তানোরে দূর্বৃত্তদের আগুনে পুড়লো কীটনাশকের দোকান
তানোর থেকে প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোরে বালাইনাশক দোকানে পূর্ব বিরোধের জেরে দূর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে মালামালসহ টিভি ও মোটরসাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে উপজেলার তালন্দ ইউনিয়ন ইউপির লালপুর বাজারে সরকার ট্রেডার্স নামক বালাইনাশক দোকানে ঘটে মর্মান্তিক আগুন লাগার ঘটনাটি। দোকানটির মালিক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান। অবশ্য মালিক আবুল হাসান গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় যান। আর রাতেই পরিকল্পিতভাবে আগুন দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মোবাইলে মেম্বার আবুল হাসান বলেন, এটা পরিকল্পিত আগুন দেয়া হয়েছে। আমি এলাকায় নেই আর সেই রাতেই আগুন দিয়ে সবকিছু পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমার দোকানে প্রায় ১০/১২ লাখ টাকার বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক ছিল ও বাকি ছিল ১৫ লাখ টাকার মত, যে খাতায় বাকি লিখা ছিল সেটিসহ নিজের ব্যবহৃত এপাসি আরটিআর মোটরসাইকেল, টিভি মনিটর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি আরো জানান, আমি এলাকায় গিয়ে থানায় জিডি কিংবা অভিযোগ করব।
গতকাল শুক্রবার বিকেলের দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, লালপুর বাজারের দক্ষিণ দিকে ও পুকুরের পূর্ব দিকে সরকার ট্রেডার্স নামের বালাইনাশকের দোকান। দোকানের ভিতরের গ্যালারি ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে আছে। দোকানের পূর্ব দিকে মোটরসাইকেল পুড়া অবস্থায় পড়ে আছে। মোটরসাইকেলের ট্যাংকি ও হেন্ডেল দেখা গেছে বাকি সবগুলো পুড়ে ছাই। সেখানে ছিলেন হাসানের ভাই মুতাহারুল হাকিম। তিনি জানান, আমি লালপুর স্কুলের নৈশ প্রহরীর চাকুরী করি। বৃহস্পতিবার রাত দুই টার দিকে দোকানে তালা মারা দেখে গেছিলাম। শুক্রবার ভোর ৫ টার দিকে চা দোকানী সামায়ন ভারতী দোকানের সামনে মটরে পানি নিতে এসে আগুন দেখতে পেয়ে খবর দেয়। সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিস কে খবর দেয়া হলে দ্রুত এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। অবশ্য তার আগেই সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে পড়ে আছে।
স্থানীয়রা জানান, আমরা মনে করেছিলাম বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। কিন্তু দোকানের তালা ভাঙা দেখতে পায়। তখনই সবার ধারণা পাল্টে যায়। তালা ভেঙে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এজন্যই দ্রুত সময়ের মধ্যে সব পুড়ে গেছে। দোকানের কোন গ্যালারি ফাঁকা ছিল না। বৃহস্পতিবারে প্রায় তিন লাখ টাকার কীটনাশক কিনেন হাসান। হাসানের আত্মীয় স্বজনরা দোকানে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, সবার বক্তব্য শুনেছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখনই কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে যারাই জড়িত থাকুক তদন্তে বের করা হবে বলেও জানান তিনি।
