৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

মা খুঁজে পেলেন মেয়েকে নানা পেলো তার নাতিকে

প্রকাশিত: ৬ মার্চ ২০২৪, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
মা খুঁজে পেলেন মেয়েকে নানা পেলো তার নাতিকে
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : বুধবার (৬ মার্চ) ছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন। ভর্তি পরীক্ষা শেষে মাগুড়ার পরীক্ষার্থীর মহুয়া ও কুষ্টিয়ার পরীক্ষার্থী তন্ময় নিজেদের সাথে আসা অভিভাবককে হারিয়ে ফেলে। অবশেষে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মা খুজে পান তার মেয়েকে। আর অন্যদিকে নানা খুজে পায় তার নাতিকে।
তথ্যসূত্র ও প্রশাসনের দেয়া ভাষ্য থেকে জানা গেছে, মায়ের সাথে মাগুরা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে হারিয়ে যায় এক পরীক্ষার্থী। সকাল ৯ টায় শেখ রাসেল মডেল স্কুল কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে মায়ের সঙ্গে মাগুরা থেকে আসে মহুয়া। অন্যদিকে, কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানার নারায়ণপুর গ্রাম থেকে নানার সাথে রাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিকে আসে তন্ময় অধিকারী। তার আসন ছিল রবীন্দ্রনাথ কলা ভবনে। পরীক্ষা শেষে দুজন পরীক্ষার্থীই তাদের অভিভাবকে হারিয়ে ফেলে। মাগুড়া থেকে আসা পরীক্ষার্থী মহুয়া তার মোবাইল ফোনটি মায়ের কাছে রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে। মহুয়ার মা মেয়ের জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রের বাহিরে অপেক্ষা করতে থাকেন। সকাল ১০ টায় পরীক্ষা শেষ হলে হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে গভীর উদ্বেগ নিয়ে মহুয়ার মা মহুয়াকে খুঁজতে থাকেন। সময় গড়িয়ে গেলেও মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও না পেয়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরএমপি’র কন্ট্রোল রুমে হাজির হয়ে মেয়েকে খুঁজে পেতে আকুতি শুরু করেন। এমন পরিস্থিতিতে কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত আরএমপি’র মতিহার বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মধুসূদন রায় তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং মহুয়াকে খুঁজে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পুলিশের দেয়া তথ্য মতে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরএমপি’র কন্ট্রোল রুমে থেকে বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে মহুয়াকে খুঁজে বের করার জন্য সকল স্টেশনকে জানানো হয়। ডিউটির ফাঁকে মহুয়াকে খুঁজতে থাকে পুলিশ। অবশেষে অনেক খোঁজাখুঁজি করে মহুয়াকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।
এদিকে, নানা নিত্যানন্দন গোস্বামী তার নাতি তন্ময় অধিকারীকে সকাল ১১ টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ কলা ভবনে ভর্তি পরীক্ষার হলে পাঠিয়ে বাহিরে অপেক্ষা করতে থাকেন। একঘণ্টা পরীক্ষা শেষে দুপুর ১২ টায় নানা তার নাতিকে না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা জায়গায় খুঁজতে থাকেন। খুঁজে না পেয়ে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরএমপি’র পুলিশ কন্ট্রোল রুমে নাতির বর্ণনা এবং নাম ঠিকানা উল্লেখ করে হারানোর বিষয়টি অবগত করেন। এমন পরিস্থিতিতে কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত আরএমপি’র মতিহার বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার মধুসূদন রায় ও মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোবারক নাতিকে খুঁজে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পুলিশের তৎপরতায় হারিয়ে যাওয়া পরীক্ষার্থী তন্ময় অধিকারীকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার হয়। পরে নানা নিত্যানন্দন গোস্বামীর নিকট হস্তান্তর করে। নাতিকে পেয়ে নানা নিত্যনন্দন গোস্বামী অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন