৩০ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

পবায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত

প্রকাশিত: ৪ জুন ২০২৫, ৯:২৩ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
পবায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : “কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যায় ছায়ায় গড়ি প্লাষ্টিকমুক্ত জীবন-কৃষি” স্লোগানে রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজ (বারসিক) এর আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে বিলনেপালপাড়া কৃষিপ্রতিবেশ শিখন কেন্দ্রে “প্লাষ্টিকমুক্ত কৃষি উপকরণ মেলা” অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কৃষক-কৃষাণী, শিক্ষার্থী, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহনে র‌্যালী ও আলোচনা সভা শেষে সদস্যদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ করা হয়। এসময় অতিথিরা মেলায় কৃষি উপকরণ প্রদর্শনীগুলো ঘুরে দেখেন ও সেগুলো কি কাজে ব্যবহার করা হয় সে সম্পর্কে অবহিত হন। বুধবার (৪ জুন) সকালে বিলনেপাপাড়া চাষী রহিম বখ্শ একাডেমি মাঠ সংলগ্ন আম বাগানে মেলায় প্লাষ্টিকমুক্ত কৃষি উপকরণ মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী গবেষক শহিদুল ইসলাম। বিলনেপালপাড়া কৃষিপ্রতিবেশ শিখন কেন্দ্রের সভাপতি সুলতানা খাতুনের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন বারসিক কর্মসূচি কর্মকর্তা অমৃত সরকার, কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ, কৃষক আফসার আলী, কৃষক জিয়াউর রহমান সহ কৃষক-কৃষাণী, শিক্ষার্থী, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় মেলায় দেশীয় তৈরী কৃষি উপকরণ গরুর গাড়ী, লাঙ্গল, মই, কোদাল, দা, কোড়াল, বটি, হাঁসুয়া, কাস্তে, দাঁড়িপাল্লা, ডালি, ঝাকা, মাথাল, খলসুন, পলই, টোকা, কাতা, সেউতি, সামাজি, ঠুসি, টুকরা, চালন, কুলা, বেলনা, ঘুটনি, পাখা, মাচা, দাউলি, যাতা, সাবল, হাতুড়ি, ভুসা, গুমাই, আকা সহ বিভিন্ন কৃষি ও পাবিবারিক ব্যবহারকৃত নিত্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ প্রদর্শন করেন কৃষকরা। বারসিক রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী গবেষক শহিদুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিক পন্য নিয়মিত ব্যবহারের ফলে মানুষের শরীরে বিভিন্ন জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। প্লাস্টিক বর্জ্য সকল প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য সংগ্রহের স্থান ও উদ্ভিদের খাদ্য গ্রহণের পথে বাধার সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র উদ্ভিদ বা জলজ প্রাণী নয়, প্লাস্টিক দূষণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকলে আগামী প্রজন্ম সুস্থভাবে বাঁচতে পারবে। পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারে রান্না থেকে শুরু করে কৃষি কাজে ব্যবহার্য বিভিন্ন জিনিসপত্র প্লাস্টিকমুক্ত রাখতে হবে। এসময় উপস্থিত সকলে পরিবার প্লাস্টিকমুক্ত রাখার অঙ্গীকার করেন। বিলনেপালপাড়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম বলেন, বাঁশ, বেত দিয়ে তৈরী পন্য নষ্ট হলে তা পচে মাটির সাথে মিশে যায় এবং মাটিকে উর্বর করে। কিন্তু প্লাস্টিক পচে না বরং প্রকৃতি ও পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করে। প্রকৃতি ও পরিবেশ থেকে নানা উপাদান গ্রহণ করেই আমরা বেঁচে থাকি। প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। প্রকৃতি ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হতে হবে। এসময় তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন