রাজশাহীতে চাঁদাবাজ চক্রের মূলহোতাসহ ৮ জন ও চুরি যাওয়া স্বর্ণসহ ২ জন গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন রেলগেটের উত্তরপাশের্^ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়াম এলাকায় অপারেশন পরিচালনা করে চাঁদাবাজ চক্রের মূলহোতা আটজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো মোস্তাফিজুর রহমান অরফে মাজেদ (৪০), মীর সাব্বির সজল (৩০), সহিদ হাসান ওরফে বিপ্লব (৩৫), রাফিউল আওয়াল আদনান (৩২), শ্রী রিংকু দাস (৩১), নজরুল ইসলাম (৩৬), আতাউর রহমান (৫০), রনি (৪১)। এদের সবার বাড়ি নগরীর সুজানগর কয়েরপাড়া এলাকায়। এসনময় তাদের নিকট হতে চাঁদা আদায়ের রশিদ, ভাউচার ও রেজিস্ট্রার উদ্ধার, চাঁদা বাবদ উত্তোলিত নগদ টাকাসহ এবং ৫ টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব জানায় গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন ভাউচারের (রশিদ, টোকেন) মাধ্যমে সিএনজি এবং অটো চালকদের নিকট হতে চাঁদাবাজি করে আসছিল। যদি কোন চালক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তখন তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, বিভিন্ন সময় মারধর এবং গাড়ী ভাংচুর করে। উদ্ধারকৃত টালী খাতায় রাজশাহী মহানগরীর রেলগেটসহ অন্যান্য স্থানের সকল সিএনজি ও অটো চালকদের নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা আছে। প্রতিদিন বিভিন্ন হারে চালকদের নিকট হতে চাঁদা সংগ্রহ করে উক্ত রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়। নগরীর বোয়ালিয়া থানায় পৃথকভাবে চাঁদাবাজি মামলা হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার তেরখাদিয়া উত্তরপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় চোরাই স্বর্ণ উদ্ধারসহ ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে আরএমপি’র রাজপাড়া থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত শিশু মো: সিয়াম (১৭) ও আসামি মো: মাহাবুবুর রহমান জনি (৩৫)। সিয়াম রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার তেরখাদিয়া উত্তরপাড়ার মো: ইমদাদুল হকের ছেলে ও জনি একই থানার বসুয়া গ্রামের মো: মনির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার তেরখাদিয়া গ্রামের মো: তাইবুর রহমানের স্ত্রী গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ সকাল সাড়ে ১০ টায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। তিনি আহত স্ত্রীকে ঐদিন তার শ্বশুর বাড়িতে রেখে আসেন। স্ত্রীর জন্য ঔষধ কিনতে রাত ৯ টায় তার বাসায় তালা দিয়ে লক্ষীপুর যান। সেখান থেকে ঔষধ কিনে তার স্ত্রীকে দিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর (২০ সেপ্টেম্বর দিবাগত) রাত সাড়ে ১২ টায় বাসায় এসে দেখেন তার ঘরের দরজা খোলা ও বাসার জিনিসপত্র এলোমেলো এবং আলমারিও খোলা রয়েছে। ঐ সময় তিনি লক্ষ করেন আলমারি থেকে প্রায় ৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও রূপার অলংকার এবং নগদ আড়াই লক্ষ টাকা চুরি হয়েছে। তাইবুর রহমান এ বিষয়ে রাজপাড়ায় থানা একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
উক্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আরএমপি বোয়ালিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতি: ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) বিভূতি ভূষন বানার্জীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো: হাফিজুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় রাজপাড়া থানা পুলিশের একটি টিম চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ আসামি গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। পরবর্তীতে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই কাজল কুমার নন্দী, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো: রাজিবুল করিম ও তাঁর টিম আজ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ (১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত ) রাত সাড়ে ১২ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে রাজপাড়া থানার তেরখাদিয়া এলাকা থেকে সিয়ামকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যমতে অপর আসামি জনিকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ ও ৫ ভরি ৩ আনা রূপার অলংকারাদী উদ্ধার হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। টাকাসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
