২ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

সাব্বির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে চন্দ্রিমা থানা ঘেরাও

প্রকাশিত: ৫ মে ২০২৫, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
সাব্বির হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে চন্দ্রিমা থানা ঘেরাও
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার কোটাপুকুর মোড়ে সোমবার (০৫ মে) বিকেলে সাব্বির হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং নিরীহ তিন যুবককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক নারী-পুরুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে তারা চন্দ্রিমা থানা ঘেরাও করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রকৃত হুকুমদাতা গোলাপ হোসেনকে হত্যার এজাহার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নিরপরাধ অন্তর, বাদশা ও শান্তকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি ছোটবনগ্রামে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তরুণ সাব্বির। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অন্তর, বাদশা ও শান্তকে আসামি করা হয়। তবে ভুক্তভোগীদের পরিবার এবং একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ওই তিনজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ উঠেছে, মূল অভিযুক্ত গোলাপ হোসেন পুলিশকে প্রভাবিত করে নিজের নাম এজাহার থেকে বাদ দিয়ে নিরীহ তিনজনকে ফাঁসিয়েছেন। বিক্ষোভে বাদশা, শান্ত ও অন্তরের পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের ছেলেরা নির্দোষ, অথচ আজ খুনের আসামি হয়ে সমাজে মুখ দেখাতে পারছে না।” মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মোসা. সুরিনা বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ছাড়া উপায় নেই। আমরা সুবিচার চাই।”
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, হত্যার পেছনে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে জড়িত ছিলেন গোলাপ হোসেন ও তার সহযোগীরা। এমনকি ঘটনার সময় গোলাপের উপস্থিতির সিসিটিভি ফুটেজ থাকার কথাও জানান তাঁরা। তারা আরও অভিযোগ করেন, মামলার প্রধান সাক্ষী মো. নজরুল হলেন গোলাপ হোসেনের আত্মীয় এবং তিনি হত্যাকাণ্ডের পর রক্ত মোছার কাজ করেন। অথচ তাকেই নিরপেক্ষ সাক্ষী বানিয়ে মামলার তথ্য বিকৃত করা হচ্ছে।
এজাহারের ১ নম্বর আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে অন্তর, বাদশা বা শান্তের নাম উল্লেখ নেই বলেও দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভ শেষে তারা চন্দ্রিমা থানায় গিয়ে থানার সামনে অবস্থান নেন এবং চার দফা দাবি পেশ করেন—প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, বাদ দেওয়া ব্যক্তিদের পুনরায় অন্তর্ভুক্তি, নিরীহদের নাম প্রত্যাহার এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। একপর্যায়ে থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে উত্তেজনা ছড়ালেও পরে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করেন, মামলাটি পুনঃতদন্ত করা হবে এবং দোষীদের ছাড়া দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এলাকাবাসী বলেন, “এভাবে যদি খুনের মামলায় প্রকৃত অপরাধী ধরা না পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে।” প্রবীণ এক ব্যক্তি বলেন, “প্রকৃত খুনি বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর নিরীহরা আত্মগোপনে—এটা কেমন বিচার?”
অন্তর, বাদশা ও শান্তর পরিবারের দাবি, তারা চায় সন্তানদের নাম মুছে ফেলা হোক এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হোক। এলাকাবাসীর ভাষ্য, নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত খুনির শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

 

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন