মঙ্গলবার

৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহীতে ক্লুলেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিএনপি নেতাসহ ২ জন গ্রেপ্তার পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি বিএমডিএ’র ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা নতুন সরকারের অধিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ

নাবিল গ্রুপের অবৈধভাবে দখল করা স্থাপনা অপসারণের নোটিশ দৌড়াচ্ছে দপ্তরে দপ্তরে!

Paris
Update : মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর উপকন্ঠ পবা থানাধীন মাহিন্দ্রা এলাকায় কয়েক বিঘা সরকারি জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে অপসারণের নোটিশ গেছে একাধিক। নোটিশ ও মৌখিক নির্দেশনাকে প্রতিবারই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে দখলদার প্রতিষ্ঠানটি। অবশেষে দখলে থাকা জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক বিভাগ থেকে আরো একটি নোটিশ (চিঠি) প্রেরিত হয়েছে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে। রাজশাহী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশল আব্দুল হাকিম (চঃ দাঃ) স্বাক্ষরীত সর্বশেষ নোটিশটি গত ২২-১০-২০২৪ ইং তারিখে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রেরিত হয়। যার স্বারক নং: ৩৫.০১..৮১৮৫.৪৬৫.৪৭.০০৫.২৪-৩৫১৩(৬)। এ বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, সড়ক বিভাগ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার জন্য এসিল্যান্ড দপ্তরে চিঠি পাঠাবো। এর আগে, গত ০১ অক্টোবর রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগ-২ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রেজওয়ানা কবির স্বাক্ষরীত দুটো নোটিশ নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান নাবিল ফার্ম লিমিটেড ও নাবা ডেইরী এ্যান্ড ক্যাটল ফার্মের অনুকূলে পাঠানো হয়েছিল। যার স্মারক নাম্বার যথাক্রমে ৩৫.০১.৮১৮৫.৮২৯.৩৪.০০১.২৪-৩২৪ ও ৩৫.০১.৮১৮৫.৮২৯.৩৪.০০১.২৪-৩২৪। সওজ’র অধিগ্রহণকৃত জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের আদেশ দিয়ে চিঠি দুটো পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নোটিশের মান্যতা না করে রাজধানী ঢাকার উচ্চমহলের কিছু হর্তাকর্তাকে দিয়ে রাজশাহী সড়ক বিভাগকে ম্যানেজ করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে বলে জানায় সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজ বিভাগে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন।
‘সরকারি নোটিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সড়ক বিভাগের জায়গা দখল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন দৈনিক আমাদের রাজশাহী পত্রিকায় প্রকাশের কয়েকদিন পরেই; অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণকল্পে সড়ক বিভাগ থেকে একটি চিঠি প্রেরিত হয় পবা উপজেলার ইউএনও’র দপ্তরে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ইউএনও’র দপ্তর থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণকল্পে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সড়ক বিভাগের প্রেরিত নোটিশের বিপরীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)/এসিল্যান্ড দপ্তরে আরো একটি চিঠি ফরোয়াড হবার পথে বলে জানান সংশ্লিষ্ট শাখায় কর্মরতরা। অবৈধ স্থাপনা অপসারণের বিষয়ে দপ্তর থেকে দপ্তরে চিঠির আনাগোনার বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে জন্ম দিচ্ছে নানাপ্রশ্ন ও সমালোচনা। স্থানীয়দের মধ্যে অনেকইে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, চাইলে তো সড়ক বিভাগের কর্তারা এসে নিজ দায়িত্বেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিতে পারেন। একের পর এক চিঠি চালাচালি করে কাল বিলম্বের হেতু কি সেটা বোঝা বড় দায়। এবিষয়ে, সড়কের একজন কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর প্রধান কার্যালয় ব্যতীত অন্যকোন জেলা কিংবা বিভাগীয় দপ্তরে সড়কের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট নেই। তাই, জেলা প্রশাসন কার্যালয় কিংবা ইউএনও’র কার্যালয়ের মাধ্যমে আমরা এই ধরনের অপসারণ কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করি।
অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নিমিত্তে সড়ক ও জনপথ (সওজ) রাজশাহী কার্যালয় থেকে প্রেরিত প্রথম নোটিশে মোট সাতদিন সময় বেঁধে দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, দুটো নোটিশ প্রেরণের ২১ দিন অতিক্রম হলেও সেই আদেশের বিপরীতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সরকারি জমি থেকে নিজেদের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করার জন্য কোন প্রকার প্রস্তুতিই নেয়নি। বিষয়টি স্থানীয় ও সচেতন ব্যক্তিদের মাঝে নানামূখি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেনো অপসারণ করা হচ্ছেনা। কিংবা কর্তৃপক্ষ কেনো উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিজ থেকে নিচ্ছেনা। কে কাকে, কোন ধাঁচের সুযোগ দিচ্ছে… এমন নানাবিধ জটিল প্রশ্ন আসছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। দখলদার প্রতিষ্ঠানমালিক অনেক বেশি প্রভাবশালী হবার কারণে এতোদিন অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলেনি। দখলের কারণে নালারমুখ বন্ধ হয়ে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কবলে পড়া ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও ইট ভাটার মালিকরাও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারেনি। নাবিল গ্রুপের এমন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ০৮ নং হরিয়ান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান বরাবর ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ দেবার চেষ্টা করলেও তৎকালীন চেয়ারম্যানের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি বলে জানান একাধিক মেম্বার ও কর্মচারি। বিগত সরকারের ক্ষমতাধর দলীয় নেতাদের সাথে নাবিল গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের ছিল গভীর সখ্যতা। বিশেষ করে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন, পবা-মোহনপুর আসনের সাবেক এমপি আয়েন উদ্দীন সহ স্থানীয় ও প্রভাবশালী আওয়ামী নেতাদের সাথে সখ্যতা ও ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকার কারণে কেউ কোন বিষয়ে মুখ খোলার সাহস পায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সড়ক বিভাগ থেকে প্রেরিত চিঠির বিষয়ে পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, কয়েকদিন আগে সড়ক বিভাগ থেকে একটি চিঠি আমরা কাছে এসেছে। বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য পবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বলা হয়েছে। নাবিল গ্রুপ যদি সড়ক বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে থাকে এবং সেটি যদি উচ্ছেদ বা অপসারণ করতে হয়; তাহলে সেবিষয়ে সড়ক বিভাগকে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি রিকুইজিশন দিতে হবে। ডিসি অফিস থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নির্ধারণপূর্বক আমরা কিংবা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
অপসারণ ও চিঠি প্রাপ্তির বিষয়ে পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, গত ৩ নভেম্বর ইউএনও’র কার্যালয় থেকে এবিষয়ে একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী সূত্র জানায়, গত ২২-১০-২০২৪ ইং তারিখে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি নোটিশ পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠির বিপরীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের কথা বলা হয়েছে।


আরোও অন্যান্য খবর
Paris