জ্ঞানঅর্জুন করতে পারবেন পর্যটক দর্শনার্থীরা। বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ জানিয়েছেন, হামিরকুৎসার রাজ প্রাসাদ জমিদার বাড়িটি সংস্কার ও মেরামত করার জন্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হয়েছে জমিদার বাড়িটির আশপাশে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে পুনরায় সংস্কার ও মেরামত করার জন্য। সেই সাথে বাগমারায় যে কয়টি জমিদার বাড়ি আছে সবকটি জমিদার বাড়ি যাতে সংরক্ষণ করা যায় তার জন্য বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহ কে। এতে করে দেশের দর্শনার্থী ও বিদেশী পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যাবে। রাজপ্রাসাদ দেখতে দূর দূরান্তের মানুষ ছুটে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন