২ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

চারঘাট সরকারি রাস্তা কেটে ফসলি জমি বানালেন আওয়ামী লীগ নেতা!

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৫, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
চারঘাট সরকারি রাস্তা কেটে ফসলি জমি বানালেন আওয়ামী লীগ নেতা!
বিজ্ঞাপন

চারঘাট প্রতিনিধি : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের খোর্দগোবিন্দপুর মাঠপাড়া এলাকায় শতবর্ষী গ্রামীণ রাস্তা কেটে তা ফসলি জমিতে পরিণত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা সমজান আলী নিজের জমি দাবি করে রাস্তাটি কেটেছেন। এতে ওই এলাকার শত শত মানুষের চলাচল ও মাঠের ফসল পরিবহনে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
জানা যায়, গত এক যুগে কয়েক দফা কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় মাটির রাস্তাটির সংস্কার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর এবার উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ থেকে শতবর্ষী গ্রামীণ রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য দরপত্র হয়েছে। কাজ শুরুর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রাস্তার পাশের জমির মালিক শ্রমিক দিয়ে রাস্তা কেটে ফসলি জমি বানিয়েছেন।
সরেজমিন সোমবার (২১ এপ্রিল) সকালে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ১৩ ফুট চওড়া ওই রাস্তার চার ফুট অংশ কেটে ফসলি জমি করা হয়েছে। সড়কের যেটুকু অংশ অবশিষ্ট আছে সেখান থেকে আরো চার ফুট কেটে নেওয়া হবে বলে স্থানীয়দের জানিয়েছেন অভিযুক্ত সমজান আলী। এ অবস্থায় প্রকৌশল বিভাগের রাস্তা পাকাকরণ কাজ অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, লোকজন বাধা দিলেও রাস্তা কাটা বন্ধ না করে উল্টো এলাকাবাসীকে হুমকি দেন সমজান আলী। তিনি ওয়ার্ড আ’লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হলেও গত পাঁচ আগষ্টের পর থেকে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনের সাথে চলাফেরা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ষাটোর্ধ রেজাউল করিম বলেন, জন্মের পর থেকে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছি। কখনও শুনিনি রাস্তার জমি অন্য কারো কিন্তু হঠাৎ রাস্তার বেশির ভাগ অংশ নিজের দাবি করে কেটে ফেলা হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে দাবি জানিয়ে রাস্তাটি পাকাকরণের দরপত্র হয়েছে। কিন্তু এখন রাস্তায় চলাচল করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা নাইমুর রহমান বলেন, আমার বাবা-দাদা সবাই এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করেছে। এখন গ্রামের শত শত মানুষ চলাচল করে। মাঠ পাড়া মাঠের সকল ফসল ভ্যান, ট্রলি ও মিনি ট্রাকে এই রাস্তা দিয়ে বাজারে নেওয়া হয়। কিন্তু কাউকে কিছু না জানিয়ে রাস্তাটি কেটে ফসলি জমি বানানো হয়েছে। এতে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। রাস্তা কাটার বিষয়ে সমজান আলী বলেন, রাস্তার বেশিরভাগ অংশই আমার জমিতে। এজন্য কিছু অংশ কেটে নিয়েছি। শুধুমাত্র আমি রাস্তায় জমি দেবো তা হবেনা। অন্যদেরকেও দিতে হবে। নিজে আ’লীগ করলেও আ’লীগ সরকারের সময় জমিটি বর্গা দেওয়া থাকায় রাস্তা কাটেন নি। এখন নিজে আবাদ শুরু করেছেন এজন্য রাস্তা কেটেছেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানকার মানুষ শত বছর ধরে সে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছেন বলে জানিয়েছেন। যদি তার দাবি মতে জায়গাটি ব্যাক্তি সম্পত্তিও হয়ে থাকে তবে তামাদি আইন ১৯০৮ এর ২৬ এর ৮ ধারা অনুযায়ী ২০ বছর সেই রাস্তায় হাঁটলেই সে রাস্তা আর আটকানোর সুযোগ নেই।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন