২ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

পবায় ভূয়া মাদ্রাসার পরিচালক রাজুর শাস্তির দাবি

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৫, ৯:১৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
পবায় ভূয়া মাদ্রাসার পরিচালক রাজুর শাস্তির দাবি
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়ন অন্তর্গত ৬নং ওয়ার্ডের ইটাঘাটী গ্রামে একটি ভূয়া মাদ্রাসা বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসি মানববন্ধন করেছে। বুধবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে গ্রামের প্রধান সড়কের পাশে কয়েকশ গ্রামবাসির সঙ্গে উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বেশকয়েকটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা। উক্ত মানববন্ধনে হেফাজত ইসলামী দলের রাজশাহী জেলার প্রচার সম্পাদক নাইমুল হাসান রাজিব নিজ বক্তব্যে বলেন, ঈমাম সাহেবদের লেবাজ পড়ে ধর্মকে ঢাল করে যারা সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করেন তারা চরম পাপী। এই মাদ্রাসার পরিচালক রাজু আহমেদ সেই রকমই একজন লেবাজধারী প্রতারক। শুনেছি তার নামে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। মাদ্রাসা ও এতিম বাচ্চাদের নাম ভাঙ্গিয়ে যারা নিজেদের পকেট ভারি করে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের বড়গাছী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান নিজ বক্তব্যে বলেন, শিক্ষার্থীহীন মাদ্রাসার পরিচালক রাজু এই ভূয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাম করে তার লোকজন দিয়ে বছরের পর বছর কত টাকা আত্মসাৎ করেছে তার হিসেব গ্রামবাসিকে দেয়া লাগবে। ভূয়া মাদ্রাসার নামে মানুষের সাথে এভাবে প্রতারণা করলে মাদ্রাসার উপর থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে। মথুরা বাইতুল মামুন জামে মসজিদের ঈমাম সাখাওয়াদ হোসেন, মথুরা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মাওলানা কামাল উদ্দীন চৌধুরী বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমামদের যেখানে সংসার চালোনোই দায় হয়ে পড়ে, সেখানে রাজু এই ভূয়া মাদ্রাসাকে ঢাল করে মানুষের অনুদানের টাকা দিয়ে দুইটা নামিদামি ব্রান্ডের দুটো মোটর সাইকেল কিভাবে কিনলো। ইটাঘাটী গ্রামের বাসিন্দা হায়দার আলী, শাহিনুর, বিশাল, বেলাল সহ অন্যরা বলেন, তার মাদ্রাসার কমিটি গঠণকালে সাবেক এক স্কুল শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে তাকে বানানো হয়েছিল মাদ্রাসার সভাপতি। ইটাঘাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খোইবর তার স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি জানতাম না যে আমাকে সে তার মাদ্রাসার সভাপতি বানিয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি আমার নাম বাদ দিতে বলেছি। শুনলাম কয়েকদিন আগে সে অন্য একজনকে সভাপতি করেছে।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্য বক্তব্য মতে, ইটাঘাটী প্রথমপাড়া গ্রামে জান্নাতুল ফেরদাউস মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসা (লিল্লাহ বোডিং ও এতিমখানা) কাগজে কলমে থাকলেও নেই কোন পাঠদানের ব্যবস্থা। পাঠদানের কোন ব্যবস্থা না থাকলেও মাদ্রাসা ও এতিম বাচ্চাদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিদিন তোলা হয় হাজার হাজার টাকা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রতিদিন সকাল হলেই তিন-চারটি ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা বেড়িয়ে পড়ে দানের অর্থ সংগ্রহের কাজে। ২০২৩ সালে যাত্রা করলেও এখনো দেখা মেলেনি শিক্ষার্থীদের। মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী ও এতিম শিশু না থাকলেও মাদ্রাসার নামে সংগ্রহ করা হয় লাখ লাখ টাকা। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে মাদ্রাসার নামে এই ধরনের প্রতারণা করার বিষয়টিকে গ্রামবাসি চরম নোংড়ামি বলে মন্তব্য করেন। মাদ্রাসার পরিচালক (মালিক) রাজু আহমেদ একটি মাদক মামলায় বেশকয়েক মাস জেলে ছিলেন। রাজু ঐ গ্রামের মোঃ তফেজ উদ্দিন এর ছেলে। গত ২০-০১-২০১৯ তারিখে রাজু আহমেদের নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়। যার জিআর মামলা নং ২১/২০১৯ (পবা থানা)। ঐ মামলায় তিনি কয়েকমাস কারাগারে ছিলেন। উক্ত মানববন্ধনে গ্রামবাসী ও সচেতন ব্যক্তিরা ভূয়া মাদ্রাসা পরিচালক রাজু আহমেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন