রাজশাহীর ১৭নং ওয়ার্ডে সরকারি জমি দখলপূর্বক বিক্রির অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মহানগরীর ১৭নং ওয়ার্ডে অন্যের লিজ নেয়া সরকারি খাস জমি অস্ত্রেরমুখে জোড়পূর্বক দখল ও বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। শাহমখদুম থানাধীন বড়বনগ্রাম কুচপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে। বিএনপি’র কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। নগরীর বড়বুনগ্রাম এলাকায় মৃত্য: মুসলেম শেখের পুত্র জুলহাস উদ্দিন(৪৫) রাজশাহী বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অদালতে ২৪ অক্টোবর ২০২৪ ইং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারারয় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১১৩১পি/২০২৪ (শাহমুখদুম)। মামলার আসামীরা হলেন, একই এলাকার সুভান আলীর ছেলে আমজাদ আলী ও আজাদ আলী, মখসেদ আলীর ছেলে সাদেরুল ও সাকিব, নেসার উদ্দিনের ছেলে সেলিম, এসার উদ্দিনের ছেলে শফি ও পালানের ছেলে ইনছার আলী।
মাম সন্ত্রাসী কায়দায় জোর পূর্বক জমির উপর বাসের ঝাড় ও অন্যান্য ফসলাদি কেটে ফেলে ঘর নির্মাণ করনে। উক্ত জমিতে ঘর নির্মাণ করে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রয় করছে।
ভুক্তভোগী জুলহাস উদ্দিন জানান, তার পিতা মুসলেম শেখ পত্তনী মূলে জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে অনুমোদনক্রমে ১৯৭৮ সালে ১৫ ফ্রেবুয়ারি ৬১৭৮/৭৮ নং কবুলিয়াত দলির মূলে উক্ত খাস জমি রেজিষ্ট্রি সম্পাদিত করে। উক্ত দলিল মূলে মোখলেম শেখ খারিজ অন্তে খাজনা প্রদান করে ভোগ দখল করে আসছে। মুসলেম উদ্দিনের মৃত্যুর পর ঐ সম্পত্তি ওয়ারিশ সূত্রে পায় তার স্ত্রী, তিন জেলে ও ২ কন্যা। উপরে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা ২৩ শে অক্টোবর ২৪ ইং সকাল ১১ টায় বাসের লাঠি, রড, কুড়ালসহ দেশীও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত জমির উপর অবৈধ অনুপ্রবেশ করে। এবং জমিতে থাকা বাঁশ ঝাড়, কলা গাছ ও ফসলাদি কেটে ফেলে। জবর দখলপূর্বক সেখানে ঘর নিমার্ণের অভিযোগে জুলহাস উদ্দিন বাদি হয়ে গত ২৭ শে অক্টোবর আরোও একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অদালত রাজশাহী অস্থায়ী অন্তর্বর্তীকালিন নিষেধধাজ্ঞা জারি করেন এবং অনুলিপিতে শাহমুখদুম থানার ওসি কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা দফায় দফায় জমি দখল, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছে অভিযুক্তরা। বাদী পক্ষ জুলহাস উদ্দিন রাজশাহী বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অদালত- ১ এ ১০৭ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেণ।
বিএনপি’র ওয়ার্ড ও থানা কমিটি ঘোষণার পর থেকে অন্যদের মতো অভিযুক্তরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। শুধু সরকারি জমি দখল ও বিক্রিতেই এরা সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং সরকারি জায়গায় দোকান করে সেটি লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করারও অভিযোগ উঠেছে অনেকের নামে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানাগেছে মামলার দ্বিতীয় আসামী আজাদ আলী ১৭নং ওয়ার্ড (পূর্ব) বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, আসামী সেলিম বিএনপির কর্মী, পশ্চিমের আহবায়ক বাবু। উক্ত সরকারি জায়গা দখল ও বিক্রির টাকা পকেটে পুরেছেন ১৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি (পূর্ব)’র সদস্য সচিব হারান বলেও অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে। এই টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মী জানান, দুই হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিশ-পঞ্চাশ হাজার পেরিয়ে কোন কোন নেতা কয়েক লাখ টাকার ভাগ পেয়েছে। টাকার ভাগাভাগি নিয়েও দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে রেষারেষি বলে জানান স্থানীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাহমখদুম থানা ও ওয়ার্ড বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী জানান, ৫ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে এখন অবদি এইসকল নেতা-কর্মীরা সমস্ত ওয়ার্ডজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। যে যেভাবে পারছে দখল ও চাদাবাজি করে নিজেদের পকেট ভারি করছে। এইসকল অসরাধমূলক কর্মকান্ডের জন্য দলের ভাবমুর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য স্থানীয় নেতাদের।
