৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

বসন্তের প্রথমদিনে ফুলেরদামে আগুন পুরুষকে ‘ম্যানিকিন’ বানিয়ে প্রদর্শনী!

প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯:৫১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
বসন্তের প্রথমদিনে ফুলেরদামে আগুন পুরুষকে ‘ম্যানিকিন’ বানিয়ে প্রদর্শনী!
বিজ্ঞাপন

শাহানুর রহমান রানা
গতকাল পহেলা ফাল্গুন। শীতের কনকনে ঠান্ডা পেরিয়ে যাত্রা শুরু করলো বসন্ত। বাংলা সনের এই মাসটি বাঙালিজাতীর কাছে নানাকারণের অনেকবেশি আবেগীয়। দেশের প্রায় সকল স্থানেই বসন্ত বরণ উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে। বাংলার বসন্ত উৎসবের পাশাপাশি আজ আরো একটি আন্তর্জাতিক উৎসবে মেতে উঠবে অনেকেই। আর সেটি হচ্ছে; বিশ্ব ভালবাসা দিবস। দুই মেরুর দুই দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতিবারের ন্যায় এবারো ফুলের ব্যবসায়ীরা ঝড় তুলেছেন ফুলের দামে। দশ থেকে সর্বোচ্চ পনেরো টাকার একটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ষাট টাকা থেকে দেড়শ টাকায়। পাশর্^বর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলাতে এই বিশেষ দিনেও ফুলের দাম কশ বলে জানান উক্ত জেলাগুলোতে আগত শামীম ও সাহেদ। তারা রাজশাহীর বাজারে ফুলের মূল্য দেখে হতভম্ব হয়ে যান।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস দুটিকে কেন্দ্র করে নগরীর ফুল ব্যবসায়িরা প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছেন আগেরদিন রাত থেকেই। বসন্তের আগেরদিন মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাত পর্যন্ত খোলাছিল নগরীর অধিকাংশ ফুলের দোকানগুলো। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারেও ফুলের সংগ্রহ ও মজুদ ছিল যথেষ্ট পরিমাণে বলে জানান ফুল ব্যবসায়িদের একাংশ। সংগ্রহশালায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ফুল থাকার পরেও রাতারাতি তিন থেকে চারগুণ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সব ধরণের ফুলের।
গেল বছরের তুলনায় এবার ফুলের দামটা অনেকটাই বেশি বলে মন্তব্য ফুল ক্রেতাদের। বিষয়টির সত্যতাও স্বীকার করেন ফুল ব্যবসায়িরা। তবে, দাম বেশি হলেও বিক্রির মার্জিন অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটাই কম বলে দাবি বিক্রেতাদের। ফুল ব্যবসায়ি টনি, গণেষ সুইটের দাবি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ফুল। তাই দামটা একটু বেশি।
বসন্তবরণ উৎসব আর ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ উপলক্ষ্যে নগরীর ফুলের দোকানগুলোতে দেশি লাল গোলাপ ছাড়াও, থাইল্যান্ড, চিন ও ভারত থেকে আমদানি করা গোলাপের পাশাপাশি ব্যবসায়িরা নিজেদের দোকানে সংগ্রহে রেখেছিলেন জারবেরা, রজনীগন্ধা, গাদা, গিলার্ডিয়াস-ক্যালোডিয়াস, টিউলিপ, লিলি, পলাশ ও আর্টিফিসিয়াল ফুলের মালা। লাল গোলাপ বিক্রি হয়েছে, একশ থেকে দেড়শো টাকায়, অন্যদিকে হলুদ, সাদা, গোলাপী রংয়ের গোলাপের দাম আরো বেশি। টিউলিপ ফুলের একটি ছোট্ট স্টিক বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকায়, লিলি ফুলের একটি লম্বা ডালের মূল্য ৫৫০ টাকা, একটি গিলার্ডিয়াস বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়। জারবেরা ফুলের প্রতিটি স্টিক বিক্রি হচ্ছে পঞ্চাশ টাকায়, রজনীগন্ধা ২০ টাকা। দেশী গেদা ফুলের মাঝারি আকৃতির একটি মালা বিক্রি হচ্ছে দেড়শ থেকে দুইশ টাকায়।
নগরীর বেসরকারি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঐশি ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আশমি জানান, প্রতিবছরই তারা ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’-তে ফুল কেনেন। তবে’ বিগত সময়গুলোর চাইতে এবার ফুলের দামটা অনেক বেশি। উপশহর ও ভদ্রাস্থ পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা জিলিয়া-রাজন ও সৌমীক ছাড়াও বাজাওে আসা অনেক ফুলের ক্রেতা বলেন, সাধারণ সময়গুলোতে লাল গোলাপ বিক্রি হতো দশ থেকে বিশ টাকার মধ্যে। কিন্তু দুটো দিবসকে সামনে রেখে ফুলের দাম যেনো আকাশ ছোয়া। এছাড়াও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে জারবেরা, রজনীগন্ধা, গ্যাদা, ক্যারোডিয়াসসহ আর্টিফিসিয়াল ফুলেরও বলে মন্তব্য ক্রেতাদের। পলাশ ফুলের ছোট্ট একটি স্টিকের দাম ধরা হচ্ছে পঞ্চাশ টাকা করে।
এদিকে নগরীর ফুল ব্যবসায়িরা পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, যশোর জেলার গাতখালি এলাকা থেকে নগরীর অধিকাংশ ব্যবসায়ির কাছে ফুলের চালান আসে। এছাড়াও চাইনা থেকে আসা ফুলগুলো ঢাকা হয়ে রাজশাহীতে আসে। নগরীর উপকন্ঠ থেকে আসে যৎসামান্য ফুলের একটি চালান।
ফুল বিক্রি বৃদ্ধির জন্য নতুন একটি কৌশল হাতে নিয়েছিলেন নগরীর একজন ফুল ব্যবসায়ী। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দোকানের সামনে তিনি একজন মধ্য বয়সী ব্যক্তিকে ব্যহার করেছিলেন ‘ম্যানিকিন’ বা ‘ডামি’। বিষয়টি অনেকের কাছেই দৃষ্টিকটু লেগেছে। কেউবা বলছেন, বিষয়টি কিছুটা হাস্যকর ছাড়াও বিব্রতকর। কারণ, এই দিবসগুলোতে অধিকাংশ ক্রেতাই মহিলা। তাই এমনটা শোভনীয় নয় বলেই মন্তব্য অনেকের। এছাড়াও, এই ধরণের বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতিতেও কিছুটা আঘাত লাগার সমতুল্য বলেও মন্তব্য অনেকের। স্থানীয় ও আশেপাশের অন্যান্য ব্যবসায়ির কাছ থেকে জানাগেছে, ডামি হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিটির সাথে একহাজার টাকায় চুক্তি হয়েছিল। সারাদিন ওভাবে দাড়িয়ে থাকার পারিশ্রমিক হিসেবে তিনি পেয়েছেন একহাজার টাকা।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন