৭ নভেম্বর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

তানোরে রিপিয়ারিং রাস্তার কাজ নিম্মমানের হওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
তানোরে রিপিয়ারিং রাস্তার কাজ নিম্মমানের হওয়ার অভিযোগ
বিজ্ঞাপন

তানোর থেকে প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোরে রিপিয়ারিং রাস্তার কাজের শুরুতেই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মুন্ডুমালা থেকে সাতপুকুরিয়া পর্যন্ত রাস্তার কাজে এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটে রয়েছে। কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছে মত রাস্তা উল্টিয়ে ভিজে স্যাতসেতে মাটি ও খোয়া এবং এজিংয়ে পুরাতন ভাঙাচোরা ইট দিয়ে সাইডে ঘাস মাটি দিয়ে ভরে দিয়েছেন ঠিকাদার। আবার কাজের সময় থাকছেন না এলজিইডি কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের উপজেলার মুন্ডুমালা গোলচত্বরের পশ্চিম থেকে জটাবট তলা যাওয়ার রাস্তার সাতপুকুরিয়া পর্যন্ত ৪১৪০ মিটার রিপিয়ারিং রাস্তার কাজটি সম্প্রতি শুরু হয়েছে। কাজটি পান রিতু এন্টার প্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, প্রো: কামরুজ্জামান, বোয়ালিয়া রাজশাহী।  গত বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার দিন রাতে হয় বৃষ্টি। পরদিন শুক্রবার  সকাল থেকে ট্যাক্টর দিয়ে রাস্তা উল্টানো শুরু হয়। কিন্তু বৃষ্টির কারনে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় কাদা পানি জমে  থাকে। কাদা পানির মধ্যেই রাস্তা উল্টিয়ে রোলার দিয়ে সমান করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি আগেই ভালো ছিল। কারণ ভিজে মাটি কাদা পর্যন্ত রোলার দিয়ে সমান করা হচ্ছে। অফিসের কোন লোক থাকছেনা। ঠিকাদারের লোকজন ইচ্ছে মত কাজ করছে। অবস্থাটা এমন দেখে মনে হয় সরকারের টাকায় কাজ হচ্ছে না, ঠিকাদার তার ব্যক্তিগত টাকায় কাজ করছে। কিছু বলা হলেও সরকারি কাজে বাধা নামে মামলা দেয়া হবে। সামনে জাতীয় নির্বাচন কর্মকর্তারাও কাজের স্থানে তেমন ভাবে আসেনা। বিশেষ করে এজিং করার সময় পূর্বের পুরাতন ইট দেয়া হয়েছে বেশির ভাগ। আবার এজিং করার পর ভিজে মাটি ও খোয়া দেয়া হয়েছে রাস্তার ভিতর পারে এবং  বাহিরে শুধু মাটি ঘাস দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। যাকে বলে শুভংকরের মত ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। আবার রাস্তার অনেক জায়গা এত ভালো হয়ে আছে কোন কাজ করা লাগবে না। ৪১৪০ মিটার রিপিয়ারিং রাস্তার কাজের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এত পরিমান অনিয়ম হলেও দেখেও না দেখার ভান করছেন কাজের দায়িত্বে থাকা এসও শাহিনুর।

তিনি জানান, সকল নিয়ম মেনে কাজ করা হচ্ছে। তীল পরিমান অনিয়ম হয়নি। কাদা ভিজে মাটিও দেয়ার নিয়ম আছে কি জানতে চাইলে তিনি জানান, রাস্তায় যা থাকবে সবকিছু দিয়ে রোলার দিয়ে সমান করা হবে। কাজ চলছে আপনি কোথায় জানতে চাইলে তিনি জানান, কাজের জায়গায় কাজ হচ্ছে, কাজ হলেও থাকতে হবে কে বলেছে বলেও দাম্ভিকতা দেখান তিনি।  ঠিকাদার কামরুজ্জামান বলেন, সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। সচিব বা নির্বাহী প্রকৌশলী এসেও কাজের ভূল ধরতে পারবে না। রাস্তা উল্টানোর পর রোলার দিয়ে সমান করা হবে। তারপর নতুন খোয়া দিয়ে ডাবলু বিএম করে প্রাইম বোর্ড করার পর কার্পেটিং করা হবে। মাটি কাদা কেন জানতে চাইলে তিনি জানান সিডিউলে এভাবেই উল্লেখ আছে।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, একেবারে নিম্মমানের কাজ হচ্ছে। কাদা মাটি থাকার কারনে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা নষ্ট হয় বা ফাটল ধরে দেবে যায়। ইট, খোয়া বালু, পিচ,পাথর ও বিটুমিনের দাম বাড়তির অজুহাতে চলছে নিম্মমানের কাজ। রিপিয়ারিং কাজে কোন লোকসান নাই। সিডিউল অনুযায়ী কোন ঠিকাদার কাজ করেনা। তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তার বেহাল অবস্থা হত না। উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, কাজের স্থানে গিয়ে পরিদর্শন করে, নিম্মমানের সামগ্রী বা কাদা ভিজে মাটি ব্যবহার হলে পুনরায় কাজ করে নেয়া হবে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ বুঝে নেয়া হবে।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন