২ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

বাগমারায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে এবার অসহায় ১৫ পরিবার গুরুতর অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩ মে ২০২৫, ৯:২৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
বাগমারায় ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে এবার অসহায় ১৫ পরিবার গুরুতর অভিযোগ
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়ন বুজরুক কোলা গ্রামে জোরপূর্বক অন্যের জমি দখলে নেবার অভিযোগ উঠেছে। এলাকার ভূমি দস্যু ও একাধিক মামলার আসামী কাবিরুল ইসলাম ও তার চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পিতা মোসলেম মন্ডল এইধরণের অপকর্মে প্রত্যক্ষভাবে সহোযোগিতা করে নিজ সন্তানদের। গ্রামের ১৫টি পরিবারের পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া জমি অভিযুক্তরা ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে জোরপূর্বক দখল নেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। শনিবার (০৩ মে) বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রাজশাহী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন ভুক্তভোগী বেশ কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীরা জানান, কাবিরুল রাজশাহী সদর ভূমি অফিসে দলিল লেখক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে। তারই সুবাধে গ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তির জমির কাগজ নকল করে জবরদখল করার অভিযোগ আছে পরিবারটির বিরুদ্ধে। জমি জালিয়াতির ব্যাপরে ভূমি দস্যু হিসেবে পরিচিত কাবিরুল ও তার পিতা মোসলেম মন্ডল গং। জমির দলিল ও কাগজপত্রাদি জালিয়াতির বিষয়ের প্রতিবাদ করার জন্য দুজন ব্যক্তিকে প্রাণ দিতে হয়েছে কাবিরুল ও তার বাবার নামে। ১৯৮৯ ও ২০২১ সালে দুজন ব্যক্তি প্রাণ হারায় তাদের হাতে। গত ০৬/০৪/১৯৮৯ ইং তারিখে নাদের আলী মাস্টারকে প্রকাশ্য দিবালকে হত্যা করে অভিযুক্তরা। যার বাগমারা থানার মামলা নং-২১। ধারা- ১৪৭/১৪৮/৩০২/১০৯ দ:বি। পেশিশক্তি আর অর্থের অপব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে সালিশ মীমাংসার মাধ্যমে সে যাত্রায় বেঁচে যায় তারা। কিন্তু জরিমানা হিসেবে গুণকে হয় পাঁচ বিঘা জমি ও ৬০ হাজার টাকা। পরবর্তীকালে আবারো আরো একটি হত্যা মামলার সাথে যুক্ত হয় তাদের নাম। কাবিরুল ইসলাম এর জমি জালিয়াতির প্রতিবাদ করান কারণে এবারো প্রকাশ্য দিবালকে বাগমারা থানার মাধাইমুড়ি গ্রামের হাবিবুর রহমানকে হত্যা করে তারা। যার বাগমারা থানার মামলা নং-২৩, তারিখ: ২৩/০৪/২০২১। এই মামলার ধারাগুলো ছিল ১৪৩/৪৪৭/৩২৬/৩২৫/৩০৭/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। এছাড়াও জমির জাল দলিলপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্রাদি সহ কাবিরুল ও তার বাবা মোসলেম মন্ডল র‌্যাব-৫ এর হাতে একবার আটক হন। ভূমি দস্যুদের এবার চোখ পড়েছে ১৫টি পরিবারের সর্বমোট ৪৮ বিঘা জমির উপর। ভূমি দস্যু ও চিহ্নিত ক্যাডার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে অপরাধমূলক একাধিক সংবাদ। তারমধ্যে অন্যতম হলো ১৮-০১-২০১২ ও ২৯-০১-২০০৯ তারিখে দৈনিক নতুন প্রভাত পত্রিকায়, ২৫-১১-২০১২ তারিখে দৈনিক সোনালী সংবাদে ও ১৭-০১-২০১২ তারিখে দৈনিক সানশাইন পত্রিকায়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগী লিয়াকত, মুরাদ, শামসুল, সেকেন্দার, আইয়ুব, আব্দুস সাত্তার দিং, অভিল, অসিত,নিশিত, মানিক, আরতী বালা, বাক্কার, মনোয়ার, দিপালী ও রুপালী, মিলন, মন্তোষ, শফিকুল সহ আরো অনেকেই।
ভুক্তভোগীরা লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রায় ৪০ বছরের অধিক সময় ধরে ভোগ-দখলকৃত জোত সম্পত্তিতে জোরপূর্বক দখলের পায়তারা করছে কাবিরুল। দখলে বাঁধা প্রয়োগ করলে খুন-জখম সহ মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শণ করছে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করিতে চাইলে থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ নেয়নি। জমি-জমা বিবদমান বিষয় নিয়ে গণিপুর ইউপি চেয়ারম্যন মনিরুজ্জামান রঞ্জুর নিকট অভিযোগ দায়ের করলেও চেয়ারম্যান কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে ১৪৪ ধারা মোতাবেক কোর্টে মামলা দাখিল করিলে কোর্ট প্রতিপক্ষগণকে জমিতে দখল ভোগ থেকে বিরত থাকার আদেশ প্রদান করলেও কোর্টের আদেশ অমান্য করছেন অভিযুক্তরা। নিজ আবাদী জমিতে ভূক্তভোগী প্রবেশ করলে প্রতিপক্ষগণ হত্যার হুমকি প্রদান করছে। ভূক্তভোগীগণের অধিকাংশ জমি পৈত্রিক। অন্যান্য জমি ক্রয়কৃত হলেও খারিজ করিয়া ডি.সি.আর ও প্রস্তাবিত খতিয়ানসহ বর্তমান সাল পর্যন্ত খাজনা প্রদানপূর্বক ভোগ দখল করে আসছে। অভিযুক্তরা অর্থশালী ও পেশিশক্তিধর হবার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারকে মিথ্যা মামলা ও হত্যার হুমকি প্রদর্শণ করছে। বিষয়টির সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের সহোযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন