২৪ আগস্ট ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

বিপ্লব নয়, জুলাইয়ে ব্যবস্থা সংস্কারের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে : উপদেষ্টা স্বপন

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ | বিভাগ: lead
বিপ্লব নয়, জুলাইয়ে ব্যবস্থা সংস্কারের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে : উপদেষ্টা স্বপন
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে কোনো বিপ্লব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ছিল প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার ও মেরামতের জন্য সংঘটিত একটি গণঅভ্যুত্থান। তিনি বলেন, কোনো পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব হলে তার পেছনে একটি নির্দিষ্ট দর্শন, বিপ্লবী আদর্শ এবং সেই আদর্শ ধারণকারী রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্ব থাকে। এরপর বিপ্লবী পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন ধরনের সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে এমন কোনো বাস্তবতা ছিল না। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমাদের দল এবং আমাদের সরকার খুব স্পষ্টভাবে মনে করে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে প্রচলিত ব্যবস্থাকে সংস্কার করার জন্য, মেরামত করার জন্য। কোনোভাবেই এখানে কোনো বিপ্লব সম্পন্ন হয়নি। তিনি বলেন, বিপ্লব ও সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো এক ধরনের চিন্তাগত অস্পষ্টতা রয়েছে। জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহকে কে কোন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখছেন, সে বিষয়ে স্পষ্টতা না থাকলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়ায় ঐকমত্য গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে। স্বপন বলেন, কেউ যদি এখনো ৫ আগস্টের বিকেলের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে নানা কল্পনায় বিভোর থাকেন, তাহলে রাষ্ট্র গঠনের এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ঐকমত্য তৈরির কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, একজন যদি ঘটনাকে বিপ্লবের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন এবং অন্যজন যদি সংস্কারের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন, তাহলে কোন বিষয়টি গ্রহণ করা হবে, কোনটি বাদ দেওয়া হবে এবং কোনটি আপাতত স্থগিত রাখা হবে; এসব প্রশ্নে মতৈক্যে পৌঁছানো কঠিন হবে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের মতো জটিল কাজ টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমান্তরাল দৃষ্টিভঙ্গি ও ন্যূনতম ঐকমত্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, সবাই মিলে কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক, কোনটা বাদ দেব, কোনটাকে গ্রহণ করব এবং কোনটাকে আপাতত স্থগিত রাখব, সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে একটি সুস্থ ও টেকসই প্রক্রিয়ার প্রয়োজন। জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, জুলাই সনদসহ চলমান রাজনৈতিক ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে মতভেদ থাকলেও আলোচনা ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের কাজ কাউকে পরাজিত করা নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা। এ জন্য সব রাজনৈতিক শক্তি, অংশীজন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন। এনগেজমেন্ট, এনগেজমেন্ট, এনগেজমেন্টÑগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় পারস্পরিক সম্পৃক্ততা এবং সুস্থ আলোচনা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। সময় লাগতে পারে, ধৈর্যের ওপর চাপ আসতে পারে; কিন্তু কখনোই হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না, বলেন প্রধানমন্ত্রী এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য তৈরি ছাড়া এই সংস্কারের যাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত শেষ প্রান্তে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই ভিন্নমত ও সমালোচনাকে পরস্পরকে পরাজিত করার হাতিয়ার না বানিয়ে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের পথে এগিয়ে যেতে হবে। সিজিএস সভাপতি জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. আহমদ আব্দুল কাদের এবং সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হোসেন প্রমুখ।-এফএনএস

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন