আওয়ামীলীগ নেতা নয়লাল হত্যার বিচার দাবি এমপি ফারুক চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের নেতা নয়লাল হত্যকারীদের বিচারের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে রাজশাহী। তার হত্যার বিচারের দাবিতে সচেতন রাজশাহীবাসীর ব্যানারে মানববন্ধনটি নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে মহানগরীর নিউ মার্কেটের সামনে সচেতন রাজশাহীবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়। নগরীর সাধারণ মানুষ ছাড়াও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীসহ উপস্থিত ছিলের আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠণের নেতাকর্মীরাও। মানববন্ধন থেকে বক্তারা দাবি করে বলেন, এই হত্যাকান্ডের সাথে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা আছে। যার কারণে বছর পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকান্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এখনো উৎঘাটন করছে না পুলিশ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা নয়লাল ছিলেন একজন সাদাসিধে মানুষ। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গেলো বছরের ১২ ডিসেম্বর যেখান থেকে নয়লালের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর মালিকাধীন থিম ওমর প্লাজার পেছনের অংশ। স্থানটি কঠোর নিরাপত্তা বলয় ছাড়াও সিসি ক্যামেরার আওতাধীন। বহিরাগত কোন ব্যক্তির পক্ষে সেখানে প্রবেশ করা কিংবা স্থানটিতে সাধারণ মানুষের আনাগোনা প্রায় অসম্ভব। এমন একটি স্থানের ম্যানহল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর ও সন্দেহ প্রবন। নায়লাল কাটাখালীর পৌরসভার শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন।
বক্তারা আরো বলেন, তার কোন শত্রু ছিলো না। কোনস্বার্থ ব্যতীরেকেই তিনি সারাদিন নগর আওয়ামী লীগের দলীয় অফিসে ঘুরাঘুরি করতো। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে প্রশংসনীয় ভূমিকা ছিল নায়লালের। তিনি একজন বিতর্কীত নেতা ছিলেন। তাকে হত্যা করে লাশটি গুম করার জন্য ম্যানহলে রেখে দেওয়া হয়েছে। এমপি’র এই ভবনের চারিদিকে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে অথচ সেদিনের কোন ফুটেজ নেই। এই সংসদ সদস্যর রাজনৈতিক কার্যালয়ে শিক্ষকসহ অনেকেই নির্যাতিত হয়েছে। আমরা চাই আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী দ্রুত এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করবে। যারা এই হত্যার সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। ত্যাগী আওয়ামী লীগের নেতা নয়লাল আওয়ামী আদর্শের দলপাগল মানুষ ছিলেন। আমরা তার বিচারের দাবিতে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তার হত্যাকারিদের বিচারের আওতায় না আনা হবে ভবিষ্যতে আরো বৃহত্তর আন্দোলন করার হুশিয়ারী দেন মানববন্ধনে উপস্থিত জনসাধারণ।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাজিবের সঞ্চলনায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল মমিন, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ খান টিটু, রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুজ্জামান, রকি কুমার ঘোষ, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম, সাধারণ সম্পাদক ডা. সিরাজুম মুবিন সবুজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সুধিজন।
উল্লেখ্য, গত ১২-১২-২০২৩ তারিখ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর মালিকাধীন থিম ওমর প্লাজার ম্যানহল থেকে নায়লালের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঐসময় পুলিশের দেয়া বক্তব্যনুযায়ী, লাশটি কয়েকদিন আগে হত্যা করে ম্যানহলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। বোয়ালিয়া পুলিশের দেয়া ভাষ্যমতে, ঐদিন সকালে ঘটনাস্থল থেকে তীব্র গন্ধ পেলে নিরাপত্তা কর্মীরা জানায় স্থানীয় প্রশাসনকে। গন্ধের অনুসন্ধান করতে গিয়ে থিম ওমর প্লাজার ম্যানহোলে লাশ পাওয়া যায়। মৃতদেহটির পরনে ছিল নীল রঙের জিন্স প্যান্ট ও গায়ে সাদা রঙের পাঞ্জাবি পায়ে জুতা।
