ফুলগাছে শোভা পাচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহৃত মাস্ক!
স্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও প্রাদুর্ভাব রোধ কল্পে দেশের সরকার সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মান্য সাপেক্ষে চলাফেরা করার যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেটি পরিপূর্ণভাবে পরিপালিত হলে স্পর্শকাতর ও অত্যন্ত ছোঁয়াছে ধাঁচের এই ভাইরাসটি তার সংক্রমণের পরিধির খুব একটা পরিসর ঘটাতে পারবে না বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টদের। নিয়মিত মাস্ক পরিধান করা ছাড়াও প্রত্যেক মানুষ শিষ্ঠাচার ও নিয়মনীতি মান্য সাপেক্ষে নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পারলে শুধু করোনাভাইরাসই নয় অন্যান্য ভাইরাস ও ছোয়াছে রোগবালাই থেকেও নিরাপদ থাকতে পারবে বলে মন্তব্য নগরীর সচেতন মহলের। কিন্তু কে শোনে কার কথা।
নিয়মানুযায়ী একটি মাস্ক একবার ব্যবহার করে (সর্বোচ্চ আট ঘন্টা) সেটি যত্রতত্র না ফেলে সুনির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিলে উক্ত ব্যবহৃত মাস্ক থেকে অন্যকারও সুরক্ষিত থাকতে পারবে। কারণ, ব্যবহৃত মাস্কটি যদি করোনা আক্রান্ত কোন ব্যক্তির হয়ে থাকে তবে সেটি থেকে স্পর্শের মাধ্যমে অন্যের শরীরেও উক্ত ভাইরাসটি সংক্রমিতহতে পারে। যার কারণে নগরীর জনবহুল ও পাবলিক প্লেসে ব্যবহৃত মাস্ক না ফেঁলে সেটি সুনির্দিষ্ট কোন স্থানে ফেলে দিলে উক্ত মাস্ক থেকে সংক্রমণের তেমন কোন ঝুঁকি থাকেনা বলেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নগরীর অনেকস্থানেই ব্যবহৃত মাস্কের দেখামেলে যত্রতত্র।
কখনোবা সেটি পড়ে থাকে পাবলিক প্লেসে, কখনোবা ব্যবহৃত মাস্কের দেখামেলে চা স্টলের পাশে। আবার কখনো কখনো দেখা মেলে দর্শনার্থী কোন স্থানে। এছাড়াও পথে ঘাটে, খেলারমাঠ, বাস ও অটোরিক্সা স্ট্যান্ডেও দেখা মেলে পড়ে থাকা ব্যবহৃত মাস্কের। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল অব্যবহৃত মাস্ক পড়ে থাকতে দেখাগেছে নগরীর কামারুজ্জামান চত্বরের শোভাবর্ধনকারী ফুলের বাগানের আশেপাশে। তারমধ্যে একটি ব্যবহৃত মাস্ক স্থান করে নিয়েছে একটি ফুল গাছের ডালে।
উক্ত স্থানটিতে প্রতিদেন আনাগোনা হয় হাজারো মানুষের। কেউ কেউ নিজের পরিবার নিয়ে বসে থাকেন বিনোদনের জন্যও। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধরাও এখানে আসেন দিনশেষে একটু বিনোদনের আশায়। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, একটি মাস্কে করোনাভাইরাস জীবিত থাকতে পারে আট ঘন্টার অধিক সময় ধরে। অর্থ্যাৎ উক্ত ব্যবহৃত মাস্কটি আট ঘন্টা ধরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বহন করতে সক্ষম।
অসচেতনভাবে কোন শিশু বাচ্চা বা কোন ব্যক্তি যদি উক্ত ব্যবহৃত মাস্কটি হাত দিয়ে ধরে ফেলে তবে সংক্রামিত হবার ঝুঁকি নিয়েই সে বাড়ি ফিরে যাবে সবার অগোচরেই। যার কারণে সাবধানতা অবলম্বন করার পাশাপাশি ব্যবহৃত মাস্ক যত্রতত্র না ফেলে সুনির্দিষ্ট কোন স্থানে ফেলে দিলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি নগরীর পরিচ্ছন্নতাও রক্ষা পাবে নাগরিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বলে মন্তব্য অনেকের।
