স্টাফ রিপোর্টার, লালপুর : নাটোরের লালপুরে পাখি শিকারে নিষেধ করায় রিপন কাজী (৩৫) নামের এক যুবককে গুলি করেছে তিন পাখি শিকারি। রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের কলসনগর কাজীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় রিপনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। আহত রিপনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য এম. এ. রশিদ।
ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে তিন যুবককে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন উপজেলার কদিমচিলান ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে মো. জাহিদ হাসান (২৯), মোঃ একরাম আলীর ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম (৩২) ও মো. আব্দুল জলিল সরদারের ছেলে সামাউল সরদার (৩০)।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে রিপনের বাড়ির পাশে এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করছিলেন কদিমচিলান ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের তিন যুবক জাহিদ হাসান, আশরাফুল ইসলাম ও সামাউল সরদার। এ সময় রিপন পাখি শিকার বন্ধ করতে বললে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জাহিদ হাসান তার হাতে থাকা এয়ারগান দিয়ে রিপনের পেটে গুলি করেন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুনজুর রহমান বলেন, রিপনের পেটে গুলি লেগেছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে রামেকে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়রা তিন যুবককে গণপিটুনি দিয়ে আটক করে রেখেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে ওই তিন যুবককে উদ্ধার করে করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা একটি মোটরসাইকেল, এয়ারগান ও শিকার করা পাখি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে। বন্যপ্রাণী শিকারের বিষয়টি অবহিত করলে উপজেলা বন কর্মকর্তা এ.বি.এম. আব্দুল্লাহ বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হবে।