২৮ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

জমি ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনায় মামলা নিতে বোয়ালিয়া থানার গড়িমসি?

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
জমি ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনায় মামলা নিতে বোয়ালিয়া থানার গড়িমসি?
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে এক জমি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসায়ী হামলার শিকার হয়ে থানায় লিখিত এজাহার জমা দিলেও রহস্যজনক কারণে মামলা নেয়নি পুলিশ। সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে কয়েকদিন রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে ভর্তি ছিলেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ওই ব্যবসায়ী তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় কর্মরত উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার কাছে হামলার ঘটনা খুলে বললে তিনি তাকে থানায় লিখিত এজাহার জমা দিতে বলেন। এরপর তার কথামতো থানায় লিখিত এজাহার জমা দেন হামলার শিকার ওই ব্যবসায়ী। লিখিত এজাহার জমা দিলে ঘটনাস্থলে তদন্তে যান পুলিশের একটি টিম। এ বিষয়ে মামলার বাদী শাহীকে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করে থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নূর ইসলাম। পরবর্তীতে ওই ব্যবসায়ী মামলা দায়ের করার জন্য ঘুরতে থাকেন থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলামের কাছে। তিনি মামলা রেকর্ড করছি বলে ঘুরাতে থাকেন ওই ব্যবসায়ীকে। ফলে থানায় এজাহার জমা দেওয়ার ১০দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও মামলা না নেওয়ায় আবারো সন্ত্রাসী হামলার কবলে পড়তে পারেন বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী শহিদুল হাসান শাহী।
থানায় জমা দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওই ব্যবসায়ীর সাথে তার আপন চাচা, ভাই ও ভাতিজা’র বিরোধ চলে আসছিলো। এর আগেও এই বিরোধের জের ধরে তার মোটরসাইকেল ভাংচুর ও তার স্ত্রীকে মারধর করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে বিজ্ঞ আদালতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তধীন রয়েছে। হামলাকারীদেও বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর থেকে তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। বিষয়টি বুঝতে পেরে এজাহারের বাদী শাহী তার নিজস্ব বসত বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মতিহার থানাধীন কাজলা এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছে। ঘটনার দিন গত ১২ই জানুয়ারী সকালে ব্যবসায়ী শাহী মিস্ত্রিদের নিয়ে তার বসতবাড়ির নিজ নামীয় বৈদ্যুতিক মিটার ও থাইগ্লাস খুলে নিতে গেলে তার আপন চাচা ইউসুফের নির্দেশে তার ভাই সনি, সাদ্দাম, চন্দন ও তার ভাতিজা সৌম্যসহ অজ্ঞাত ৭-৮জন হামলা চালায়। এসময় তাকে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারি মারধর করা হয়। এছাড়াও হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে তার ডান পায়ের হাটুর উপরে রক্তাক্ত জখম করে। হামলা চলাকালে তার প্যান্টের ডান পকেটে থাকা ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
তার কাজে সহায়তা করতে তার স্ত্রী তামান্না ইয়াসমিন তমা কাজলার ভাড়া বাড়ি থেকে রিক্সাযোগে সাধুর মোড়স্থ তার স্বামীর বসতবাড়ির সামনের রাস্তায় এসে পৌঁছালে তার ভাই, ভাতিজার সাথে তার মা হাফিজা বেগম, শিখা খাতুন, রুমেলা, সুবর্না, তিশা ও মেরিনা তাকেও এলোপাথারী মারপিট করে জখম করে। এছাড়াও তার পরনের কাপড় ধরে টানা হিচড়া করে তার শ্লীলতাহানী ঘটায়। এসময় তার গলায় থাকা ০৮ আনা স্বর্ণের চেইন নিয়ে নেয়। পরে তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে হামলাকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করে তার স্ত্রী জখমী অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করে। দুই দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ১৪ই জানুয়ারী বোয়ালিয়া মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন জমি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসায়ী শহীদুল হাসান শাহী। কিন্তু তার এজাহার থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম আমলে না নিয়ে কালক্ষেপনের বিষয়টি রহস্যজনক বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) গোলাম রব্বানী শেখ জানান, এ ঘটনার বিষয়ে তিনি বোয়ালিয়া থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার ও অফিসার ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। বোয়ালিয়া মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোস্তফা কামাল জানান, তিনি হামলার ঘটনায় থানায় জমাকৃত এজাহারটি আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলামকে।
এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, থানায় জমাকৃত এজাহারটিতে অনেক ভুল আছে। অতিরিক্ত আসামীর নাম উল্লেখ করা আছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তধীন রয়েছে। এজাহারের বাদী এক সময় থানায় আসলে সেটি আমরা জিডি হিসেবে আমলে নিবো। লিখিত এজাহার নিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সেটি জিডি করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, তাকে এক সময় থানায় পাঠিয়ে দিয়েন। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন