স্টাফ রিপোর্টার : গত দুই মাস ধরে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপে চলছে চরম অস্থিরতা। কার্যালয় ও পদ পদবীকে কেন্দ্র করে কয়েকমাস ধরে চলমান উত্তেজনায় আহত-ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের মতোও ঘটনা ঘটেছে। তারই ধারাবহিকতায় গত ১৬ অক্টোবর রাজশাহী সড়ক পরিবহনের দুই গ্রুপের মধ্যে আবারো উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। শুরু হয় হাতাহাতি-মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। আহত হন অনেকেই। অতঃপর বিষয়টি যায় মামলা মোকদ্দমায়। অবশেষে ন্যায় বিচারের দাবিতে আজ শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে একপক্ষ। দেশের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর গত ৯ আগস্ট রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এমন পরিস্থিতির।
গত বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সড়ক পরিবহনের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের কার্যালয়ে বর্তমান কমিটির নেতারা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, সাধারণ মালিকদের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি ১৬ অক্টোবর দুপুরে কয়েকজন মালিক ও শ্রমিক কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসকের নিকট দাখিল করতে গেলে আওয়ামী নেতা মমিন, গৌতম মোহন চৌধুরী রাকেশ, মাইনুল হক হারু, সাবেক কাউন্সিলর মিলু, রজব আলী, আসাদুজ্জামান আসাদ, জাহাঙ্গীর আলম,অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস সান্টু, ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী তুলিপ, মাজদার আলীসহ আরও কয়েকজন আমাকে এবং শ্রমীক ইউনিয়নের কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন কাক্কুসহ আরও কয়েকজন নেতৃবৃন্দকে ব্যাপকভাবে মারপিট করে আহত করেন। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আমরা রাজপাড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি আবগত করি। গত ১৭-১০-২০২৪ ইং তারিখে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় একটি মামলা করেন। যার মামলা নং: ১৪। মামলাতে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

নজরুল ইসলাম হেলাল আরও বলেন, আমাদের উপর যারা হামলা করেছে তারা অতীতের স্বৈরাচারী সরকারের দোসর । বর্তমান সরকারকে চাপে রাখতে ও পরিবহন সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে মালিক শ্রমিক ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে।
বুধবার (১৬ অক্টোবর ) দুপুরে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের একপক্ষের সদস্যরা প্রসাশক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধনে দাঁড়ান। এসময় দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পরিবহন নেতা রাকেশ গ্রুপের সদস্যরা সড়ক পরিবহনের বর্তমান কমিটি প্রত্যাখ্যান করে দুপুরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই বর্তমান কমিটি অর্থাৎ হেলাল গ্রুপের নেতারা ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য আলমাস খান গনমাধ্যমে কর্মীদের বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রশাসক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচির উদ্দেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সামনে দাঁড়ালে তাঁরা আমাদের উপর হামলা চালায়। তাঁরা অবৈধভাবে সড়ক পরিবহন গ্রুপের অফিস দখল নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা চাই এখানে প্রশাসক নিয়োগ করা হোক। এরপর একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিতরা সড়ক পরিবহণের দায়িত্ব নিবে। কোনো অবৈধ প্রতিনিধি আমরা মানবো না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মালিক পক্ষ ও শ্রমিকদের একাংশ বলেন, পরিবহন গ্রুপের পদপদবী আর নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা এখন উর্দ্ধমুখী। ভেবে ছিলাম ৯ আগস্টের পর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন দেখছি বিষয়টি দিনদিন আরো জটিল হচ্ছে।