সোমবার

৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ
বিএমডিএ’র ৮৬তম পরিচালনা বোর্ড সভা নতুন সরকারের অধিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী নগরী গড়তে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে : রিটন রাজশাহীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঘুঘুর বাচ্চা আনতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক কিশোর দেশের ৬৫ শতাংশ গ্রাহক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকছেন : তথ্যমন্ত্রী বিশ্বে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি হল ভ্যাকসিন, মানবদেহে সফল পরীক্ষা বাগমারার তাহেরপুর হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাবনায় নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে : শিল্পমন্ত্রী নওগাঁ সীমান্তে বিএসএফ’র পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিলো বিজিবি

নতুন সভ্যতা গড়তে তরুণদের উদ্যোক্তা হতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

Paris
Update : বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫

চাকরির পেছনে না ঘুরে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নতুন সভ্যতা গড়তে চাকরির পেছনে না ঘুরে তরুণদের উদ্যোক্তা হতে হবে। বৃহস্পতিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেলে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক ইয়ুথ জেনারেশন ফোরামের কনফারেন্সে বক্তৃতায় অধ্যাপক ইউনূস এ কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তরুণরা চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। দেশ বদলাতে চাইলে পরিচালনার পদ্ধতি বদলাতে হবে। বিশ্বকে পরিবর্তন করতে হলে আগে নিজের গ্রাম থেকে পরিবর্তন শুরু করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গরিব মানুষের কর্মসংস্থান দরকার, টাকার না। কিন্তু অন্যরা বললো অর্থ চাকরির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি বলতে শুরু করলাম ঋণ একজনের মানবাধিকার। তখন বলা শুরু করলো, ব্যাংকের ঋণের সঙ্গে মানবাধিকারের সম্পর্ক কী। একজন মানুষের আশ্রয়ের জন্য, জীবনে চলার জন্য ঋণ প্রাপ্তি মানবাধিকারের মধ্যে পড়ে। তখন আমি ভাবলাম যদি ব্যাংক ঋণ না দেয় তাহলে আমি কেন তাদের জন্য নিজের ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করছি না। ১ ডলার ঋণ দিয়ে শুরু করে আমি নিজের ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করলাম। অনেক সময় লাগলো, কিন্তু অবশেষে আমি গ্রামের মানুষের জন্য একটা ব্যাংক তৈরি করতে পেরেছি। সেটা হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেকে এটি আমার প্রথম মিটিং। আর এই মিটিংয়ের শুরুটাই হয়েছে তরুণদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। আমি তরুণদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার চেষ্টা করি এবং তা আমাকে তরুণদের চোখে দেখা পথে চলতে সহায়তা করে। সেজন্য বিমসটেকে আমার যাত্রা তরুণদের মাধ্যমে শুরু হওয়ায় আমি আনন্দিত। ভূমিকম্পে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই ঘটনা আমাদের মানুষকে রক্ষা করার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে তুলে ধরে। প্রকৃতির এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ সম্পর্কে আমরা এখনও আগে থেকে জানতে পারি না। প্রকৃতিকে বোঝার চেষ্টায় এবং মানুষকে রক্ষায় আমাদের এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। বাংলাদেশও ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে আছে। সৌভাগ্যবশত আমাদের এখনও এই ধরনের ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হতে হয়নি। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমি ১৯৭২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ফিরে যাই। নতুন একটি দেশে নিজের ভাবনার মতো করে তৈরি করার ইচ্ছায় এবং স্বাধীনতার উচ্ছ্বাসে আমি চেষ্টা করছিলাম জানতে, আমি কী করতে পারি দেশের জন্য। কিন্তু খুব দ্রুত নতুন দেশ গড়ার যে উচ্ছ্বাস ছিল সেটি গায়েব হয়ে গেলো। কারণ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ডামাডোলে অনেক গভীরে ডুবে যাচ্ছিল। ১৯৭৪ সালের দিকে বাংলাদেশ অনেক বড় ধরনের দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে গেল। আমরা সেই সম্পর্কে বিভিন্ন বইয়ে পড়েছি। কিন্তু এমন দুর্ভিক্ষ আর কখনও বাস্তবে দেখা যায়নি। আপনারা রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন, তারা কোনও রোগে কিংবা করোনার মতো মহামারিতে মারা যায়নি, দুমুঠো ভাতের জন্য মারা গেছে। আমি তখন তরুণ ছিলাম, শিক্ষকতা করতাম, কিছু করতে চাইতাম, কিন্তু জানতাম না কোথা থেকে শুরু করতে হবে। ছোট ছোট উদ্যোগ নিলাম, কিন্তু কাজে এলো না। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, পুরো বাংলাদেশের জন্য কাজ করা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি একজন ক্ষুদ্র মানব, আমার পক্ষে পুরো বাংলাদেশের জন্য কাজ করা সম্ভব না। তবে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কাছেই থাকা গ্রামের জন্য কাজ করতে পারি। আমি আমার বাংলাদেশ হিসেবে ওই গ্রামকে বেছে নিলাম। এই গ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবো, যাতে তারা ক্ষুধার যন্ত্রণা থেকে দূরে থাকে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমি সারা জীবন চেষ্টা করেছি গ্রামে এমন ধরনের কাজ করতে। একসময় মনে হলো গ্রামও আমার জন্য অনেক বড় বিষয় হয়ে যায়। আমি পুরো গ্রামের জন্য একা কিছু করতে পারবো না। তাই আমি একজন একজন করে কাজ করা শুরু করলাম। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করলাম। তাদের স্থানীয় ভাষা আমার জানা ছিল বলেই কথা বলতে অসুবিধা হয়নি। আমি একজন নারীর সঙ্গে দেখা করলাম, তিনি ঋণ শোধ করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলেন। তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন, কিন্তু তার সেই কাজের ফসল ঋণ শোধের পেছনেই চলে গেছে। কারণ ঋণদাতা তার কাছ থেকে নিজেদের নির্ধারণ করা মূল্যেই তার ফসল নিয়ে যেতো। আমি তাকে বললাম, আমি যদি অল্প কিছু অর্থ দেই তাহলে সে কি তার পণ্য বাজারে বিক্রি করতে পারবে? বাজার সম্পর্কে তার কোনও ধারণাই ছিল না। তিনি বললেন চেষ্টা করে দেখতে পারি। সেটি আমার দেওয়া প্রথম ঋণ ছিল। এটি তাকে অন্যভাবে চিন্তা করার সুযোগ দিলো। সামান্য ঋণ একজনের জীবনে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আমার ক্যাম্পাসের কাছের একটা ব্যাংকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, গ্রামের এই গরিব মানুষকে ঋণ দিচ্ছেন না কেন। আমার কথা শুনে তিনি আকাশ থেকে পড়লেন এবং বললেন গরিব মানুষকে আমাদের ব্যাংক ঋণ দেয় না। আমি বললাম, আপনার ব্যাংকিং সিস্টেম পুরোই ভুল। ভুল নীতির ওপর ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আপনাদের মূলনীতি হচ্ছে যাদের যত বেশি আছে তাদের আরও বেশি দেওয়া। বিষয়টি এটার বিপরীত হওয়া উচিত ছিল। যাদের কিছুই নাই তাদের কাছে সবার আগে ব্যাংকের যাওয়া উচিত ছিল। আপনারা সেটি করেন না। সেই পুরনো মূলনীতিই এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে। সমাজকে পরিবর্তন করার যে উদ্দেশ সেটি সেখানেই আটকে আছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অল্প অল্প অর্থ ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে দিলে সেটি দ্রুত ফেরত আসে এবং বারবার দেওয়া যায়। সেই একই অর্থ বারবার ব্যবহার করা যায়। দান করা অর্থ একবারেই যায়, সেটি আর ফেরত আসে না। একই অর্থ যদি আমি ঋণ হিসেবে দেই, তার সঙ্গে অপারেশনাল খরচ যুক্ত করে ফেরত নিয়ে আসা যায় এবং এটি বারবার করা যায় এবং বিস্তৃতভাবে করা যায়। লাখ লাখ মানুষের কাছে এই সেবা পৌঁছানো যায়। থাইল্যান্ডে বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধান উপদেষ্টা। দুপুর ১২টার দিকে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। সেখানে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান দেশটির মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই। আজ শুক্রবার অনুষ্ঠেয় বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ড. ইউনূস ভারতসহ এ জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।-এফএনএস


আরোও অন্যান্য খবর
Paris