৩১ অক্টোবর ২০২৬
বিজ্ঞাপন
Amader Rajshahi

২২ বছর পর পবা উপজেলা শিক্ষক সমিতির বাড়ী উদ্ধার

প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৫, ৯:৩১ অপরাহ্ণ | বিভাগ: রাজশাহী
২২ বছর পর পবা উপজেলা শিক্ষক সমিতির বাড়ী উদ্ধার
বিজ্ঞাপন

স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে দীর্ঘ ২২ বছর পর বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি পবা উপজেলা রাজশাহীর বাড়ীটি উদ্ধার করা হয়েছে। শিক্ষক সমিতির অফিস রাজশাহী সদরের ১ নম্বর সেক্টরের ৩১৫-বি নম্বর ১৩৯ স্কয়ার ফিটের বাড়ীটি উপশহর হাউজিং এলাকায় অবস্থিত। শনিবার (১০ মে) বিকেলে আুবুল কালাম আজাদ একটি ট্রাকে করে বাড়ির আসবাপত্র নিয়ে চলে যায় এবং বাড়িটি ফাঁকা করে পবা উপজেলা শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিদের হাতে বুঝিয়ে দেয়। শিক্ষকদের মাধ্যমে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে সাঈদ খানের কাছ থেকে শিক্ষক সমিতি হাউজিং স্টেট বি-৩১৫ এর বাড়িটি ক্রয় করেন। প্রথম অবস্থায় বাড়িটি অফিস হিসাবে ব্যবহার হলেও পরবর্তীতে বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয় আবুল কালাম আজাদ এর কাছে। তিনি বিভিন্ন সময়আগ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কিছুদিন পর বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পর পরে বন্ধ করে দেন। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসলে শিক্ষকেরা বাড়িটি উদ্ধারে চেষ্টা চালান।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি পবা উপজেলার শাখার সভাপতি খালেদা বানু বলেন, আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন সময় বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও টালবাহানা করে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। আমরা সকল শিক্ষকগন প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বাড়িটি উদ্ধারে আলোচনা করেছি। অবশেষে প্রায় ২২ বছর পর পবা উপজেলা, রাজশাহীর প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বাড়ি উদ্ধার হলো। এখন আমরা সমিতির কার্যক্রম এই বাড়ি থেকে পরিচালনা করতে পারবো। বাড়িটি ফিরে পেয়ে আমরা অনেক খুশি।”
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পবা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: হারুন অর রশিদ বলেন, আর কোন অরাজকতা দেখতে চাই না, তিনি অন্যায়ভাবে শিক্ষক সমিতির বাড়ি দখল করে ছিলেন। আমরা বারবার তাকে অনুরোধ করেছি বাড়িটি ছেড়ে দিতে। বাড়িটি ১৯৯৭ সালে তিনি ভাড়া নিয়েছিল।পরবর্তীতে কয়েক বছর ভাড়া প্রদান করেছিল, কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে আর ভাড়া পরিশোধ করতো না। তিনি বিভিন্ন নেতাদের সহযোগিতায় বাড়িটি দীর্ঘদিন দখল করে ছিলেন। আজ আমরা সকলের ঐক্য প্রচেষ্টায় বাড়ীটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
শিক্ষক সমিতির সহ সভাপতি মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেদখলকৃত বাড়িটি উদ্ধার হওয়ার ক্ষেত্রে পবা উপজেলার সকল শিক্ষকের অবদান রয়েছে। আমরা মনে করি তাই বাড়িটি রক্ষণাবেক্ষণে সক্রিয় ভুমিকা পালন করবো। আর একটি কথা না বললে নয় যে সমস্ত শিক্ষকের অবদানে আজকের এই বাড়িটি ক্রয় করা হয়েছিল তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
শিক্ষক সমিতির কার্যকর সাধারণ সম্পাদক শামিম হোসেন বলেন, ধনবাদ জানাই এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, সহ সম্পাদক ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক, জাতীয় নির্বাহী কমিটি বিএনপি। উনার হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন পর বেদখলকৃত বাড়িটি পুনরুদ্ধার হল। তিনি আমাদের বাড়িটি উদ্ধারে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন। এইসময় উপস্থিত ছিলেন পবা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সদস্য এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

পাঠকদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন