প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শিক্ষকদের বিরত থাকার আহ্বান জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের মতো নিন্দনীয় ও অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, কোনো শিক্ষক প্রশ্নফাঁস করলে তার দায় গোটা শিক্ষক সমাজের ওপর বর্তায়। পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বন্ধ হলেও দু-একজন শিক্ষকের মাধ্যমে এমন ঘটনা ঘটছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের নানা ধরনের দাবি রয়েছে। আমরা তাদের যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে সচেষ্ট রয়েছি। একজন শিক্ষকের আর্থিক-সামাজিক নিশ্চয়তা না থাকলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে তিনি মনোযোগী হবেন না। আমাদের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। সেগুলো মোকাবিলা করে শিক্ষকদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বন্ধ করা সম্ভব হলেও বর্তমানে দু-একজন শিক্ষক এ ধরনের নেক্কারজনক কাজে জড়িত হচ্ছেন। একজন শিক্ষক প্রশ্নফাঁস করলে তার দায় গোটা শিক্ষক সমাজের ওপর বর্তায়। কেউ কেউ তাদের শিক্ষার্থীকে আরও ভালো করাতে অনৈতিক কাজে যুক্ত হন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভালো শিক্ষার্থী মানে পাবলিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়া নয়, বরং ভালো মানুষ হিসেবে তাকে তৈরি করা। শিক্ষার্থীকে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা না দিতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষকরা আমাদের ভাবতে শেখাবেন, অনুপ্রেরণা দেবেন, আলোর দিশারী দেখাবেন। সেসব নিয়ে আমাদের সন্তানেরা আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত হবে। যিনি শেখাবেন তার সততা, আদর্শ, দর্শন ও সহমর্মিতা থাকতে হবে। আমাদের নতুন কারিকুলাম সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বাস্তবতার আলোকে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। কখনো কখনো শিক্ষার্থী চরম আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবনের শেষ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, হতাশা থেকে আমাদের কোনো কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। পরিবারে কোনো সন্তান হতাশাগ্রস্ত থাকলে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, শুধু কারিগরি বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা, মাদ্রাসা বা সাধারণ শিক্ষার খাত-এই মানসিকতার বাইরে এসে আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হবে। তাদের সব ধরনের বৃত্তি ও পেশাকে সম্মান করাটা শেখাতে হবে। শেখার মানসিকতা আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষভাবে ঢুকিয়ে দিতে হবে জানিয়ে উপমন্ত্রী বলেন, সেটার মাধ্যমে আগামী দিনের যোগ্য, দক্ষ নাগরিক তৈরি করতে হবে। তাকে যেন না শেখাই যে, ’লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে’। গাড়ি ঘোড়া চড়াই জীবনের লক্ষ্য নয়, এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন, ইতোমধ্যে আমাদের শিক্ষকরা সেই সফলতার পথে নিয়ে এসেছেন এবং আগামী দিনে অনেক দূর নিয়ে যাবেন। উপমন্ত্রী বলেন, আমাদের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের লিখতে পারা, বলতে পারা, গুনতে পারার দক্ষতা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সেটা সম্ভব হয়েছে আমাদের শিক্ষকদের কারণে। খুব নিদারুণ কষ্টের মধ্য দিয়ে ছাত্রদের পড়িয়েছেন। মাধ্যমিক শিক্ষায় আমরা অনেক দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে আছি। সেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের শিক্ষকদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং দক্ষতা। আমাদের শিক্ষকদের শিক্ষাঅর্জনের পথে থাকতে হবে, দক্ষতা অর্জনের পথে থাকতে হবে। সেজন্য আমাদের শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা অর্জন এবং সেগুলো শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠদানকালীন বাস্তবায়ন করতে হবে। এই নিষ্ঠা আমরা শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি। ‘শিক্ষক দিবস’ আগামীতে আরও উৎসবের সঙ্গে উদযাপন করা হবে জানিয়ে উপমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকের মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আশা করি তিনি আপনাদের সঙ্গে থাকবেন। মহিবুল হাসান চৌধুরী আরও বলেন, দীর্ঘ সময়ের পুঞ্জিভূত সমস্যা সমাধান করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে শিক্ষায় বিনিয়োগ করছেন, সেই বিনিয়োগের সুফল আমরা অবশ্যই পাবো। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দিক, রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দপ্তর সংস্থার প্রধান প্রমুখ।
