১৯ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi
শিরোনাম
সমাজের সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব : প্রধানমন্ত্রীমান্দায় এইচবিবি রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, ৬ মাসেই ধ্বসরাজশাহী থেকে জাপানে কর্মী নিয়োগ ও সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনাবাংলাদেশ-চীনের যৌথ সহযোগিতায় রাজশাহী সিল্কের ঐতিহ্য ফিরে আসবে : বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীকাগজে ১০ হাজার দিনমজুর, পাড়ে শুধুই ‘ভেকু’গোদাগাড়ীতে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই কলেজ ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুদুর্গাপুরে পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থার নির্দেশ ইউএনও’রপ্রশাসকের উদ্যোগে রাসিকে প্রথমবারের মতো ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলেন রুয়েট শিক্ষার্থীরা

মিয়ানমারে সংঘাত আতঙ্কে ঘরছাড়া ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩ গ্রামের মানুষ

প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯:০০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: lead, বিশ্ব
মিয়ানমারে সংঘাত আতঙ্কে ঘরছাড়া ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩ গ্রামের মানুষ
বিজ্ঞাপন

এফএনএস
দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাত। শনিবার থেকে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত-সংঘর্ষ থামছেই না। দুই বাহিনীর গোলাগুলি ও মর্টার শেলের বিকট শব্দে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে সীমান্তজুড়ে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে হেলিকপ্টার থেকে ছোঁড়া হয় গুলি ও মর্টার শেল। গুলির মুহুর্মুহু শব্দে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ঘর ছেড়েছেন কক্সবাজারের ঘুমধুম ইউনিয়নের তিন গ্রামের মানুষ। এরইমধ্যে দুপুরে মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা একটি মর্টার শেলের আঘাতে নিহত হয়েছেন স্থানীয় জলপাইতলী গ্রামের গৃহবধূ ও এক রোহিঙ্গা। এ সময় আহত হয় এক শিশুও। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান অস্থিরতায় টেকনাফের হোয়াইক্যং উলুবনিয়া সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় এক রোহিঙ্গা পরিবারকে আটক করেছে বিজিবি। এরআগে মিয়ানমার বিদ্রোহীদের প্রচণ্ড গোলাগুলির মুখে টিকে থাকতে না পেরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৯৫ জন মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্য। তাদের মধ্যে আহত ৯ জনকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। সূত্র বলছে, চলমান পরিস্থিতিতে সীমান্তের ওপারে বসবাস করা মিয়ানমারের চাকমা জাতি ও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় জড়ো হচ্ছেন। তবে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তারা। এদিকে সীমান্তে মর্টার শেলে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ জানানোর কথা জানিয়েছেন রিজিওয়ান কমন্ডার।
বাংলাদেশে আশ্রয় মিয়ানমারের ৯৫ সীমান্তরক্ষী : মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৯৫ জন সদস্য অস্ত্রসহ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। তবে তাদের নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল সোমবার সকালে দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি জানান, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির সদস্যরা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। বিজিবি তাদের নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে। এরমধ্যে আহত ১৫ জন সদস্যকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নারীসহ নিহত ২ জন : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে গতকাল সোমবার মিয়ানমার থেকে আসা মর্টার শেলের আঘাতে বাংলাদেশি এক নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহত নারী জলপাইতলী গ্রামের বাদশা মিয়ার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৪৫)। আর রোহিঙ্গা ব্যক্তির আনুমানিক বয়স ৫৮ বছর, তার নাম জানা যায়নি। গতকাল সোমবার দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের জলপাইতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন জানান। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি আবদুল মান্নান জানান, নিহত নারীর নাম হোসনে আরা বেগম। অন্যজন রোহিঙ্গা পুরুষ তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ইউপি) এ কে এম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, বেলা পৌঁনে তিনটার দিকে রোহিঙ্গা ব্যক্তিকে দুপুরের খাবার দেওয়ার জন্য রান্নাঘরে যান হোসনে আরা। তখন মর্টার শেলটি এসে রান্নাঘরের ওপর পড়ে। ঘুমধুম ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া জানান, নিহত নারীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে রোহিঙ্গা ব্যক্তির লাশ ঘটনাস্থলেই আছে।
বিজিপির আরও ৭ সদস্য হাসপাতালে : মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) আরও সাত সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত রোববার রাতে দুজন ও গতকাল সোমবার সকালে পাঁচজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে বিজিবির তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখন নয়জনের চিকিৎসা চলছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও দেশটির সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) তীব্র লড়াই চলছে। লড়াইয়ে টিকতে না পেরে গতকাল প্রথমে বিজিপির ১৪ সদস্য পালিয়ে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরে এখন পর্যন্ত বিজিপির মোট ৯৫ জনের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার তথ্য জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাদের মধ্যে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন আহত অবস্থায়। এদের কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আবার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া বিজিপির সদস্যের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির দুই সদস্যকে আহত অবস্থায় গত রোববার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। গতকাল সোমবার সকালে আরও সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আমরা তাদের সেবা দিচ্ছি।

 

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন